
দেশে ক্রেডিট কার্ড ব্যবহারের প্রবণতা ক্রমাগত ঊর্ধ্বমুখী। বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ পরিসংখ্যান অনুযায়ী, চলতি বছরের মে মাসে ক্রেডিট কার্ডের মাধ্যমে মোট ৪ হাজার ২৮৮ কোটি টাকার লেনদেন হয়েছে। আগের মাস এপ্রিলের তুলনায় এই খরচের পরিমাণ প্রায় ১১ শতাংশ বেশি। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, এপ্রিল মাসে লেনদেনের পরিমাণ ছিল ৩ হাজার ৮৬৮ কোটি টাকা, যা থেকে মে মাসে ১০ দশমিক ৮৫ শতাংশ প্রবৃদ্ধি হয়েছে।
বছরভিত্তিক তুলনামূলক বিশ্লেষণেও ক্রেডিট কার্ডের ব্যবহারে বড় ধরনের উল্লম্ফন দেখা গেছে। গত বছরের মে মাসে লেনদেনের পরিমাণ ছিল ৩ হাজার ২২০ কোটি টাকা। সেই হিসেবে এক বছরের ব্যবধানে এই ব্যয় বেড়েছে ৩৩ দশমিক ১৫ শতাংশ। বাংলাদেশ ব্যাংকের পর্যবেক্ষণে উঠে এসেছে যে, উচ্চ মূল্যস্ফীতির চাপ থাকা সত্ত্বেও ভোক্তারা নিয়মিত খুচরা কেনাকাটায় ক্রেডিট কার্ডের ওপর আস্থা রাখছেন। বিশেষ করে ডিপার্টমেন্টাল স্টোরগুলোতে কার্ডের ব্যবহার সবচেয়ে বেশি, যেখানে মে মাসের মোট লেনদেনের প্রায় অর্ধেক সম্পন্ন হয়েছে।
ক্রেডিট কার্ডে লেনদেন বাড়ার পেছনে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম বৃদ্ধি, ব্যাংকগুলোর আকর্ষণীয় ক্যাশব্যাক ও ডিসকাউন্ট অফার, কার্ড ব্যবহারের সহজলভ্যতা এবং বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে কার্ড গ্রহণের হার বৃদ্ধিকে প্রধান কারণ হিসেবে চিহ্নিত করেছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। মে মাস শেষে দেশে ক্রেডিট কার্ডের মোট অনুমোদিত ঋণসীমা দাঁড়িয়েছে ৪২ হাজার ১ কোটি টাকায়, যার বিপরীতে কার্ডধারীদের কাছে ব্যাংকগুলোর আদায়যোগ্য বকেয়া অর্থের পরিমাণ ১৪ হাজার ৩৬৫ কোটি টাকা। এটি স্পষ্ট করে যে, পারিবারিক ও ব্যক্তিগত ব্যয় নির্বাহে অনেক গ্রাহকই ক্রেডিট কার্ডের ওপর নির্ভরশীল।
দেশের বাইরেও বাংলাদেশিদের ক্রেডিট কার্ড ব্যবহারের হার বেড়েছে। মে মাসে কার্ডধারীরা বিদেশে ৪২৫ কোটি টাকা ব্যয় করেছেন, যা এপ্রিলের ৪২৪ কোটি টাকার চেয়ে ১ দশমিক ৫৭ শতাংশ বেশি। বিদেশে ব্যয়ের শীর্ষে রয়েছে যুক্তরাষ্ট্র, যেখানে মোট আন্তর্জাতিক কার্ড লেনদেনের ১৭ দশমিক ৩ শতাংশ সংঘটিত হয়েছে। এরপরেই রয়েছে যুক্তরাজ্য (৯.৬০ শতাংশ), থাইল্যান্ড (৮.৮৫ শতাংশ), সিঙ্গাপুর (৭.৮১ শতাংশ), সৌদি আরব (৭.৪৭ শতাংশ), ভারত (৬.৮৯ শতাংশ), মালয়েশিয়া (৫.০৮ শতাংশ), নেদারল্যান্ডস (৪.৮৯ শতাংশ), চীন (৪.৭৮ শতাংশ), কানাডা (৪.০৩ শতাংশ), অস্ট্রেলিয়া (৩.৯৩ শতাংশ) এবং আয়ারল্যান্ড (৩.৫১ শতাংশ)। বিশেষ করে সৌদি আরবে বাংলাদেশিদের ক্রেডিট কার্ড ব্যয় এক মাসের ব্যবধানে প্রায় দ্বিগুণ হয়েছে।
অন্যদিকে, বাংলাদেশে বিদেশি ব্যাংকের ইস্যু করা কার্ডের ব্যবহার কিছুটা কমেছে। মে মাসে বিদেশি কার্ড ব্যবহার করে বাংলাদেশে ৩১২ কোটি টাকা ব্যয় হয়েছে, যা এপ্রিলের ৩২৯ কোটি টাকার তুলনায় ৪ দশমিক ৯৫ শতাংশ কম। তবে বছরভিত্তিক হিসাবে বিদেশি নাগরিকদের বাংলাদেশে কার্ড ব্যয় ১২ দশমিক ৬৩ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে, যা পর্যটন ও ব্যবসায়িক কার্যক্রমে ইতিবাচক ইঙ্গিত বহন করে।
বছরভিত্তিক হিসাবেও প্রবৃদ্ধি উল্লেখযোগ্য। ২০২৫ সালের মে মাসে দেশে ক্রেডিট কার্ডে লেনদেন হয়েছিল ৩ হাজার ২২০ কোটি টাকা। এক বছরের ব্যবধানে এ ব্যয় বেড়েছে ৩৩ দশমিক ১৫ শতাংশ।
আপনার মতামত লিখুন :