Facebook Twitter Instagram YouTube

মধ্যস্থতা বাড়ালে কমবে ৪৫ লাখ মামলার জট: আইনমন্ত্রী


প্রকাশের সময় : আগস্ট ২, ২০২৬, ৭:৩২ পূর্বাহ্ণ / ০
মধ্যস্থতা বাড়ালে কমবে ৪৫ লাখ মামলার জট: আইনমন্ত্রী

দেশের আদালতে বিচারাধীন প্রায় ৪৫ লাখ মামলার জট উল্লেখযোগ্যভাবে কমানোর লক্ষ্যে কার্যকর মধ্যস্থতা ব্যবস্থা চালু ও সম্প্রসারণের ওপর জোর দিয়েছেন আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান। শনিবার রাজধানীর একটি অভিজাত হোটেলে আয়োজিত ‘আইন পেশাজীবীদের জন্য মৌলিক মধ্যস্থতা প্রশিক্ষণ’ কর্মসূচির সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। ‘ন্যায়বিচারে প্রবেশাধিকার বৃদ্ধির লক্ষ্যে মধ্যস্থতা এবং দেওয়ানি মামলা পরিচালনা পদ্ধতির উন্নয়ন’ শীর্ষক প্রকল্পের আওতায় এই দুই দিনব্যাপী প্রশিক্ষণের আয়োজন করা হয়।

অনুষ্ঠানে আইনমন্ত্রী বলেন, দেশের দরিদ্র, প্রান্তিক ও সুবিধাবঞ্চিত মানুষের জন্য ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা বর্তমান সরকারের অন্যতম অগ্রাধিকার। বাংলাদেশ আইনগত সহায়তা অধিদপ্তরের মাধ্যমে সরকার ন্যায়বিচার মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে নিরলস কাজ করছে। তিনি মধ্যস্থতাকারীদের দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে আইনগত জ্ঞানের পাশাপাশি মানবিকতা, প্রজ্ঞা, ধৈর্য ও আস্থা অর্জনের সক্ষমতার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। মধ্যস্থতাকারীদের মানবিক দৃষ্টিভঙ্গি গড়ে তুলতে তিনি জাপানের ‘জাস্টিস উইথ আ স্মাইল’ (হাসিমুখে ন্যায়বিচার) গ্রন্থটি পড়ার পরামর্শ দেন।

আইন পেশায় আলোচনাভিত্তিক বিরোধ নিষ্পত্তির সংস্কৃতিকে ইতিবাচক উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, অনেক সময় আইনজীবীদের সমঝোতায় অনাগ্রহী মনে করা হলেও, বাস্তবে দেশ-বিদেশে অসংখ্য সফল মধ্যস্থতার পেছনে আইনজীবীদেরই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা থাকে। দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়ায় সময়, অর্থ ও শ্রম ব্যয়ের পাশাপাশি মানুষ যে মানসিক ও শারীরিক কষ্টের শিকার হয়, তা থেকে মুক্তি পেতে হত্যা বা গুরুতর অপরাধ ছাড়া অধিকাংশ বিরোধ আলোচনার মাধ্যমে নিষ্পত্তির সংস্কৃতি গড়ে তোলার আহ্বান জানান তিনি।

প্রকল্পের আওতায় সেরা কর্মদক্ষতা প্রদর্শনকারী একজন নারী ও একজন পুরুষ মধ্যস্থতাকারীকে জাপানে উন্নত প্রশিক্ষণের সুযোগ দেওয়ার ঘোষণা দেন আইনমন্ত্রী। তিনি জাপান সরকার, জাইকা এবং কেইও ইউনিভার্সিটি ল স্কুলের অধ্যাপক ও বিশিষ্ট আইনজীবী মাসাকো মিয়াতাকাসহ সংশ্লিষ্ট সকলকে ধন্যবাদ জানান। একই সাথে তিনি ঢাকা-নারিতা রুটে সরাসরি ফ্লাইটের সংখ্যা বাড়ানোর প্রয়োজনীয়তার কথা উল্লেখ করেন।

আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয় এবং জাইকার যৌথ উদ্যোগে বাস্তবায়িত এই প্রশিক্ষণ কর্মসূচিতে দেশের বিভিন্ন জেলার লিগ্যাল এইড অফিসার ও জেলা জজ আদালতের আইনজীবীসহ ৪০ জন অংশ নেন। প্রকল্পের মূল লক্ষ্য হলো মধ্যস্থতা ব্যবস্থাকে কার্যকর ও প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেওয়া এবং বিচারপ্রার্থীদের জন্য দ্রুত ও সাশ্রয়ী ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন প্রকল্প পরিচালক ও অতিরিক্ত সচিব মো. খাদেমউল কায়েস। এছাড়া জাইকা বাংলাদেশের প্রধান প্রতিনিধি জুনকো তাকাহাশি, জাপানের বিচার মন্ত্রণালয়ের উপমহাপরিচালক কাজুনোরি নোসে এবং আইনগত সহায়তা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো. মনজুরুল হোসেন বক্তব্য রাখেন। প্রশিক্ষণের মূল প্রশিক্ষক ছিলেন জাপানের কেইও ইউনিভার্সিটি ল স্কুলের অধ্যাপক মাসাকো মিয়াতাকে।

শনিবার (১ আগস্ট) রাজধানীর একটি অভিজাত হোটেলে ‘ন্যায়বিচারে প্রবেশাধিকার বৃদ্ধির লক্ষ্যে মধ্যস্থতা এবং দেওয়ানি মামলা পরিচালনা পদ্ধতির উন্নয়ন’ শীর্ষক প্রকল্পের আওতায় আয়োজিত দুই দিনব্যাপী ‘আইন পেশাজীবীদের জন্য মৌলিক মধ্যস্থতা প্রশিক্ষণ’ কর্মসূচির সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Daily Adin