
প্রকাশ: ০৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০:০৯ পিএম। সংকটে পড়া ব্যাংকের পুরোনো শেয়ারধারীদের শর্তসাপেক্ষে পুনরায় সেই ব্যাংকের শেয়ার, সম্পদ ও দায় নেওয়ার সুযোগ রেখে ব্যাংক রেজল্যুশন আইনে যে ধারা যুক্ত করা হয়েছিল, তা বাতিলের সুপারিশ করেছে অর্থ মন্ত্রণালয়-সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটি। কমিটি বিলটি পর্যালোচনা ও যাচাই-বাছাই শেষে সংশোধিত আকারে সংসদে পাশের জন্য সুপারিশ করেছে।
অর্থ মন্ত্রণালয়-সম্পর্কিত সংসদীয় কমিটির সভাপতি মুশফিকুর রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই বৈঠকে কমিটির সদস্য ও অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম মনি এবং কমিটির সদস্য মঈনুল ইসলাম খান, শাহাদাত হোসেন, সাইফুল আলম খান মিলন ও সৈয়দ জয়নুল আবেদীন উপস্থিত ছিলেন।
উল্লেখ্য, অন্তর্বর্তী সরকারের সময় জারি করা ব্যাংক রেজল্যুশন অধ্যাদেশে একীভূত হওয়া ব্যাংকের পুরোনো ও বিতর্কিত মালিকদের ফেরার কোনো সুযোগ ছিল না। পরবর্তীতে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনে ওই অধ্যাদেশকে আইনে রূপান্তরের সময় একটি বিতর্কিত ধারা যুক্ত করা হয়, যা নিয়ে সংসদ ও সংসদের বাইরে ব্যাপক সমালোচনা হয়। উন্নয়ন সহযোগীরাও এই ধারার বিষয়ে আপত্তি জানিয়েছিলেন।
সবার আপত্তির মুখে গত ১০ আগস্ট মন্ত্রিসভার বৈঠকে আইনের ১৮(ক) ধারাটি বাতিলের সিদ্ধান্ত হয়। এরপর বৃহস্পতিবার অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী সংশোধনী বিলটি সংসদে উত্থাপন করেন। বিলটি দুই কার্যদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন দেওয়ার শর্তে সংসদীয় কমিটিতে পাঠানো হয়েছিল।
কমিটির সদস্য ও জামায়াতের এমপি সাইফুল আলম খান মিলন জানিয়েছেন, বৈঠকের এজেন্ডায় কেবল ১৮(ক) ধারা বাতিলের বিষয়টিই ছিল। তিনি বলেন, আইএমএফ ঋণের শর্ত হিসেবে এই ধারাটি বাতিলের কথা বলেছে এবং আইনের এই পরিবর্তনের বিষয়ে কমিটি একমত। আগামীকালের সংসদ অধিবেশনে বিলটি উত্থাপন করা হলে তা পাস হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
সাইফুল আলম আরও বলেন, দেশের আর্থিক খাতের নাজুক পরিস্থিতির কারণে সরকারকে অত্যন্ত সতর্কতার সাথে সিদ্ধান্ত নিতে হবে। তিনি পুরো ব্যাংক রেজল্যুশন ২০২৬ আইনটি পর্যালোচনার পরামর্শ দিয়ে বলেন, একীভূত হওয়া পাঁচটি ব্যাংকের ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুযায়ী স্বতন্ত্র প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে সম্পদ ও দায়বদ্ধতা যাচাই করা প্রয়োজন।
আপনার মতামত লিখুন :