Facebook Twitter Instagram YouTube

নিখোঁজ জেলের বেদনা নিয়ে শফিকুল ইসলাম খোকনের কবিতা


প্রকাশের সময় : জুলাই ৯, ২০২৬, ৪:১৬ অপরাহ্ণ /
নিখোঁজ জেলের বেদনা নিয়ে শফিকুল ইসলাম খোকনের কবিতা

জীবিকার সন্ধানে প্রতিদিন হাজারো জেলে উত্তাল সাগরে পাড়ি জমান। কিন্তু বৈরী আবহাওয়া, ঘূর্ণিঝড় এবং উত্তাল ঢেউয়ের কবলে পড়ে অনেকেই আর ঘরে ফিরে আসতে পারেন না। প্রিয়জনদের ফেরার প্রতীক্ষায় বছরের পর বছর কেটে যায়, কিন্তু সেই অপেক্ষার যেন শেষ হয় না। নিখোঁজ জেলেদের এই না-ফেরার বেদনা, স্বজনহারাদের চোখের জল এবং সন্তানের করা অনন্ত প্রশ্নের উত্তরহীনতাকে শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করে কবি শফিকুল ইসলাম খোকন রচনা করেছেন ‘নিখোঁজ জেলে, তীরের আর্তনাদ’ কবিতাটি।

কবিতায় ফুটে উঠেছে সেই দৃশ্য, যেখানে ভোরের আলোয় জাল ও স্বপ্ন হাতে নিয়ে জেলেরা সাগরে যাত্রা শুরু করে। যাওয়ার সময় প্রিয়জনকে বলেছিল তারা ফিরে আসবে সন্ধ্যার নরম প্রাতে। কিন্তু হঠাৎ আসা ঝড়ে আকাশ কালো হয়ে যায় এবং ঢেউয়ের তোড়ে হারিয়ে যায় একটি জীবনের নিঃশ্বাস। প্রিয় মানুষটি নিখোঁজ হওয়ার পর ঘাটের ধারে অশ্রুধার শুকিয়ে যায়, তবুও প্রতীক্ষা শেষ হয় না। ঘরে বসে মা কাঁদেন, স্ত্রী বারবার ডাকেন, আর শিশুর চোখে ভাসে প্রশ্ন—বাবা কোথায় গেল? এই উত্তরহীন নীরবতায় বুক জ্বলে ওঠে স্বজনদের।

সাগর কেন এত স্বপ্ন একসাথে কেড়ে নিল—এই প্রশ্নই বারবার ঘুরে ফিরে আসে। জীবিকার সন্ধানে গিয়ে যারা হারিয়ে গেছে, তাদের জন্য আজও মন আশা খোঁজে। ঢেউয়ের মাঝে হয়তো কোনোদিন ফিরে আসবে হারিয়ে যাওয়া জীবন—এমন আশায় বুক বাঁধেন স্বজনেরা। ঢেউয়ের ভাঁজে ভাঁজে তারা আপনজনদের খুঁজে ফেরেন, নোনা জলে ভিজে চোখে জেগে থাকে হারানোর স্মৃতি। দিগন্তজোড়া নীলের বুকে প্রিয়জনের কোনো ছায়া না থাকলেও, ঢেউয়ের প্রতিটি রেখায় তারা পুরোনো মায়া খুঁজে পেতে চান।

কেউ নাম ধরে ডাকে, কেউবা চুপচাপ তাকিয়ে রয়, সাগরের উত্তরহীন নীরবতা যেন আরও বেশি কষ্ট দেয়। নৌকা ঘাটে ভিড়ে, মানুষ ফিরে আসে, শুধু কিছু শূন্য হাত আঁধারে থেকে যায়। ঢেউয়ের শব্দে ভেসে আসে অজানা ব্যথার সুর, যেন স্বজনহারা বুকের ভেতর বিরহপুর বাজে। তবুও কেউ আশা ছাড়ে না, চোখে আলোর রেখা নিয়ে অপেক্ষায় থাকে—হয়তো কোনো এক ভোরে সে ফিরে আসবে। সাগরের গভীর ডাকে এই অবিরাম খুঁজে ফেরা আর ঢেউয়ের মাঝে হারানো প্রাণের প্রতিচ্ছবি খোঁজার মাধ্যমেই স্বজনেরা তাদের বিরহের বহিঃপ্রকাশ ঘটান।