Facebook Twitter Instagram YouTube

মরক্কোর সীমান্তে চার দিনে ফিরল ৬৯,৫০০ অভিবাসী


প্রকাশের সময় : আগস্ট ৪, ২০২৬, ১১:৩১ পূর্বাহ্ণ /
মরক্কোর সীমান্তে চার দিনে ফিরল ৬৯,৫০০ অভিবাসী

স্পেনের উত্তর আফ্রিকান ছিটমহল সেউতায় সীমান্ত অতিক্রম করে হাজারো অভিবাসীর প্রবেশে তীব্র মানবিক সংকট তৈরি হয়েছে। স্থানীয় প্রশাসন এই বিশাল চাপ সামলাতে হিমশিম খাচ্ছে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় সোমবার শত শত অভিবাসী সেউতার একটি সমুদ্রসৈকতে অস্থায়ী শিবির গড়ে তুলতে বাধ্য হয়েছেন।

স্পেন সরকারের তথ্য অনুযায়ী, গত চার দিনে প্রায় ৬৯ হাজার ৫০০ জন অভিবাসীকে মরক্কোতে ফিরিয়ে দেওয়া হয়েছে। এর আগে গত বৃহস্পতিবার সেউতায় প্রায় ৫০ হাজার মানুষের অনুপ্রবেশের প্রাথমিক ধারণা পাওয়া গিয়েছিল। এই সংকটের জেরে স্পেনের সীমান্ত অংশে এখন পর্যন্ত ৭২ জন এবং মরক্কোর অংশে ১১ জনের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছে কর্তৃপক্ষ।

অনেক অভিবাসী জানান, দোকানপাট বন্ধ থাকায় তারা তীব্র খাদ্যসংকটে পড়েছেন। এছাড়া স্থানীয়দের বিরূপ আচরণ এবং স্পেনের মূল ভূখণ্ডে যাওয়ার সুযোগ না থাকায় তারা সেউতায় আটকা পড়েছেন। রয়টার্সের ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, এল ট্রাম্পোলিন সৈকতে সাব-সাহারান আফ্রিকার শত শত অভিবাসী বালুর ওপর শুয়ে আছেন এবং ঠান্ডা বাতাস থেকে বাঁচতে শরীরে তোয়ালে জড়িয়ে রেখেছেন। সৈকতের পাশের সড়কে সেনাবাহিনী ও পুলিশ টহল দিচ্ছে।

সেউতার প্রশাসনিক প্রধান হুয়ান জেসুস ভিভাস জানান, বর্তমানে ছিটমহলটিতে ৩ হাজার থেকে ৫ হাজার অভিবাসী অবস্থান করছেন। প্রাপ্তবয়স্ক ও অপ্রাপ্তবয়স্কদের জন্য থাকা দুটি অভিবাসী গ্রহণকেন্দ্রই এখন ধারণক্ষমতার বাইরে। স্থানীয় কর্মকর্তা আলবার্তো গাইতানের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে ৮৬২ জন অপ্রাপ্তবয়স্ক অভিবাসীর নিবন্ধন প্রক্রিয়া চলছে, যারা আন্তর্জাতিক ও স্প্যানিশ আইনের আওতায় বিশেষ আইনি সুরক্ষা ভোগ করেন।

অভিবাসী সংকটকে কেন্দ্র করে ইউরোপজুড়ে অভিবাসনবিরোধী বক্তব্য জোরালো হয়েছে এবং ইইউ সদস্য দেশগুলোর মধ্যে সীমান্ত নীতি নিয়ে কূটনৈতিক টানাপোড়েন বেড়েছে। স্পেনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হোসে ম্যানুয়েল আলবারেস জানিয়েছেন, মরক্কো শুরু থেকেই সীমান্ত পুলিশ দিয়ে সহযোগিতা করছে এবং কোনো শর্ত ছাড়াই অধিকাংশ অভিবাসীকে ফিরিয়ে নিতে সম্মত হয়েছে। তবে সেউতার প্রধান হুয়ান জেসুস ভিভাস মরক্কোকে নির্ভরযোগ্য অংশীদার হিসেবে মানতে নারাজ। তিনি অভিযোগ করেন, মরক্কো পরিকল্পিতভাবে এমন পরিস্থিতি ঘটতে দিয়েছে।

অন্যদিকে, স্পেনের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ফার্নান্দো গ্রান্দে-মার্লাস্কা জানিয়েছেন, বৈদেশিক গোয়েন্দা সংস্থা সিএনআই এই ঢলের বিষয়ে আগে কোনো সতর্কবার্তা দেয়নি। মরক্কোর স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এই পরিস্থিতির জন্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়ানো বিভ্রান্তিকর তথ্য এবং মানবপাচারকারী চক্রের তৎপরতাকে দায়ী করেছে। এছাড়া স্পেনের একটি আদালতের রায়কে ভুলভাবে ব্যাখ্যা করার বিষয়টিও এই অস্থিরতায় ভূমিকা রেখেছে বলে তাদের দাবি।

কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Dainik Amader Shomoy