Facebook Twitter Instagram YouTube

পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত হতে হবে বহুজাতিক কোম্পানিগুলোকে: বিএসইসি চেয়ারম্যান


প্রকাশের সময় : সেপ্টেম্বর ৫, ২০২৬, ১১:৩১ অপরাহ্ণ / ০ Views
পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত হতে হবে বহুজাতিক কোম্পানিগুলোকে: বিএসইসি চেয়ারম্যান

বাংলাদেশে ব্যবসা পরিচালনাকারী বহুজাতিক কোম্পানিগুলোকে অবশ্যই পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত হতে হবে বলে স্পষ্ট বার্তা দিয়েছেন বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) চেয়ারম্যান মাসুদ খান। শুক্রবার ক্যাপিটাল মার্কেট জার্নালিস্ট ফোরামের (সিএমজেএফ) সদস্যদের জন্য আয়োজিত ‘ক্যাপিটাল মার্কেট প্রোডাক্ট অ্যান্ড রুলস’ বিষয়ক কর্মশালার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন।

মাসুদ খান বলেন, এসব কোম্পানিকে প্রথমে স্বতঃপ্রণোদিতভাবে পুঁজিবাজারে আসার জন্য উৎসাহিত করা হবে। তবে তারা যদি সাড়া না দেয়, তবে জনস্বার্থে আইনগত ক্ষমতা প্রয়োগ করার সুযোগ কমিশনের হাতে রয়েছে। তিনি আরও বলেন, বড় দেশীয় ও বহুজাতিক কোম্পানিগুলোকে দ্রুত পুঁজিবাজারে আনতে না পারলে বাজারের প্রত্যাশিত উন্নয়ন সম্ভব নয়। আগামী ছয় মাস থেকে এক বছরের মধ্যে কয়েকটি ফ্ল্যাগশিপ কোম্পানিকে বাজারে আনার লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে বিএসইসি।

বিএসইসি চেয়ারম্যান জানান, ‘পাবলিক ইন্টারেস্ট কোম্পানি-পিআইসি’র সংজ্ঞা নির্ধারণ করে সিকিউরিটিজ আইনের মাধ্যমে নির্দিষ্ট কোম্পানিকে তালিকাভুক্ত হওয়ার নির্দেশ দেওয়ার আইনি সুযোগ রয়েছে। তিনি কোম্পানিগুলোকে উদ্দেশ্য করে বলেন, তালিকাভুক্ত হলে করপোরেট ইমেজ বৃদ্ধির পাশাপাশি বাজারমূল্য নির্ধারিত হয়, যা অধিগ্রহণ বা একীভূতকরণে সহায়ক। এছাড়া পারিবারিক ব্যবসার ক্ষেত্রে প্রজন্ম পরিবর্তনের সময় বিরোধ এড়াতে এবং অংশীদারদের শেয়ার বিক্রির সুযোগ তৈরির জন্য পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্তি কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে।

পুঁজিবাজারে বড় কোম্পানিগুলোকে দ্রুত আনার লক্ষ্যে সরাসরি তালিকাভুক্তি ও হাইব্রিড পদ্ধতি চালুর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে বলে জানান মাসুদ খান। তার মতে, প্রচলিত আইপিও প্রক্রিয়ায় অনেক সময় লাগে, তাই সরাসরি তালিকাভুক্তির সুযোগ বাড়ানো হচ্ছে। পাশাপাশি আইপিও প্রক্রিয়া সহজ করতে ‘এক্সটেন্ডেড অডিট’ চালুর পরিকল্পনা রয়েছে, যেখানে শুধু হিসাব বিবরণী নয়, বরং কোম্পানির সম্পদ, যন্ত্রপাতি ও মজুতপণ্যের তথ্যের বাস্তবতা যাচাই করা হবে।

বাজারকে টেকসই করতে প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগ বাড়ানোর ওপর জোর দিয়ে তিনি বলেন, প্রভিডেন্ট ফান্ড ও অন্যান্য তহবিলের অর্থ শেয়ারবাজারের পাশাপাশি করপোরেট বন্ডে বিনিয়োগের সুযোগ বাড়ানো হবে। এছাড়া আন্তর্জাতিক সূচক প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান এমএসসিআই বাংলাদেশের বাজার নিয়ে বিশেষ ব্যবস্থা প্রত্যাহারের পথে রয়েছে এবং ২০২৬ সালের নভেম্বর থেকে নিয়মিত পর্যালোচনা ও করপোরেট ইভেন্ট বাস্তবায়ন আবার শুরু হবে। একই সঙ্গে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) ক্ষমতায়ন, আধুনিক তদারকি ব্যবস্থা ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক সার্ভেইলেন্স চালুর উদ্যোগের কথাও তিনি তুলে ধরেন।

কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Manab Zamin