Facebook Twitter Instagram YouTube

ইরানের ওপর নতুন মার্কিন হামলা, কুয়েত ও বাহরাইনে তেহরানের পাল্টা আঘাত


প্রকাশের সময় : জুলাই ৯, ২০২৬, ১১:৩০ পূর্বাহ্ণ /
ইরানের ওপর নতুন মার্কিন হামলা, কুয়েত ও বাহরাইনে তেহরানের পাল্টা আঘাত

মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাতের নতুন ঢেউ শুরু হয়েছে। ইরানের সামরিক লক্ষ্যবস্তুতে যুক্তরাষ্ট্রের নতুন করে হামলার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই প্রতিবেশী কুয়েত ও বাহরাইনে পাল্টা আঘাত হেনেছে তেহরান। এই পাল্টাপাল্টি আক্রমণের ফলে পুরো পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে এক অনিয়ন্ত্রিত যুদ্ধ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে।

মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) বুধবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে জানিয়েছে, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নির্দেশে এই অভিযান পরিচালিত হয়েছে। হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচলের স্বাধীনতায় ইরান যেন বাধা দিতে না পারে, সেজন্য তাদের সামরিক সক্ষমতা কমিয়ে আনাই এই হামলার লক্ষ্য। সেন্টকমের দাবি, তারা ইরানের উপকূলের প্রায় ৯০টি লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হেনেছে, যার মধ্যে আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা, ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র গুদাম এবং নৌবাহিনীর বিভিন্ন স্থাপনা রয়েছে।

তবে ইরানের পক্ষ থেকে হামলার ক্ষয়ক্ষতি স্বীকার করা হয়েছে। আল জাজিরার তথ্য অনুযায়ী, ইরানশাহর বিমানবন্দরে হামলায় একজন দমকলকর্মী নিহত হয়েছেন। এছাড়া বন্দর আব্বাসে আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা শত্রুপক্ষের হামলা প্রতিহত করেছে বলে মেহর নিউজ এজেন্সি জানিয়েছে। চাবাহারে একটি মেরিটাইম কন্ট্রোল টাওয়ার ও একটি ডিপোতে হামলা হয়েছে এবং আক কালায় একটি রেল সেতু ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলেও জানা গেছে।

এই হামলার কড়া জবাব দেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়ে ইরানের পার্লামেন্টের মুখপাত্র ইব্রাহিম রেজায়ি এক্সে লিখেছেন, ইরানিদের কঠিন আঘাতের জন্য প্রস্তুত থাকো। এর কয়েক ঘণ্টা পরই বাহরাইনে বিমান হামলার সাইরেন বেজে ওঠে এবং কুয়েতের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় রকেট ও ড্রোন হামলা ঠেকানোর কথা জানায়।

ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি) জানিয়েছে, তারা ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন ব্যবহার করে কুয়েতের ক্যাম্প আরিফজান ও আলি আল সালেম এবং বাহরাইনের জাফায়ের ও শেখ ঈসা ঘাঁটিতে সফল অভিযান চালিয়েছে।

এর আগে গত মঙ্গলবারও যুক্তরাষ্ট্র ইরানে হামলা চালিয়েছিল, যেখানে অন্তত ৮ জন ইরানি নৌ ও বিমান বাহিনীর সদস্য নিহত হন। ওই হামলায় ৮০টি স্থান লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছিল বলে দাবি করা হয়। গত মাসে দুই দেশ যুদ্ধ বন্ধে একটি সমঝোতা স্মারকে সই করলেও বর্তমানে তা লঙ্ঘনের অভিযোগ উঠেছে। বিশেষ করে চুক্তির ৫ নম্বর ধারা অনুযায়ী, হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচলের নিরাপত্তা ও ফি সংক্রান্ত জটিলতা নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে তীব্র মতবিরোধ চলছে। পেন্টাগনের সাবেক এক কর্মকর্তা জানান, আমেরিকা অবরোধ তুলে নেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিলেও ইরান জাহাজে হামলা বন্ধ না করায় এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। তবে ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাগের গালিবাব স্পষ্ট জানিয়েছেন, আমেরিকার হুমকিতে তারা নতি স্বীকার করবেন না।