Facebook Twitter Instagram YouTube

পরীক্ষা পদ্ধতি নিয়ে মুখ খুললেন মোদি, স্থগিত ‘তেলাপোকা’দের মিছিল


প্রকাশের সময় : জুলাই ২১, ২০২৬, ৫:১৭ অপরাহ্ণ / ০
পরীক্ষা পদ্ধতি নিয়ে মুখ খুললেন মোদি, স্থগিত ‘তেলাপোকা’দের মিছিল

জাতীয় পর্যায়ের পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসকে কেন্দ্র করে চলমান তীব্র বিক্ষোভের মুখে প্রথমবারের মতো মুখ খুলেছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। মঙ্গলবার তিনি দেশজুড়ে একটি ত্রুটিমুক্ত ও নির্ভুল পাবলিক পরীক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তোলার প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দিয়ে এ বিষয়ে কাজ করার আহ্বান জানিয়েছেন।

এর আগে গত মে মাসে মেডিকেল কলেজে ভর্তির জাতীয় পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনা ঘটে, যা দেশজুড়ে প্রায় ২০ লাখ শিক্ষার্থীর ওপর বিরূপ প্রভাব ফেলে। আন্দোলনকারীদের দাবি, এ ঘটনার জেরে বেশ কয়েকজন শিক্ষার্থী আত্মহত্যাও করেছেন। এই পরিস্থিতিতে সোমবার হাজারো তরুণ-তরুণী শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবিতে সংসদ অভিমুখে মিছিল করেন। এ সময় পুলিশের সঙ্গে বিক্ষোভকারীদের ব্যাপক সংঘর্ষ হয়। দিল্লি পুলিশের ভাষ্যমতে, এই সংঘর্ষে ১১৮ জন পুলিশ ও নিরাপত্তা সদস্য এবং ৬০ জন বিক্ষোভকারীসহ অন্তত ১৮০ জন আহত হয়েছেন। অন্যদিকে, ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ (সিজেপি) নামক আন্দোলনের প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দিপকের দাবি অনুযায়ী, আহতদের মধ্যে ১৫০ জনের বেশি বিক্ষোভকারী হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। পুলিশ এ সময় বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে লাঠিচার্জ ও টিয়ার গ্যাস ব্যবহার করে।

ঘটনার পর সংসদীয় বিষয়ক মন্ত্রী কিরেন রিজিজু জানান, সরকার মে মাসের প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগ পাওয়ার পর থেকেই দ্রুত ব্যবস্থা নিয়েছে। এখন পর্যন্ত ১৩ জনকে গ্রেপ্তার করে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। পাশাপাশি পুনঃপরীক্ষা সফলভাবে অনুষ্ঠিত হয়েছে এবং ফল প্রকাশেও কোনো দেরি হয়নি বলে উল্লেখ করেছেন প্রধানমন্ত্রী। মোদি আরও বলেছেন, যুবসমাজের ভবিষ্যৎ রক্ষায় সবাইকে একযোগে কাজ করতে হবে এবং দোষীদের শাস্তির আওতায় এনে এমন ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে যাতে ভবিষ্যতে পুনরায় প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনা না ঘটে।

এদিকে, মঙ্গলবার সিজেপি জানিয়েছে যে তারা সরকারবিরোধী আন্দোলন চালিয়ে গেলেও আপাতত সংসদ অভিমুখে আর কোনো মিছিল করবে না, কারণ তারা পুনরায় পুলিশি হামলার আশঙ্কা করছে। দিল্লির জন্তর মন্তরে মঙ্গলবার প্রায় ৫০০ জন বিক্ষোভকারী জড়ো হয়ে স্লোগান দেন। সেখানে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে এবং আধাসামরিক বাহিনীর সদস্যরা টহল দিচ্ছেন। অভিজিৎ দিপক জানিয়েছেন, তিনি বিশেষ করে নারী সমর্থকদের ওপর পুরুষ পুলিশ সদস্যদের হামলার ঘটনায় দুঃখ প্রকাশ করেছেন। তবে দিল্লি পুলিশের অভিযোগ, বিক্ষোভকারীরা নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে সহিংস আচরণ করেছে।

আন্দোলনটি পরিবেশবাদী ও সমাজকর্মী সোনম ওয়াংচুকের সমর্থনের পর নতুন গতি পায়। গত ২৮ জুন থেকে অনশনরত ওয়াংচুককে শনিবার পুলিশ জোরপূর্বক হাসপাতালে নিয়ে যায়। মঙ্গলবার দিল্লি হাইকোর্ট তাকে সরকারি হাসপাতাল থেকে একটি বেসরকারি হাসপাতালে স্থানান্তরের অনুমতি দিয়েছে। সিজেপির দাবি অনুযায়ী, সোমবার স্বাস্থ্যমন্ত্রী জে.পি. নাড্ডার সঙ্গে বৈঠকের পর সরকার তাদের দাবিগুলো নিয়ে আলোচনার আশ্বাস দিয়েছে। তাদের তিন দফা দাবির মধ্যে রয়েছে সোনম ওয়াংচুকের মুক্তি, শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ এবং ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীদের পরিবারকে এক কোটি রুপি ক্ষতিপূরণ প্রদান। নাড্ডা মঙ্গলবার আহত বিক্ষোভকারীদের দেখতে হাসপাতালে যান। বিশ্লেষকদের মতে, সিজেপির এই আন্দোলন মূলত তরুণ প্রজন্মের ক্রমবর্ধমান হতাশা ও শিক্ষা ব্যবস্থায় দুর্নীতির বিরুদ্ধে ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ।

কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Manab Zamin