চীনে উন্নত চক্ষু চিকিৎসা নিতে আগ্রহী বাংলাদেশি রোগীদের জন্য একটি বিশেষ ‘গ্রিন চ্যানেল’ চালু করা হয়েছে। এই নতুন ব্যবস্থার আওতায় রোগীরা চীন সফরের আগেই চিকিৎসাসংক্রান্ত পরামর্শ এবং প্রয়োজনীয় নথি পর্যালোচনার সুযোগ পাবেন। শনিবার (২৪ অক্টোবর) চীনের কুনমিংয়ে অবস্থিত কুনমিং হুয়াশিয়া আই হাসপাতালে আনুষ্ঠানিকভাবে এই সেবার উদ্বোধন করা হয়।
বাংলাদেশ কনস্যুলেট জেনারেলের কনসাল জেনারেল শাহনাজ রানু ‘গ্রিন চ্যানেল’-এর ফলক উন্মোচন করেন। একই দিনে তিনি ‘হুয়াশিয়া অপথ্যালমোলজি ইন্টারন্যাশনাল ফোরাম ২০২৬’-এরও উদ্বোধন করেন। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ কনস্যুলেট জেনারেলের প্রথম সচিব (বাণিজ্যিক) রিদওয়ানুর রহমান এবং হুয়াশিয়া চক্ষু হাসপাতালের ভাইস প্রেসিডেন্ট ঝাং ঝিইয়ং।
নতুন এই ‘গ্রিন চ্যানেল’ সেবা গ্রহীতাদের জন্য চীনে পৌঁছানোর পর অগ্রাধিকারভিত্তিক অ্যাপয়েন্টমেন্ট, পৃথক আন্তর্জাতিক ডেস্ক এবং দোভাষী সহায়তা নিশ্চিত করা হবে। এছাড়া চিকিৎসা শেষে দেশে ফেরার পরও রোগীদের ফলো-আপ চিকিৎসাসেবা দেওয়া হবে।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে কনসাল জেনারেল শাহনাজ রানু বাংলাদেশের জনস্বাস্থ্য খাতের অগ্রগতি এবং চক্ষু চিকিৎসায় দেশীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর অর্জনের কথা তুলে ধরেন। তিনি বাংলাদেশি রোগীদের জন্য আন্তর্জাতিক মানের চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে নিরাপত্তা, স্বচ্ছতা, ন্যায্য মূল্য এবং রোগীর মর্যাদা রক্ষার ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন।
শাহনাজ রানু বলেন, বাংলাদেশি রোগীদের জন্য নিরাপদ চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করা এবং চিকিৎসার ব্যয়ে স্বচ্ছতা বজায় রাখাই কনস্যুলেট জেনারেলের প্রধান প্রত্যাশা। তিনি হুয়াশিয়া হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে বাংলাদেশের চক্ষু চিকিৎসাব্যবস্থার সক্ষমতা বাড়াতে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান। এ ক্ষেত্রে বাংলাদেশি চক্ষু চিকিৎসক ও নার্সদের প্রশিক্ষণ, টেলি-কনসালটেশন এবং বাংলাদেশের চক্ষু চিকিৎসা প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে অংশীদারত্ব গড়ে তোলার ওপর তিনি গুরুত্ব দেন।
এই উদ্যোগের ফলে চীনে চিকিৎসা নিতে আগ্রহী রোগীদের পরামর্শ গ্রহণ থেকে শুরু করে চিকিৎসা-পরবর্তী ফলো-আপ পর্যন্ত সমন্বিত সেবা পাওয়ার সুযোগ তৈরি হলো এবং দুই দেশের চক্ষু চিকিৎসা প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে সহযোগিতার নতুন পথ প্রশস্ত হলো।
আপনার মতামত লিখুন :