Facebook Twitter Instagram YouTube

রেকর্ড লোকসানে দেশের ব্যাংক খাত, বাড়ছে মূলধন ও প্রভিশন ঘাটতি


প্রকাশের সময় : আগস্ট ২৯, ২০২৬, ৭:০১ পূর্বাহ্ণ /
রেকর্ড লোকসানে দেশের ব্যাংক খাত, বাড়ছে মূলধন ও প্রভিশন ঘাটতি

দেশের ব্যাংক খাত বর্তমানে এক নজিরবিহীন সংকটের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে, যেখানে রেকর্ড পরিমাণ লোকসানের মুখে পড়েছে আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো। একের পর এক ঋণ জালিয়াতির ঘটনা সামনে আসার ফলে খেলাপি ঋণের পরিমাণ উদ্বেগজনক হারে বেড়েছে। এতে ব্যাংকগুলোর সম্পদের মান কমে যাওয়ার পাশাপাশি ঝুঁকিপূর্ণ সম্পদের পরিমাণ বৃদ্ধি পেয়েছে। আয় কমে যাওয়ায় ব্যাংকগুলো ঝুঁকিপূর্ণ সম্পদের বিপরীতে প্রয়োজনীয় অর্থ সংরক্ষণ করতে পারছে না, ফলে দ্রুত মূলধন ফুরিয়ে যাচ্ছে।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, ১৯৯০-এর দশকে সংস্কারের পর ব্যাংক খাত লাভের ধারায় ফিরেছিল। ২০২৪ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত খাতটি লাভে থাকলেও এরপর পরিস্থিতির দ্রুত অবনতি ঘটে। ওই বছরের ডিসেম্বরে ব্যাংকগুলোর বিতরণ করা ঋণ ও অন্যান্য সম্পদ থেকে আয় ছিল দশমিক ৪৩ শতাংশ এবং মূলধনের বিপরীতে আয় ছিল ৮ দশমিক ৭০ শতাংশ। তবে আওয়ামী লীগ আমলে ব্যাপক লুটপাটের কারণে খেলাপি ঋণ আড়াল করা হয়েছিল, যা ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট সরকারের পতনের পর প্রকাশ পেতে শুরু করে। ফলে ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে খেলাপি ঋণ ৩ লাখ ৪৬ হাজার কোটি টাকায় এবং প্রভিশন ঘাটতি ১ লাখ কোটি টাকা ছাড়িয়ে যায়। এর আগে এই আয়ের হার আরও বেশি ছিল; ২০১০ সালের ডিসেম্বরে ব্যাংকগুলোর সম্পদ থেকে আয় ছিল ১ টাকা ৭৮ পয়সা এবং একই সময়ে মূলধন থেকে আয় ছিল ৮ টাকা ৯ পয়সা।

পরিস্থিতি আরও খারাপ হয় ২০২৫ সালে। ওই বছরের মার্চে খেলাপি ঋণ ১ লাখ ৮২ হাজার কোটি টাকা এবং প্রভিশন ঘাটতি ২৬ হাজার ৫৮৫ কোটি টাকায় দাঁড়ায়। এরপর থেকেই ব্যাংকগুলো লোকসানের খাতায় নাম লেখাতে শুরু করে। ২০২৫ সালের জুন মাসে সম্পদের বিপরীতে লোকসান দশমিক ৫৮ শতাংশ এবং মূলধনের বিপরীতে ১৬ দশমিক ১১ শতাংশে পৌঁছায়। ডিসেম্বর শেষে এই লোকসান সব সীমা ছাড়িয়ে যায়। সে সময় সম্পদ থেকে লোকসান বেড়ে ৪ দশমিক ৮১ শতাংশ এবং মূলধনের বিপরীতে লোকসান ২৪৩ দশমিক ৯০ শতাংশে উন্নীত হয়। টাকার অঙ্কে এই লোকসানের পরিমাণ দেড় লাখ কোটি টাকা ছাড়িয়ে গেছে।

২০২৫ সালের ডিসেম্বর নাগাদ ব্যাংক খাতে খেলাপি ঋণের পরিমাণ ৫ লাখ ৫৭ হাজার কোটি টাকায় এবং প্রভিশন ঘাটতি ১ লাখ ৯১ হাজার কোটি টাকায় গিয়ে ঠেকেছে। বেসরকারি খাতের ব্যাংকগুলোই সবচেয়ে বেশি লোকসান দিয়েছে, যেখানে আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে ব্যাপক লুটপাট হয়েছিল। ওই সময়ে পৃথকভাবে কোনো কোনো ব্যাংক লাভে থাকলেও গড় হিসাবে ব্যাংক খাত ছিল লোকসানি। আলোচ্য সময়ে সম্পদের বিপরীতে ব্যাংকগুলোর লোকসান ছিল দশমিক ১৮ শতাংশ, অর্থাৎ ১০০ টাকা সম্পদের বিপরীতে লোকসান হয়েছে ১৮ পয়সা। একই সময়ে মূলধনের বিপরীতে লোকসান হয় ৩ দশমিক ৯৯ শতাংশ, অর্থাৎ ১০০ টাকা মূলধনের বিপরীতে লোকসান ছিল ৩ টাকা ৯৯ পয়সা। গত বছরের ডিসেম্বর পর্যন্ত বেসরকারি ব্যাংকগুলো সম্পদের বিপরীতে গড়ে ৬ দশমিক ৯২ শতাংশ এবং মূলধনের বিপরীতে ১৮৪ দশমিক ১৩ শতাংশ লোকসান দিয়েছে। বিপরীতে বিদেশি ব্যাংকগুলো ৩ দশমিক ৮৪ শতাংশ মুনাফা করেছে। ২০২৫ সালের মার্চে খেলাপি ঋণ আরও বেড়ে ৬ লাখ ৪৫ হাজার কোটি টাকা এবং প্রভিশন ঘাটতি ১ লাখ ৩০ হাজার কোটি টাকা ছাড়িয়েছে, যা ব্যাংক খাতের মূলধন ভিত্তিকে চরম ঝুঁকির মুখে ফেলেছে।

কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Jugantor