
সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক নিয়োগ প্রক্রিয়ায় ২০২৩ সালের সার্কুলারের আওতায় দায়ের করা মামলায় চূড়ান্ত রায় দিয়েছেন আপিল বিভাগ। এই রায়ে আদালত ১৫১ জন রিটকারীকে নিয়োগ প্রদান, ৪৬ হাজার ১৯৯ জন পরীক্ষার্থীর ফলাফল নতুন করে প্রকাশ এবং ইতিমধ্যে কর্মরত ৬ হাজার ৫৩১ জন শিক্ষকের নিয়োগ বহাল রাখার নির্দেশ দিয়েছেন।
আইনজীবীদের তথ্যমতে, ২০২৩ সালের নিয়োগ বিজ্ঞপ্তিটি তৎকালীন প্রচলিত কোটা পদ্ধতির ভিত্তিতে পরিচালিত হয়েছিল। পরবর্তীতে ১৫১ জন প্রার্থী হাইকোর্টে রিট আবেদন করে দাবি করেন যে, জুলাই মাসের পর সুপ্রিম কোর্টের কোটা-সংক্রান্ত রায়ের আলোকে নিয়োগ প্রক্রিয়াটি মেধাভিত্তিক হওয়া প্রয়োজন। হাইকোর্ট ওই নিয়োগ প্রক্রিয়াকে অবৈধ ঘোষণা করে রিটকারীদের নিয়োগের নির্দেশ দিলে সরকার তার বিরুদ্ধে আপিল করে। আজ আপিল বিভাগ সেই আপিলের ওপর চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত দিলেন।
আদালতের নির্দেশনায় বলা হয়েছে, ১৫১ জন রিটকারীকে আগামী ৬০ কার্যদিবসের মধ্যে নিয়োগ দিতে হবে। পাশাপাশি ঢাকা ও চট্টগ্রাম বিভাগের ২০২৩ সালের নিয়োগ পরীক্ষায় উত্তীর্ণ ৪৬ হাজার ১৯৯ জন প্রার্থীর ফলাফল সুপ্রিম কোর্টের কোটা-সংক্রান্ত (সিপি নং-২৫১৬/২০২৪) রায়ের আলোকে মেধাভিত্তিতে পুনরায় প্রকাশ করতে হবে।
মামলা চলাকালীন ইতিমধ্যে নিয়োগ পেয়ে কর্মরত ৬ হাজার ৫৩১ জন সহকারী শিক্ষকের বিষয়টিও রায়ে স্পষ্ট করা হয়েছে। আইনজীবী তাজুল ইসলাম জানিয়েছেন, ন্যায়বিচারের স্বার্থে এবং প্রশাসনিক জটিলতা বা বিশৃঙ্খলা এড়াতে আদালত ‘কমপ্লিট জাস্টিস’ বা পূর্ণাঙ্গ ন্যায়বিচারের নীতি অনুসরণ করে এই শিক্ষকদের চাকরি বহাল রেখেছেন।
আইনজীবী তাজুল ইসলাম আরও ব্যাখ্যা করেন, এই রায়ের ফলে অতীতে কোটা পদ্ধতিতে সম্পন্ন হওয়া সব নিয়োগ চ্যালেঞ্জ করার সুযোগ তৈরি হয়নি। যেসব নিয়োগ প্রক্রিয়া চূড়ান্তভাবে নিষ্পত্তি হয়ে গেছে, সেগুলো চূড়ান্ত বলেই গণ্য হবে। তবে চলমান বা সংশ্লিষ্ট বিষয়ে আইনগত ভিত্তি থাকলে ভবিষ্যতে আদালতের দ্বারস্থ হওয়ার সুযোগ উন্মুক্ত থাকতে পারে।
আপনার মতামত লিখুন :