
সরকার গঠনের পর থেকে বিএনপির অনেক রাজনৈতিক মিত্র যথাযথ মূল্যায়ন না পাওয়ার অভিযোগ তুলেছেন। দীর্ঘদিনের আন্দোলন-সংগ্রামের সঙ্গী ও এক সময়ের জোটসঙ্গীরা এখন তাদের প্রাপ্য পদ-পদবি না পেয়ে প্রকাশ্যে বা কৌশলে চাপ প্রয়োগ করছেন। এই পরিস্থিতিতে মিত্রদের মান ভাঙাতে ও হতাশা দূর করতে উদ্যোগ নিয়েছেন বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান। সোমবার রাতে তিনি শরিক দল ও সমমনা জোটের নেতাদের নিয়ে এক নৈশভোজের আয়োজন করেন।
এর আগে নিজ দল ছেড়ে বিএনপিতে যোগ দেওয়া রাশেদ খানকে সচিব পদমর্যাদায় প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী নিয়োগ দিয়ে অন্যদের ধৈর্য ধরার বার্তা দিয়েছেন বিএনপি চেয়ারম্যান। তবে এই নিয়োগ নিয়ে বিএনপি, ছাত্রদল ও যুবদলের নেতাকর্মীদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। অনেকে মনে করছেন, দলের ত্যাগী ও পরীক্ষিত নেতাদের যথাযথ মূল্যায়ন হচ্ছে না।
২০২৪ সালের ৫ আগস্ট শেখ হাসিনার পতনের পর ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে গঠিত অন্তর্বর্তী সরকার এবং পরবর্তীতে ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে বিএনপি ও এর মিত্ররা ২১৪টি আসনে জয়ী হয়। এর মধ্যে বিএনপি ২১১টি এবং শরিকরা ৩টি আসন পায়। গণসংহতি আন্দোলনের জোনায়েদ সাকি ও গণঅধিকার পরিষদের নুরুল হক নুর প্রতিমন্ত্রী হয়েছেন। এছাড়া এনডিএম থেকে বিএনপিতে যোগ দেওয়া ববি হাজ্জাজ এবং নাগরিক ঐক্য থেকে পদত্যাগকারী ডা. জাহেদ উর রহমানও সরকারের গুরুত্বপূর্ণ পদে রয়েছেন।
তবে গণতন্ত্র মঞ্চ, ১২ দলীয় জোট ও জাতীয়বাদী সমমনা জোটের অনেক শরিক দল এখনো কোনো পদ পায়নি। জেএসডি, বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টি, ভাসানী অনুসারী পরিষদ ও রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলনের মতো দলগুলোর নেতারা এখনো বঞ্চিত। জমিয়তে উলামায়ে ইসলামও তাদের অবমূল্যায়নের অভিযোগ তুলেছে। জমিয়তের সভাপতি মাওলানা উবায়দুল্লাহ ফারুক জানান, নির্বাচনের পর বিএনপির সঙ্গে তাদের কোনো যোগাযোগ বা বৈঠক হয়নি। এই ক্ষোভের কারণে সোমবার রাতে প্রধানমন্ত্রীর আয়োজিত নৈশভোজে দাওয়াত থাকা সত্ত্বেও জমিয়তের নেতারা অংশ নেননি।
বিএনপির সঙ্গে যুগপৎ আন্দোলনে থাকা ব্যারিস্টার আন্দালিব রহমান পার্থ এমপি নির্বাচিত হলেও সরকারের কোনো পদ পাননি, যা নিয়েও তার দলের মধ্যে অসন্তোষ রয়েছে। এছাড়া ১২ দলীয় জোটের অনেক দল ভেঙে বিলুপ্ত হয়েছে বা অন্য জোটে যোগ দিয়েছে। সব মিলিয়ে শরিকদের প্রাপ্তি-অপ্রাপ্তির জটিল সমীকরণে বিএনপি এখন তাদের সম্পর্ক পুনরুদ্ধারের চেষ্টা করছে।
আপনার মতামত লিখুন :