Facebook Twitter Instagram YouTube

২০৩৪ সালের মধ্যে ট্রিলিয়ন ডলার অর্থনীতি গড়ার পরিকল্পনা সরকারের


প্রকাশের সময় : সেপ্টেম্বর ৫, ২০২৬, ৬:০১ পূর্বাহ্ণ /
২০৩৪ সালের মধ্যে ট্রিলিয়ন ডলার অর্থনীতি গড়ার পরিকল্পনা সরকারের

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, চলতি দশকে রপ্তানি, বিনিয়োগ এবং আর্থিক শৃঙ্খলার মাধ্যমে বাংলাদেশের অর্থনীতির আকার দ্বিগুণ করার লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে সরকার। ২০৩৪ সালের মধ্যে দেশকে ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতিতে পরিণত করার এই লক্ষ্য কোনো স্লোগান নয়, বরং এটি একটি সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা। বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) ইস্টার্ন রিফাইনারি লিমিটেডের (ইআরএল) আধুনিকায়ন ও সম্প্রসারণ প্রকল্পে ইসলামি উন্নয়ন ব্যাংকের (আইএসডিবি) অর্থায়ন চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন। এই চুক্তির আওতায় আইএসডিবি প্রায় ১০০ কোটি মার্কিন ডলার বা ১,০০৪.২৯ মিলিয়ন ডলার অর্থায়ন করবে।

অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী জানান, তার সরকারের মূল লক্ষ্য হলো বাংলাদেশকে একটি উৎপাদনকেন্দ্র এবং এ অঞ্চলের প্রবেশদ্বারে পরিণত করা। তিনি বলেন, পোশাকশিল্পের সাফল্যের পর এখন ইলেকট্রনিকস, ওষুধশিল্প, হালকা প্রকৌশল এবং সবুজ শিল্পের মাধ্যমে প্রবৃদ্ধির নতুন গল্প তৈরি করতে চায় বাংলাদেশ। তিনি এমন কর্মসংস্থান সৃষ্টির ওপর গুরুত্বারোপ করেন যা মানুষের মর্যাদা নিশ্চিত করবে। সরকারের সামাজিক সুরক্ষা উদ্যোগ হিসেবে ফ্যামিলি কার্ড ও কৃষক কার্ডের কথা উল্লেখ করে তিনি জানান, হেলথ কার্ড প্রবর্তনের কাজও প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

আইএসডিবি’র সঙ্গে অংশীদারত্বকে আরও উদ্ভাবনী ও ফলভিত্তিক করার প্রত্যাশা ব্যক্ত করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এটি শুধু একটি আর্থিক লেনদেন নয়, বরং বাংলাদেশের প্রতি ব্যাংকের আস্থার বহিঃপ্রকাশ। তিনি আইএসডিবি গ্রুপের চেয়ারম্যান ড. মুহাম্মদ আল জাসেরের নেতৃত্বের প্রশংসা করেন এবং তার দ্বিতীয় মেয়াদে আরও বড় সাফল্যের আশা প্রকাশ করেন। প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ ও আইএসডিবি’র সম্পর্ক আস্থা ও সংহতির ওপর ভিত্তি করে নির্মিত।

এই প্রকল্পটি জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের অধীনে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশন (বিপিসি) বাস্তবায়ন করবে। প্রকল্পটি যথাযথভাবে বাস্তবায়িত হলে বিপিসির বর্তমান পরিশোধন ক্ষমতা ১ দশমিক ৫ মিলিয়ন মেট্রিক টন থেকে বেড়ে ৪ দশমিক ৫ মিলিয়ন মেট্রিক টনে উন্নীত হবে। এতে দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা আরও শক্তিশালী হবে, পরিবেশবান্ধব (ইউরো-৫ মানসম্পন্ন) পেট্রোলিয়াম তেল উৎপাদন বাড়বে এবং আমদানিকৃত পরিশোধিত জ্বালানি তেলের ওপর নির্ভরতা কমবে, যা দীর্ঘমেয়াদে দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতায় গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবে।

চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের অতিরিক্ত সচিব ড. মো. মিজানুর রহমান এবং আইএসডিবি’র কান্ট্রি প্রোগ্রামস ডিরেক্টর আনাসি আইসামি নিজ নিজ প্রতিষ্ঠানের পক্ষে চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন। প্রধানমন্ত্রীর উপ-প্রেস সচিব মোস্তফা জুলফিকার হাসান এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Dainik Ei Din