Facebook Twitter Instagram YouTube

যুক্তরাষ্ট্রের বেসামরিক পারমাণবিক সহযোগিতার প্রস্তাবে ইতিবাচক বাংলাদেশ সরকার


প্রকাশের সময় : আগস্ট ৪, ২০২৬, ৮:৩১ পূর্বাহ্ণ / ০
যুক্তরাষ্ট্রের বেসামরিক পারমাণবিক সহযোগিতার প্রস্তাবে ইতিবাচক বাংলাদেশ সরকার

বাংলাদেশের সঙ্গে বেসামরিক পারমাণবিক সহযোগিতা নতুন করে শুরু করার আগ্রহ প্রকাশ করেছে যুক্তরাষ্ট্র। ওয়াশিংটনের পক্ষ থেকে আসা এই প্রস্তাবে ইতিবাচক সাড়া দিয়েছে সরকার। সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, যদি যেকোনো চুক্তি বাংলাদেশের জনগণের স্বার্থে হয়, তবে তা এগিয়ে নিতে তাদের কোনো আপত্তি নেই।

দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়াবিষয়ক মার্কিন প্রেসিডেন্সিয়াল বিশেষ দূত সার্জিও গরের সদ্যসমাপ্ত তিনদিনের ঢাকা সফরে এই বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে আলোচনার টেবিলে উঠে আসে। সফরকালে তিনি পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমানের সঙ্গে বৈঠকের পাশাপাশি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন। এই সাক্ষাতের সময় তিনি বেসামরিক পারমাণবিক সহযোগিতার জন্য নতুন একটি সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) সইয়ের প্রস্তাব দেন বলে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বশীল একাধিক সূত্র নিশ্চিত করেছে।

প্রস্তাবিত এই সমঝোতা স্মারক সম্পর্কে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ বলেন, সরকারের অবস্থান ইতিবাচক। তিনি স্পষ্ট করেন যে, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যেকোনো চুক্তি যদি দেশের মানুষের স্বার্থে হয়, তবে সরকার অবশ্যই তা এগিয়ে নেবে। তবে যদি তা জনগণের স্বার্থের পরিপন্থি হয়, তবে সেটি পুনর্বিবেচনা করা হবে।

কূটনৈতিক সূত্রগুলো বলছে, এটি সম্পূর্ণ নতুন কোনো উদ্যোগ নয়। বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্র ১৯৮১ সালে প্রথম বেসামরিক পারমাণবিক সহযোগিতা চুক্তি করেছিল, যা ১৯৯১ সালে নবায়ন করা হয়। তবে পরবর্তী সময়ে আর নবায়ন না হওয়ায় চুক্তিটির মেয়াদ শেষ হয়ে যায়। বর্তমান প্রস্তাবের মূল লক্ষ্য হলো সেই সহযোগিতা কাঠামোকে নতুন আইনি ভিত্তির আওতায় পুনরুজ্জীবিত করা। যদিও প্রস্তাবিত এমওইউ’র খসড়া বা বিস্তারিত এখন পর্যন্ত প্রকাশ করা হয়নি, তবে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, এর মাধ্যমে বেসামরিক পারমাণবিক খাতে দুই দেশের সহযোগিতা অব্যাহত রাখার আইনি ভিত্তি তৈরি হবে এবং সহযোগিতার ক্ষেত্র আরও বিস্তৃত হতে পারে। তবে এই সহযোগিতা কেবল শান্তিপূর্ণ ও বেসামরিক ব্যবহারের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে।

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, এ ধরনের চুক্তি শান্তিপূর্ণ পারমাণবিক প্রযুক্তি, যন্ত্রপাতি, গবেষণা-সংক্রান্ত তথ্য এবং প্রয়োজনীয় উপকরণ বিনিময়ের সুযোগ সৃষ্টি করে। তবে এই বিনিময় পারমাণবিক অস্ত্র বিস্তাররোধ-সংক্রান্ত আন্তর্জাতিক বিধিবিধানের আওতায় পরিচালিত হয়। যুক্তরাষ্ট্রে এসব চুক্তি ‘১২৩ অ্যাগ্রিমেন্ট’ নামে পরিচিত, যা দেশটির অ্যাটমিক এনার্জি অ্যাক্টের ১২৩ নম্বর ধারা থেকে এসেছে। মার্কিন জ্বালানি বিভাগের তথ্যমতে, ২০২৫ সালের ১১ই জুলাই পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রের ২৬টি বেসামরিক পারমাণবিক সহযোগিতা চুক্তি ৫০টি দেশের সঙ্গে কার্যকর রয়েছে।

সার্জিও গরের এই সফরে পারমাণবিক সহযোগিতার পাশাপাশি বাণিজ্য সহযোগিতার বিষয়টিও গুরুত্ব পেয়েছে। বাংলাদেশ পারস্পরিক বাণিজ্য চুক্তি (এআরটি) বাস্তবায়নের পথে থাকা বিভিন্ন প্রতিবন্ধকতার কথা উল্লেখ করেছে। এর মধ্যে বি-১ ও বি-২ ভিসা আবেদনকারীদের জন্য ২০ হাজার ডলারের ভিসা বন্ডের শর্তটিকে বাংলাদেশ ‘অশুল্ক বাণিজ্য প্রতিবন্ধকতা’ হিসেবে দেখছে। ঢাকার মতে, এই শর্ত বাংলাদেশি ব্যবসায়ী ও পর্যটকদের যুক্তরাষ্ট্র সফরকে নিরুৎসাহিত করবে এবং বাণিজ্যিক যোগাযোগ ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে। তাই এই সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার অনুরোধ জানিয়েছে ঢাকা। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের মতে, সার্জিও গরের সফরের মূল লক্ষ্য ছিল বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্পর্ক আরও এগিয়ে নেওয়া, আর বেসামরিক পারমাণবিক সহযোগিতার প্রস্তাবটিও সেই বৃহত্তর অর্থনৈতিক ও কৌশলগত সম্পর্কের অংশ।

কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Manab Zamin