
জ্বালানির চড়া দাম, জীবনযাত্রার বাড়তি ব্যয় এবং সরকারি সেবার মান কমে যাওয়ার প্রতিবাদে ফ্রান্সের রাজপথ উত্তাল হয়ে উঠেছে। এক শহর থেকে অন্য শহরে ছড়িয়ে পড়া এই বিক্ষোভ একপর্যায়ে সহিংস রূপ নেয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে রাজধানী প্যারিসসহ দেশটির একাধিক শহরে রাতে কার্ফিউ জারি করা হয়েছে।
সহিংসতা মোকাবিলায় জরুরি বৈঠকের পর ফরাসি প্রধানমন্ত্রী সেবাস্তিয়ান লেকর্নু স্থানীয় মেয়রের হাতে প্রয়োজন অনুযায়ী কার্ফিউ জারির ক্ষমতা অর্পণ করেছেন। প্যারিসের প্লাস দে লা রিপাবলিক ও লে আল এলাকায় রাত ১১টা থেকে সকাল ৬টা পর্যন্ত কার্ফিউ বহাল থাকবে। এছাড়া মার্সেই, বোর্দো, নিস, লিওন ও লিলের মতো বড় বড় শহরগুলোতেও আংশিক কার্ফিউ ও সমাগমে নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থতার দায়ে সমালোচনার মুখে পড়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী লরাঁ নুনেজ। তিনি পদত্যাগের আবেদন করলেও প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ তা প্রত্যাখ্যান করেছেন। এই বিক্ষোভে ইতোমধ্যে আড়াই হাজারের বেশি মানুষকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং অন্তত এক হাজার পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন।
ফ্রান্সের চেম্বার অব কমার্সের তথ্য অনুযায়ী, এই সহিংসতায় দুই হাজারের বেশি দোকানপাট ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, যার আর্থিক ক্ষতির পরিমাণ কয়েক শ মিলিয়ন ইউরো। ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পুনর্গঠনে সরকার ফান্ড ঘোষণা করলেও সহিংসতায় জড়িতদের থেকেই সেই অর্থ আদায়ের পরিকল্পনা করা হচ্ছে।
আপনার মতামত লিখুন :