Facebook Twitter Instagram YouTube

হামলা ও অর্থনৈতিক চাপেও ইরানের শাসনব্যবস্থা ভাঙতে পারেনি যুক্তরাষ্ট্র


প্রকাশের সময় : আগস্ট ২৯, ২০২৬, ৯:৩২ পূর্বাহ্ণ /
হামলা ও অর্থনৈতিক চাপেও ইরানের শাসনব্যবস্থা ভাঙতে পারেনি যুক্তরাষ্ট্র

শুরু হয়েছিল দ্রুত শেষ করার প্রত্যয় নিয়ে, কিন্তু ছয় মাস পেরিয়ে গেলেও ইরানকে নতিস্বীকার করাতে পারেনি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল। যৌথ সামরিক অভিযান ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’র মাধ্যমে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি এবং সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির মৃত্যুর পরও তেহরানের শাসনব্যবস্থা অটুট রয়েছে। এমনকি সাধারণ জনগণও সরকারের বিরুদ্ধে কোনো বিদ্রোহে নামেনি।

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুদ্ধ শুরুর দিনে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানি জনগণের উদ্দেশে বলেছিলেন, ‘আপনাদের স্বাধীনতার সময় ঘনিয়ে এসেছে।’ তবে ছয় মাস পর সামরিক শক্তির কার্যকারিতা নিয়ে খোদ মার্কিন বিশ্লেষকদের মধ্যেই প্রশ্ন উঠেছে। ওয়াশিংটন আসলে কী চায়—ইরানের সরকার পতন, আত্মসমর্পণ নাকি সমঝোতা—তা এখনও অস্পষ্ট। চ্যাথাম হাউসের মধ্যপ্রাচ্য ও উত্তর আফ্রিকা কর্মসূচির পরিচালক সানাম ভাকিল সরাসরি মূল্যায়ন করে বলেছেন, এই যুদ্ধ যুক্তরাষ্ট্রের লক্ষ্য পূরণে ব্যর্থ হয়েছে।

ব্রুকিংস ইনস্টিটিউশনের পররাষ্ট্রনীতি বিভাগের প্রধান সুজান ম্যালোনিও একই মত পোষণ করেন। তাঁর মতে, যুক্তরাষ্ট্র ইরানের ব্যাপক ক্ষতি করতে পারলেও দেশটি আগের চেয়ে আরও শক্তিশালী হয়ে উঠে এসেছে। ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’ নামের সেই আকস্মিক হামলায় খামেনির পাশাপাশি বেশ কয়েকজন গুরুত্বপূর্ণ কর্মকর্তা নিহত হন এবং তাঁর ছেলে ও বর্তমান উত্তরসূরি মোজতবা খামেনি গুরুতর আহত হন। কয়েক সপ্তাহের তীব্র বিমান হামলায় ইরানের নৌবাহিনী, বিমানবাহিনী ও ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচির বড় অংশ ধ্বংস হলেও সরকারের পতন ঘটেনি।

বরং সামরিক ধাক্কা কাটিয়ে উঠে ইরানের বাহিনী তাদের ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ ব্যবস্থা পুনরায় সচল করেছে। এমনকি মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সামরিক ঘাঁটি ও যুক্তরাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ মিত্রদের ওপর পাল্টা হামলাও চালিয়েছে তারা। দেশের ভেতরেও জনগণের মধ্যে কোনো বিদ্রোহ দেখা দেয়নি। উল্টো ইরানের নেতৃত্ব আরও কঠোর অবস্থান নিয়েছে এবং শাসনব্যবস্থায় সামরিক কর্মকর্তাদের প্রভাব বৃদ্ধি পেয়েছে। শাসকেরা নিজেদের টিকে থাকাকে দেশের অস্তিত্ব রক্ষার লড়াই হিসেবে তুলে ধরছেন এবং জনগণের ত্যাগকে দেশপ্রেম ও শহীদের মর্যাদার সঙ্গে তুলনা করছেন। যেকোনো ভিন্নমত সেখানে কঠোরভাবে দমন করা হচ্ছে।

সামরিক উপায়ে লক্ষ্য অর্জনে ব্যর্থ হয়ে ওয়াশিংটন এখন অর্থনৈতিক যুদ্ধকে হাতিয়ার করেছে। ইরানের অর্থনীতিকে চরম সংকটে ফেলে সাধারণ মানুষকে সরকারের বিরুদ্ধে খেপিয়ে তোলাই এখন ট্রাম্প প্রশাসনের মূল লক্ষ্য। তবে বিশ্লেষকদের মতে, এই অর্থনৈতিক কৌশলেও কাঙ্ক্ষিত ফল আসার সম্ভাবনা কম। ফলে ট্রাম্পের দেওয়া ‘স্বাধীনতা’র প্রতিশ্রুতি এখন অনেকটাই ফাঁপা বলে প্রতীয়মান হচ্ছে।

প্রকাশ : ২৯ আগস্ট ২০২৬, ০৯: ২৩আপডেট : ২৯ আগস্ট ২০২৬, ০৯: ২৪

কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Daily Amar Desh