Facebook Twitter Instagram YouTube

আগৈলঝাড়া থানায় হামলার ঘটনায় পুলিশ সার্ভিস এসোসিয়েশনের তীব্র নিন্দা


প্রকাশের সময় : জুলাই ১০, ২০২৬, ৭:৩০ অপরাহ্ণ /
আগৈলঝাড়া থানায় হামলার ঘটনায় পুলিশ সার্ভিস এসোসিয়েশনের তীব্র নিন্দা

বরিশালের আগৈলঝাড়া থানায় এক আসামির মৃত্যুর গুজব ছড়িয়ে সংঘটিত হামলা, ভাঙচুর ও পুলিশ সদস্যদের ওপর আক্রমণের ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ পুলিশ সার্ভিস এসোসিয়েশন। সংগঠনটির সাধারণ সম্পাদক ও ঢাকা জেলার পুলিশ সুপার শামীমা পারভীন স্বাক্ষরিত এক বিবৃতিতে এই হামলার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানানো হয়েছে। বিবৃতিতে হামলাকারীদের দ্রুত আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি করা হয়েছে।

পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, গত ৮ জুলাই চুরির মামলার আসামি রিয়াজ ফকিরকে গ্রেপ্তার করে থানায় আনা হয়। তিনি মাদকাসক্ত অবস্থায় ছিলেন এবং হাজতে থাকাকালীন নিজেই নিজের মাথায় আঘাত করে আহত হন। কর্তব্যরত পুলিশ সদস্যরা তাকে দ্রুত আগৈলঝাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান এবং অবস্থার অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে বরিশালের শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়।

পরদিন ৯ জুলাই রিয়াজ ফকির মারা গেছেন—এমন একটি গুজব সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও স্থানীয়ভাবে ছড়িয়ে পড়ে। এই ভিত্তিহীন গুজবে উত্তেজিত হয়ে কয়েকশ মানুষ থানার সামনে জড়ো হয়ে বিক্ষোভ শুরু করে। একপর্যায়ে জনতা থানায় ইটপাটকেল নিক্ষেপ ও ভাঙচুর চালায় এবং দায়িত্বরত পুলিশ সদস্যদের ওপর হামলা করে। এতে একাধিক পুলিশ সদস্যসহ বেশ কয়েকজন আহত হন। পরে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়। পুলিশ কর্তৃপক্ষ নিশ্চিত করেছে যে, ঘটনার সময় রিয়াজ ফকির জীবিত ছিলেন এবং হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন।

পুলিশ সার্ভিস এসোসিয়েশন এই ঘটনাকে ‘মব সংস্কৃতি’র উদ্বেগজনক বহিঃপ্রকাশ হিসেবে অভিহিত করেছে। বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়, অসুস্থ আসামির চিকিৎসা নিশ্চিত করার মাধ্যমে পুলিশ মানবিক দায়িত্ব পালন করেছে। অথচ একটি ভিত্তিহীন গুজবে রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানে হামলা কোনোভাবেই সমর্থনযোগ্য নয়। সংগঠনটির মতে, গুজব ও উসকানির মাধ্যমে জনতাকে সংঘবদ্ধ করে আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়ার প্রবণতা দেশের আইনের শাসনের জন্য বড় হুমকি। এতে শুধু পুলিশের মনোবল ক্ষতিগ্রস্ত হয় না, সাধারণ মানুষের নিরাপত্তাও ঝুঁকির মুখে পড়ে।

বিবৃতিতে নাগরিকদের প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে যেন কোনো তথ্য যাচাই না করে গুজবে বিশ্বাস করা না হয়। কোনো অভিযোগ থাকলে তা প্রচলিত আইন অনুযায়ী কর্তৃপক্ষের কাছে উপস্থাপনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। সহিংসতা বা ভাঙচুর সমস্যার সমাধান নয়, বরং এটি নতুন অপরাধের জন্ম দেয়। পরিশেষে, দেশের শান্তি-শৃঙ্খলা রক্ষা ও আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় বাংলাদেশ পুলিশ পেশাদারিত্ব ও ধৈর্য নিয়ে কাজ করে যাবে বলে সংগঠনটি পুনর্ব্যক্ত করেছে এবং গুজব প্রতিরোধে সকলের সহযোগিতা কামনা করেছে।

শুক্রবার (১০ জুলাই) সংগঠনটির সাধারণ সম্পাদক ও ঢাকা জেলা পুলিশ সুপার শামীমা পারভীন স্বাক্ষরিত এক বিবৃতিতে আগৈলঝাড়া থানায় সংঘটিত হামলার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানানো হয়। একই সঙ্গে হামলাকারীদের দ্রুত আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানানো হয়।