Facebook Twitter Instagram YouTube

ইরানে মার্কিন হামলা, জবাবে কুয়েত ও জর্ডানে ইরানের পাল্টা আঘাত


প্রকাশের সময় : জুলাই ৩১, ২০২৬, ৬:৩৯ পূর্বাহ্ণ / ০
ইরানে মার্কিন হামলা, জবাবে কুয়েত ও জর্ডানে ইরানের পাল্টা আঘাত

মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি নতুন করে উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে। পাঁচ দিন বিরতির পর বুধবার রাতে ইরানে বড় ধরনের হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। এই হামলার প্রতিক্রিয়ায় ইরান কুয়েত ও জর্ডানকে লক্ষ্য করে পাল্টা হামলা শুরু করেছে। একই সঙ্গে ফিলিস্তিনের গাজা, লেবানন ও সিরিয়াতেও ইসরায়েলি হামলার ঘটনা ঘটেছে, যার ফলে মধ্যপ্রাচ্যের একটি বড় অংশজুড়ে সংঘাত ছড়িয়ে পড়েছে। পাল্টাপাল্টি হুমকি পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে।

সংঘাতের নতুন এই পর্যায়ে বুধবার দিনের বেলা প্রথমবারের মতো যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যৌথভাবে ইরাকে হামলা চালিয়েছে সৌদি আরব। পাশাপাশি ইয়েমেনের সশস্ত্র গোষ্ঠী হুতিদের হামলার মুখে পড়েছে সৌদি আরব। একই দিনে মিসরের বন্দরে দুটি জাহাজ আক্রান্ত হয়েছে এবং বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহনের পথ হরমুজ ও বাব আল-মানদেব প্রণালি ঘিরে নতুন করে উত্তেজনা দেখা দিয়েছে। কয়েক দিন আগে পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতির আশা জাগলেও নতুন হামলা সেই সম্ভাবনাকে ধূলিসাৎ করে দিয়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প হামলার আগে ফক্স নিউজকে বলেছিলেন, ইরানকে কঠিন শাস্তি পেতে হবে। হামলার পর ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড কোর (আইআরজিসি) জানিয়েছে, মার্কিন হুমকি অব্যাহত থাকলে তেহরান নিজেদের রক্ষায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে।

জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস এই পরিস্থিতিতে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তাঁর মুখপাত্র ফারহান হক জানিয়েছেন, আলোচনা ব্যর্থ হওয়ায় সংঘাত আরও বিস্তৃত হওয়ার আশঙ্কা সত্য হতে চলেছে। ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরান যুদ্ধ শুরুর পর ৮ এপ্রিল প্রথম যুদ্ধবিরতি হয়। এরপর ১৭ জুন একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হলেও হরমুজ বিরোধের জেরে তা কার্যত অকার্যকর হয়ে পড়ে। ৭ জুলাই থেকে ১৩ দিন টানা পাল্টাপাল্টি হামলার পর পাঁচ দিনের বিরতি ছিল। তবে জর্ডানে মার্কিন ঘাঁটিতে হামলার জের ধরে বুধবার রাতে যুক্তরাষ্ট্র আবার হামলা শুরু করে। সেন্ট্রাল কমান্ড জানিয়েছে, জর্ডানে হামলার প্রতিশোধ নিতেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। বর্তমানে ওই অঞ্চলে ৫০ হাজারের বেশি মার্কিন সেনা মোতায়েন রয়েছে।

এই হামলায় ক্ষয়ক্ষতির তথ্য প্রকাশ করেছে ইরানি গণমাধ্যম। এর মধ্যে কেশম দ্বীপে তিন বেসামরিক নাগরিক এবং জানজান প্রদেশে আইআরজিসির তিন সদস্য নিহত হয়েছেন। এছাড়া বুশেহর প্রদেশের বুশেহর, জাম ও খোরমোজ শহর, খুজেস্তান প্রদেশের আহভেজ শহর, ফারস প্রদেশের বিভিন্ন এলাকা, হোরমোজগান প্রদেশের বন্দর আব্বাস এবং কিশ দ্বীপ আক্রান্ত হয়েছে। গবেষক ট্রিটা পারসি এই হামলার সমালোচনা করে বলেছেন, এটি একটি ভুল সিদ্ধান্ত, কারণ এর মাধ্যমে ইরানকে আলোচনার টেবিলে ফেরানো সম্ভব হয়নি।

বুধবার রাতের হামলার পর আইআরজিসি কুয়েতের আলী-আল-সালেম সামরিক ঘাঁটিতে হামলা চালিয়েছে বলে দাবি করেছে। তাদের ভাষ্যমতে, এতে ড্রোন রাখার দুটি হ্যাঙ্গার ও একটি জ্বালানি ট্যাংক ধ্বংস হয়েছে। তবে কুয়েত সরকার জানিয়েছে, ইরানের হামলায় একটি বেসামরিক চীনা প্রতিষ্ঠানের ভবন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং এক শ্রমিক নিহত হয়েছেন। এছাড়া জর্ডানের আল-আজরাক বিমানঘাঁটিতে ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় তিনটি মার্কিন এফ-৩৫ যুদ্ধবিমান ধ্বংস ও আরও তিনটি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার দাবি করেছে আইআরজিসি, যদিও মার্কিন বাহিনী এই দাবি অস্বীকার করেছে।

এদিকে লেবাননের হিজবুল্লাহকে নির্মূলের লক্ষ্যে ইসরায়েলের হামলা অব্যাহত রয়েছে। দক্ষিণ লেবাননের বিভিন্ন গ্রামে বোমাবর্ষণ করা হয়েছে এবং সিরিয়ার কুনেইতরা এলাকাতেও হামলা চালানো হয়েছে। গাজায় ইসরায়েলি নৃশংসতা অব্যাহত রয়েছে, যেখানে বৃহস্পতিবার পর্যন্ত মৃতের সংখ্যা ৭৩ হাজার ৩৪১ জনে পৌঁছেছে। পাকিস্তানসহ বিভিন্ন দেশ শান্তি ফেরানোর চেষ্টা চালালেও কোনো পক্ষই আলোচনার মাধ্যমে যুদ্ধ বন্ধের বিষয়ে এখনো একমত হতে পারেনি।

কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Prothom Alo