
সিটি স্ক্যান বিভাগের নির্জনতায় স্যানিটাইজারের গন্ধ আর একঘেয়ে মেশিনের আওয়াজের মাঝে অপেক্ষা করছিলেন এক বৃদ্ধা। হুইলচেয়ারে বসা এই ভদ্রমহিলার পরনে ছিল মেরুন রঙের স্কার্ট, কানে পাই আকৃতির দুল এবং খোঁপায় অগোছালো সাজ। তাঁর পাশে রাখা একটি উজ্জ্বল নীল রঙের বড় স্যুটকেস, যার গায়ে অস্পষ্টভাবে লেখা ‘e appy’ এবং হ্যান্ডেলে ঝোলানো একটি প্যাডিংটন পুতুল। ট্রলিতে অচেতন অবস্থায় থাকা এক ব্যক্তির সাথে তিনি সেখানে এসেছেন।
সেই রুমে উপস্থিত অন্য এক ব্যক্তির সাথে আলাপচারিতায় উঠে এল হাসপাতালের নিত্যদিনের রুটিন। বৃদ্ধা জানালেন, সিটি স্ক্যানের ইনজেকশন নেওয়ার সময় অস্বস্তি হয়, যা শুনে অন্যজন তাকে প্যাড ব্যবহারের পরামর্শ দিলেন। নার্স লিডিয়া যখন তাকে নিতে এলেন, তখন জানা গেল বড়দিনেও তাদের বাসায় ফেরা হচ্ছে না। হাসপাতালের স্টাফ হেনরি নামের একটি বিড়ালকে কোণায় ঘুমাতে দেখা গেল।
কথা বলার সময় বৃদ্ধা তাঁর স্বামীর পছন্দের খাবার এবং পায়রাদের খাবার দিয়ে দেওয়ার প্রসঙ্গ টানলেন। তিনি জানালেন, স্ক্যান রিপোর্ট নরমাল হলে হয়তো আজ তাকে হাসপাতাল থেকে ছেড়ে দেওয়া হবে। নার্স লিডিয়া হুইলচেয়ারের লক খুলে তাকে ভেতরে নিয়ে যাওয়ার পর রুমটি আরও ফাঁকা হয়ে গেল। জানালার বাইরে আরেকটি অ্যাম্বুলেন্স এসে থামল, আর মনিটরের সবুজ দাগগুলো তখনও ওঠানামা করছিল।
আপনার মতামত লিখুন :