Facebook Twitter Instagram YouTube

ইউক্রেন যুদ্ধে নতুন ছক পুতিনের, ইউরোপেও সংঘাতের শঙ্কা


প্রকাশের সময় : জুলাই ১০, ২০২৬, ৭:৪৫ অপরাহ্ণ /
ইউক্রেন যুদ্ধে নতুন ছক পুতিনের, ইউরোপেও সংঘাতের শঙ্কা

ইউক্রেনের সঙ্গে কোনো ধরনের শান্তি আলোচনা বা যুদ্ধবিরতিতে আপাতত রাজি নন রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। রয়টার্সের কাছে ক্রেমলিনের ঘনিষ্ঠ তিনটি সূত্র জানিয়েছে, ইউক্রেনের ড্রোন হামলায় রাশিয়ার জ্বালানি অবকাঠামো, বন্দর ও তেল শোধনাগার ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় ক্ষুব্ধ পুতিন যুদ্ধ আরও জোরদার করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। পুতিনের সঙ্গে নিয়মিত সাক্ষাৎ করেন এমন একজন জানান, আগামী কয়েক মাসে সংঘাত আরও তীব্র হওয়ার সম্ভাবনা খুবই বেশি। গত এক সপ্তাহে রাশিয়া কিয়েভসহ ইউক্রেনের বিভিন্ন শহরে বড় ধরনের ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে, যেখানে অন্তত ৩০ জন বেসামরিক নাগরিক নিহত হয়েছেন।

শান্তি চুক্তির বিষয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের সাম্প্রতিক মন্তব্যের বিপরীতে পুতিনের এই কঠোর অবস্থান সামনে এল। ট্রাম্প দাবি করেছিলেন যে পুতিন যুদ্ধের অবসান চান, তবে রয়টার্সের তথ্য অনুযায়ী, পুতিন এখনো ইউক্রেনের পূর্বাঞ্চলীয় ডনবাসের পুরো নিয়ন্ত্রণ দখলকেই প্রধান লক্ষ্য হিসেবে দেখছেন। গত ৩ জুলাই পুতিন দাবি করেন, রাশিয়া শহরটি দখল করেছে, যদিও ইউক্রেন সেই দাবি প্রত্যাখ্যান করেছে। এর একদিন পর ট্রাম্পের সঙ্গে ফোনালাপে পুতিন বলেন, দোনেৎস্ক অঞ্চলের ইউক্রেনের নিয়ন্ত্রণে থাকা অবশিষ্ট অংশও রাশিয়া দখল করবে।

ইউক্রেনের গোয়েন্দা তথ্যের বরাতে জেলেনস্কির কার্যালয়ের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা জানিয়েছেন, পুতিন শান্তির বদলে নতুন সামরিক অভিযানের প্রস্তুতি নিচ্ছেন। এমনকি ইউক্রেনের সীমানা ছাড়িয়ে ইউরোপের অন্য কোনো দেশেও হামলার পরিকল্পনা থাকতে পারে। রাশিয়ার সামরিক বিশ্লেষকদের একাংশ প্রকাশ্যে ন্যাটোর লক্ষ্যবস্তুতে, বিশেষ করে বাল্টিক অঞ্চলের ঘাঁটি বা অস্ত্র উৎপাদনকারী স্থাপনায় হামলার সম্ভাবনার কথা বলছেন। রয়্যাল ইউনাইটেড সার্ভিসেস ইনস্টিটিউটের সামরিক বিশ্লেষক জ্যাক ওয়াটলিংয়ের মতে, রাশিয়ার উদ্দেশ্য ন্যাটোর সঙ্গে সরাসরি যুদ্ধে জড়ানো নয়, বরং সীমিত হামলার মাধ্যমে জোটের সদস্যদের মধ্যে মতবিরোধ সৃষ্টি করা।

ডনবাস দখলের লড়াই এখন দীর্ঘ ও ব্যয়বহুল হয়ে দাঁড়িয়েছে। সেন্টার ফর স্ট্র্যাটেজিক অ্যান্ড ইন্টারন্যাশনাল স্টাডিজের তথ্যমতে, ২০২২ সাল থেকে উভয় পক্ষে প্রায় ২০ লাখ সেনা হতাহত বা নিখোঁজ হয়েছেন, যার মধ্যে ১৪ লাখই রুশ সেনা। ড্রোন প্রতিরোধের কারণে রাশিয়ার অগ্রগতি ধীর হলেও পুতিন অন্তত একটি বড় বিজয় নিশ্চিত করতে বদ্ধপরিকর। এছাড়া গত সপ্তাহে সেনা কর্মকর্তাদের উদ্দেশে দেয়া এক ভাষণে পুতিন বলেন, ইউক্রেনের জ্বালানি অবকাঠামোয় হামলার জবাবে রাশিয়া সীমান্তবর্তী আরও ২০০ কিলোমিটার এলাকায় একটি নিরাপত্তা অঞ্চল গড়ে তুলবে। এই পরিকল্পনার অংশ হিসেবে গত ১ সপ্তাহে ৩টি নতুন সামরিক ইউনিট মোতায়েন করা হয়েছে।

এদিকে ইউক্রেনের ধারাবাহিক ড্রোন হামলায় রাশিয়ার ভেতরে জ্বালানি সংকট দেখা দিয়েছে, যা সাধারণ মানুষের ওপরও প্রভাব ফেলছে। সাম্প্রতিক জরিপে পুতিনের জনপ্রিয়তা কিছুটা কমেছে বলে দেখা গেছে। তবে ক্রেমলিনের মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকভ দাবি করেছেন, রাশিয়া শান্তিপূর্ণ সমাধানের জন্য প্রস্তুত থাকলেও নিজস্ব নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সামরিক অভিযান অব্যাহত রাখার সক্ষমতা তাদের রয়েছে।