Facebook Twitter Instagram YouTube

পুঁজিবাজারে বড় কোম্পানির তালিকাভুক্তিতে শর্ত শিথিল করল বিএসইসি


প্রকাশের সময় : অক্টোবর ২০, ২০২৬, ৯:১৫ পূর্বাহ্ণ / ০
পুঁজিবাজারে বড় কোম্পানির তালিকাভুক্তিতে শর্ত শিথিল করল বিএসইসি

দেশের পুঁজিবাজারে বড় মূলধনি, অবকাঠামোগত ও বহুজাতিক কোম্পানিগুলোর অংশগ্রহণ বাড়াতে প্রাথমিক গণপ্রস্তাব (আইপিও) বিধিমালায় সংশোধনী আনার উদ্যোগ নিয়েছে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)। নতুন এই খসড়া বিধিমালার নাম দেওয়া হয়েছে ‘বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (পাবলিক অফার অব ইকুইটি সিকিউরিটিজ) রুলস, ২০২৫’। বিএসইসির ওয়েবসাইটে প্রকাশিত এই খসড়ার ওপর আগামী ২ নভেম্বর পর্যন্ত সর্বসাধারণ ও সংশ্লিষ্ট অংশীজনরা লিখিত মতামত জানাতে পারবেন।

প্রস্তাবিত নতুন বিধিতে বিদ্যুৎ, জ্বালানি, টেলিকমিউনিকেশন, পানি সরবরাহ ও স্বাস্থ্যসেবাসহ বড় অবকাঠামোগত প্রকল্পে নিয়োজিত প্রতিষ্ঠানগুলোকে ‘ক্যাপিটাল-ইন্টেনসিভ কোম্পানি’ হিসেবে সংজ্ঞায়িত করা হয়েছে। এসব কোম্পানির জন্য আইপিওতে আসার ক্ষেত্রে মুনাফার শর্ত কিছুটা শিথিল করা হয়েছে। সাধারণত আইপিও আবেদনের আগে সবশেষ আর্থিক বছরে মুনাফায় থাকা বাধ্যতামূলক হলেও, ৫০০ কোটি টাকা বা তার বেশি সম্পদ থাকা ক্যাপিটাল-ইন্টেনসিভ, রেগুলেটেড ও গ্রিনফিল্ড কোম্পানিকে এই শর্ত থেকে ছাড় দেওয়ার সুযোগ রাখা হয়েছে। তবে শর্ত অনুযায়ী, তালিকাভুক্তির পরবর্তী দুই বছরের মধ্যে মুনাফায় আসার একটি কর্মপরিকল্পনা কমিশনে জমা দিতে হবে।

বড় কোম্পানিগুলোর জন্য শেয়ার ছাড়ার বাধ্যবাধকতাতেও পরিবর্তন আনা হয়েছে। প্রাক-আইপিও নিট সম্পদ ৫০০ কোটি টাকার বেশি হলে কোম্পানিগুলো ১০ শতাংশের পরিবর্তে ন্যূনতম ৫ শতাংশ শেয়ার ছেড়ে বড় মূলধন উত্তোলনের সুযোগ পাবে। এছাড়া যেসব কোম্পানির বার্ষিক টার্নওভার বা মোট সম্পদ ৫০০ কোটি টাকার বেশি, বিটিআরসি নিবন্ধিত (ন্যূনতম ৩০০ কোটি টাকা নিট সম্পদ) অথবা সংখ্যাগরিষ্ঠ বিদেশি মালিকানাধীন, তারা বিদ্যমান শেয়ারহোল্ডারদের শেয়ার অফলোডের সমন্বয়ে ‘হাইব্রিড মোড’-এ বাজারে আসতে পারবে। পিপিপি প্রকল্প, সরকারি এবং বিদেশি সংখ্যাগরিষ্ঠ শেয়ার থাকা কোম্পানির ক্ষেত্রে আইপিও আবেদনের আগের দুই বছরের মধ্যে মূলধন উত্তোলনের সাধারণ বিধিনিষেধ শিথিল করা হয়েছে।

বিনিয়োগকারীদের কোটা ব্যবস্থাতেও বড় রদবদল আনা হয়েছে। বিদ্যমান ২০২৫ সালের বিধিমালার উচ্চ সম্পদশালী বিনিয়োগকারীদের জন্য সংরক্ষিত ৫ শতাংশ কোটা পুরোপুরি বাতিল করা হয়েছে। ফিক্সড প্রাইস পদ্ধতিতে সাধারণ বিনিয়োগকারীদের কোটা ৬০ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ৬৫ শতাংশ করার প্রস্তাব করা হয়েছে। বুক বিল্ডিং পদ্ধতিতে প্রাতিষ্ঠানিক যোগ্য বিনিয়োগকারীদের কোটা ৪০ শতাংশ থেকে কমিয়ে ৩৫ শতাংশ এবং সাধারণ বিনিয়োগকারীদের কোটা ৩৫ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ৪০ শতাংশ করা হয়েছে। এছাড়া প্রবাসী বাংলাদেশিদের কোটা ৭ থেকে ১০ শতাংশ এবং কর্মচারীদের কোটা ৩ থেকে ৫ শতাংশে উন্নীত করার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।

বুক বিল্ডিং পদ্ধতিতে প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের বরাদ্দের ৫০ শতাংশ শেয়ার প্রথম দিন থেকেই লেনদেনযোগ্য থাকবে। বাকি ৫০ শতাংশ শেয়ারের মধ্যে ২৫ শতাংশ ৬০ দিন এবং অবশিষ্ট ২৫ শতাংশ ৯০ দিনের লক-ইন মেয়াদে থাকবে। পাশাপাশি আইপিও আবেদনের আগেই নিরপেক্ষ অডিটর দিয়ে ‘প্রি-আইপিও ভেরিফিকেশন’ অডিট বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। এছাড়া সাধারণ ও এনআরবি বিনিয়োগকারীদের শেয়ার বরাদ্দের লটারি প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ স্বয়ংক্রিয় করার এবং এর অ্যালগরিদম বুয়েট দ্বারা পরীক্ষিত হওয়ার বাধ্যবাধকতা যুক্ত করা হয়েছে।

কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Daily Amar Desh