Facebook Twitter Instagram YouTube

ডিসেম্বরে দেশে ফিরে আদালতে আত্মসমর্পণের পরিকল্পনা শেখ হাসিনার


প্রকাশের সময় : জুলাই ১০, ২০২৬, ৮:০০ অপরাহ্ণ /
ডিসেম্বরে দেশে ফিরে আদালতে আত্মসমর্পণের পরিকল্পনা শেখ হাসিনার

মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত এবং বর্তমানে ভারতে নির্বাসিত থাকা সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আগামী ডিসেম্বর নাগাদ দেশে ফিরে আদালতে আত্মসমর্পণের পরিকল্পনা করছেন। আন্তর্জাতিক বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে দেওয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে ৭৮ বছর বয়সী শেখ হাসিনা নিজেই এই পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর এটিই কোনো আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমকে সরাসরি দেওয়া তার প্রথম সাক্ষাৎকার।

টেলিফোনে প্রায় ঘণ্টাব্যাপী এই সাক্ষাৎকারে তিনি জানান, কেবল তিনি একাই নন, নির্বাসনে থাকা আওয়ামী লীগের জ্যেষ্ঠ নেতারাও তার সঙ্গে দেশে ফিরে আত্মসমর্পণ করবেন। শেখ হাসিনা বলেন, “আমি সবাইকে বলেছি, এবার আমি দেশে ফিরব। তোমাদেরও একদিন ফিরতে হবে। সবাই মিলে আমরা আদালতে আত্মসমর্পণ করব।” তবে সুনির্দিষ্ট কোন তারিখে তিনি ফিরবেন বা কোন আদালতে আত্মসমর্পণ করবেন, সে বিষয়ে কোনো তারিখ উল্লেখ করেননি তিনি।

বর্তমানে বাংলাদেশে আওয়ামী লীগের রাজনীতি নিষিদ্ধ এবং দলের সভাপতি হিসেবে নিজেও ফাঁসির আসামি হওয়া সত্ত্বেও তিনি ফেরার সিদ্ধান্তে অটল। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “দেশে ফিরলে তারা আমাকে গ্রেপ্তার করতে পারে, এমনকি মেরেও ফেলতে পারে। তবুও আমাকে যেতে হবে।” তিনি আরও জানান, ন্যায়বিচারে বিশ্বাসী বলেই তিনি এই বিচার প্রক্রিয়ার মুখোমুখি হতে চান, যাতে এটি কতটা প্রহসনমূলক তা সবার সামনে স্পষ্ট হয়।

ভারত তাকে আশ্রয় দেওয়ায় ঢাকা ও দিল্লির মধ্যে সম্পর্কের যে অবনতি ঘটেছে, সে বিষয়ে তিনি বলেন, বাংলাদেশ সরকার তাকে ফিরিয়ে নিতে ভারতকে বারবার চিঠি দিলেও তিনি নিজেই ফিরে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। এছাড়া, দেশে ফেরার বিষয়ে ঢাকা বা অন্য কোনো বিদেশি সরকারের সঙ্গে তার কোনো গোপন আলোচনা হয়নি বলেও তিনি দাবি করেন।

শেখ হাসিনা জানান, তার বাসভবনের দিকে জনতা এগিয়ে আসায় জীবন শঙ্কার কারণেই তিনি ৫ আগস্ট দেশ ছাড়তে বাধ্য হয়েছিলেন। বর্তমান সরকারের অধীনে আওয়ামী লীগ নিষিদ্ধ থাকলেও তিনি দল পুনর্গঠনের লক্ষ্যে অনলাইনে ১২৫টি আসনের নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন। তিনি বলেন, “তারা হয়ত আমাকে সাজা দিয়েছে এবং আমি হয়ত নির্বাচনে অংশ নিতে পারব না। কিন্তু তারা আওয়ামী লীগকে কেন নিষিদ্ধ করবে?”

এর আগেও বিভিন্ন সময়ে কারাবরণ ও সামরিক শাসনের মুখোমুখি হওয়ার অভিজ্ঞতার কথা স্মরণ করে তিনি বলেন, কারাবন্দি হওয়া নিয়ে তার কোনো উদ্বেগ নেই। রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শেখ হাসিনার এই মন্তব্যের বিষয়ে বাংলাদেশ সরকার বা ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। এছাড়া, বর্তমানে ভারতে অবস্থানরত সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালের সঙ্গেও যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।

কারাগারে যেতে হলে তা নিয়ে কোনো উদ্বেগ নেই দাবি করে ক্ষমতাচ্যুত এই প্রধানমন্ত্রী বলেন, এর আগেও তাকে বেশ কয়েকবার গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। ১৯৮১ সালে নির্বাসন থেকে ফেরার পর সামরিক শাসনবিরোধী আন্দোলনে এবং ২০০৭ সালে সেনাসমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলেও দুর্নীতির অভিযোগে তাকে কারাবরণ করতে হয়েছিল।

দেশে আওয়ামী লীগের কার্যক্রমে নিষেধাজ্ঞা থাকলেও দল পুনর্গঠনের লক্ষ্যে ৩০০ সংসদীয় আসনের মধ্যে ১২৫টি আসনের নেতাদের সঙ্গে অনলাইনে বৈঠক করার কথা বলেছেন শেখ হাসিনা।