
প্রকাশ : ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৪: ২২
'নাইন ইলেভেন'—বিগত ২৫ বছর ধরে বিশ্বজুড়ে সবচেয়ে আলোচিত শব্দগুলোর একটি। ২০০১ সালের ১১ সেপ্টেম্বর, মঙ্গলবার যুক্তরাষ্ট্রের নিউ ইয়র্কের ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টারের দুটি ভবনে মাত্র ১৭ মিনিটের ব্যবধানে দুটি যাত্রীবাহী বিমান আঘাত হানে। এই ভয়াবহ ঘটনার পর মুসলিম নেতৃত্ব ও সংগঠনগুলোর প্রতি আমেরিকার দৃষ্টিভঙ্গি চিরতরে বদলে যায়।
এই হামলার জন্য ওয়াশিংটন সরাসরি দায়ী করে ইসলামি চরমপন্থি দল আল-কায়েদা এবং এর প্রতিষ্ঠাতা ওসামা বিন লাদেনকে। এর জের ধরে হামলার মাত্র এক মাসের মাথায় আফগানিস্তানে সামরিক অভিযান শুরু করে মার্কিন বাহিনী। তৎকালীন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জর্জ ডব্লিউ বুশ ঘোষিত ‘ওয়ার অন টেরর’ বা সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধের এটিই ছিল প্রথম ধাপ। পরবর্তীতে এই ধারাবাহিকতায় ২০০৩ সালে ইরাকে এবং ২০১১ সালে লিবিয়াতেও সামরিক আগ্রাসন চালায় যুক্তরাষ্ট্র।
২০০১ সালের ২০ সেপ্টেম্বর এক ভাষণে প্রেসিডেন্ট জর্জ ডব্লিউ বুশ প্রথমবারের মতো আনুষ্ঠানিকভাবে ‘ওয়ার অন টেরর’ পরিভাষাটি ব্যবহার করেন। সেদিন তিনি বিশ্ববাসীকে সতর্ক করে দিয়ে বলেছিলেন, ‘আইদার ইউ আর উইথ আস, অর উইথ দেম’—অর্থাৎ এই লড়াইয়ে যেকোনো দেশকে হয় যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষে থাকতে হবে, নয়তো বেছে নিতে হবে সন্ত্রাসীদের পক্ষ।
যদিও মার্কিন প্রেসিডেন্ট ও দেশটির শীর্ষ কর্মকর্তারা বারবার দাবি করে এসেছেন যে, তাদের এই যুদ্ধ বা অভিযান কোনো নির্দিষ্ট ধর্ম কিংবা সাধারণ মানুষের বিরুদ্ধে নয়, বরং এটি কেবলই সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে লড়াই। তবে মুসলিম বিশ্বের বহু মানুষের মধ্যে এই দাবির সত্যতা নিয়ে গভীর সংশয় রয়েছে। তাদের মতে, আমেরিকার এই ঘোষণা এবং পরবর্তীতে তাদের গৃহীত বাস্তব পদক্ষেপের মধ্যে কোনো মিল ছিল না, যা মার্কিন ‘সন্ত্রাসবিরোধী’ এজেন্ডা নিয়ে বিশ্বজুড়ে বড় ধরনের প্রশ্ন ও সন্দেহের জন্ম দিয়েছে।
আপনার মতামত লিখুন :