
তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বাতিলসহ সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনীতে আনা বিভিন্ন বিষয় অবৈধ ঘোষণা করে হাইকোর্টের দেওয়া রায়ের বিরুদ্ধে করা আপিলের শুনানি শেষ হয়েছে। আজ বৃহস্পতিবার প্রধান বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন চার সদস্যের আপিল বিভাগ এ বিষয়ে রায় ঘোষণা করবেন।
এর আগে গত বছরের ১৩ নভেম্বর প্রধান বিচারপতি ড. সৈয়দ রেফাত আহমেদের নেতৃত্বাধীন আপিল বিভাগ হাইকোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে আপিলের অনুমতি দিয়েছিলেন। মূলত, ২০২৪ সালের ১৭ ডিসেম্বর হাইকোর্ট দুটি পৃথক রিট আবেদনের চূড়ান্ত শুনানি শেষে পঞ্চদশ সংশোধনীর কিছু অংশ অসাংবিধানিক ঘোষণা করে রায় প্রদান করেন।
তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকার ২০১১ সালের ৩০ জুন জাতীয় সংসদে পঞ্চদশ সংশোধনী আইন পাস করেছিল। এই সংশোধনীর মাধ্যমে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বিলোপসহ সংবিধানের ৫৪টি ক্ষেত্রে পরিবর্তন আনা হয়। হাইকোর্টের রায়ের পর তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা পুনর্বহালের পথ তৈরি হলেও কিছু জটিলতা থাকায় তিনটি পৃথক আপিল দায়ের করা হয়। এর মধ্যে সুশাসনের জন্য নাগরিকের সম্পাদকসহ চার ব্যক্তি, নওগাঁর বাসিন্দা মো. মোফাজ্জল হোসেন এবং বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর পক্ষ থেকে আপিলগুলো করা হয়েছে।
শুনানি পর্বে বদিউল আলম মজুমদারের আইনজীবী শরীফ ভূঁইয়া পঞ্চদশ সংশোধনীকে প্রতারণামূলক আখ্যা দিয়ে তা বাতিলের আবেদন জানান। তবে তিনি সংবিধানের ৯৬ ও ১০২ অনুচ্ছেদের সুরক্ষা বজায় রাখার আহ্বান জানিয়েছেন। অন্যদিকে, জামায়াতে ইসলামীর আইনজীবী শিশির মনির শুনানিতে যুক্তি তুলে ধরেন যে, পঞ্চদশ সংশোধনীর যেসব বিষয় সংবিধানের মৌলিক কাঠামোর সঙ্গে সাংঘর্ষিক, সেগুলো বাতিল করে বাকি বিষয়গুলো সংসদের সিদ্ধান্তের ওপর ছেড়ে দেওয়া উচিত।
আপনার মতামত লিখুন :