Facebook Twitter Instagram YouTube

আদানির বিদ্যুৎকেন্দ্রের ইউনিট বন্ধ, দেশে লোডশেডিংয়ের তীব্রতা বৃদ্ধি


প্রকাশের সময় : সেপ্টেম্বর ১১, ২০২৬, ৩:৩১ অপরাহ্ণ /
আদানির বিদ্যুৎকেন্দ্রের ইউনিট বন্ধ, দেশে লোডশেডিংয়ের তীব্রতা বৃদ্ধি

কয়লা স্বল্পতার কারণে গত এক মাস ধরে আদানির বিদ্যুৎকেন্দ্রটি সীমিত পরিসরে বিদ্যুৎ উৎপাদন করছিল। কয়লা সরবরাহ বাড়ার পরিপ্রেক্ষিতে গত ১০ সেপ্টেম্বর বৃহস্পতিবার সন্ধ্যার পর থেকে উৎপাদন বাড়তে শুরু করেছিল। কিন্তু হঠাৎ করে রাত ১২টার দিকে কারিগরি ত্রুটির কবলে পড়ে কেন্দ্রটির একটি ইউনিট বন্ধ হয়ে যায়। এর ফলে সামগ্রিক উৎপাদন কমে যাওয়ায় দেশজুড়ে লোডশেডিংয়ের হার বৃদ্ধি পেয়েছে।

বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (পিডিবি) ও পাওয়ার গ্রিড কোম্পানি সূত্রে জানা যায়, বৈরী আবহাওয়ার কারণে কয়লা সরবরাহ ব্যাহত হওয়ায় গত ৭ আগস্ট থেকে কেন্দ্রটির উৎপাদন কমে গিয়েছিল। তবে মাসের শেষ দিকে উৎপাদন বাড়িয়ে দিনের বেলায় ৯০০ মেগাওয়াট এবং সন্ধ্যা থেকে রাত ১২টা পর্যন্ত ১ হাজার ২০০ মেগাওয়াট পর্যন্ত সরবরাহ করা সম্ভব হয়েছিল। এমনকি গতকাল রাতে উৎপাদন ১ হাজার ৪০০ মেগাওয়াট ছাড়িয়ে গিয়েছিল। বর্তমানে একটি ইউনিট বন্ধ থাকায় উৎপাদন ৭৫০ মেগাওয়াটের নিচে নেমে এসেছে।

ভারতের ঝাড়খন্ড রাজ্যে অবস্থিত ১ হাজার ৬০০ মেগাওয়াট ক্ষমতার এই বিদ্যুৎকেন্দ্রটি ২০১৭ সালে পিডিবির সাথে চুক্তির আওতায় আনা হয়। কেন্দ্রটিতে ৮০০ মেগাওয়াট ক্ষমতার দুটি ইউনিট রয়েছে এবং চাহিদা অনুযায়ী দেড় হাজার মেগাওয়াটের বেশি বিদ্যুৎ সরবরাহের রেকর্ডও রয়েছে এর। বিদ্যুৎকেন্দ্রের দায়িত্বশীল দুজন কর্মকর্তা জানান, বয়লারে সমস্যা দেখা দিয়েছে। এটি শীতল হতে ৪৮ ঘণ্টা সময় লাগতে পারে এবং এরপর ত্রুটি মেরামতের কাজ শুরু হবে। তাই স্বাভাবিক উৎপাদন ফিরতে কয়েক দিন সময় লাগার সম্ভাবনা রয়েছে।

পিডিবি সূত্রে আরও জানা যায়, দীর্ঘ দুই মাসের বেশি সময় ধরে দেশে গ্যাসের তীব্র সংকট চলছে, যার ফলে গ্যাসভিত্তিক বিদ্যুৎ উৎপাদন দেড় হাজার মেগাওয়াট পর্যন্ত হ্রাস পেয়েছে। পাশাপাশি কয়লাস্বল্পতা ও কারিগরি ত্রুটির কারণে অন্যান্য কেন্দ্রও পূর্ণ সক্ষমতায় চলতে পারছে না। এর মধ্যে পটুয়াখালীর পায়রা বিদ্যুৎকেন্দ্রের একটি ইউনিট কারিগরি কারণে বন্ধ রয়েছে, পটুয়াখালীর অপর একটি কেন্দ্র ও বাগেরহাটের রামপাল বিদ্যুৎকেন্দ্রেও কয়লা সংকটের কারণে উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে।

জ্বালানি তেল থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদন বাড়িয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করা হলেও গরম বাড়ার কারণে লোডশেডিং সামাল দেওয়া যাচ্ছে না। গতকাল বেলা তিনটায় সর্বোচ্চ ৩ হাজার ৫৫৭ মেগাওয়াট লোডশেডিং হয়েছিল এবং আজ ছুটির দিনেও সারাদেশে আড়াই হাজার মেগাওয়াটের বেশি লোডশেডিং হচ্ছে।

কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Daily Bangladesh