Facebook Twitter Instagram YouTube

যবিপ্রবিতে শিক্ষার্থী ও সাংবাদিক হেনস্তার দুই মাসেও মেলেনি বিচার


প্রকাশের সময় : সেপ্টেম্বর ১১, ২০২৬, ৯:০৭ অপরাহ্ণ /
যবিপ্রবিতে শিক্ষার্থী ও সাংবাদিক হেনস্তার দুই মাসেও মেলেনি বিচার

যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (যবিপ্রবি) ফুটবল বিশ্বকাপের খেলা দেখাকে কেন্দ্র করে শিক্ষার্থী মারধর এবং ঘটনার ভিডিও ধারণ করতে গিয়ে সাংবাদিকদের হেনস্তা করার দুই মাস পেরিয়ে গেলেও কোনো দৃশ্যমান ব্যবস্থা নেয়নি বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। এ ঘটনায় গঠিত তদন্ত কমিটি তাদের প্রতিবেদন জমা দিলেও তা প্রকাশ করা হয়নি। বিচার না হওয়ায় অভিযুক্তরা আরও বেপরোয়া হয়ে উঠেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। সর্বশেষ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সাংবাদিকদের প্রকাশ্যে মারধরের হুমকি দেওয়ার পর ক্যাম্পাসে কর্মরত সাংবাদিকদের মধ্যে চরম নিরাপত্তাহীনতা তৈরি হয়েছে। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে নিরাপত্তা চেয়ে থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন সাংবাদিকরা।

গত ৭ জুলাই বিশ্বকাপ ফুটবলের খেলা দেখাকে কেন্দ্র করে যবিপ্রবির অ্যাকাউন্টিং অ্যান্ড ইনফরমেশন সিস্টেমস (এআইএস) বিভাগের শিক্ষার্থী মো. সাইফুল্লাহকে মারধর এবং পেশাগত দায়িত্ব পালনকালে সাংবাদিকদের হেনস্তা করার অভিযোগ ওঠে। ঘটনার পর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রকৌশল ও প্রযুক্তি অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. ইঞ্জি. ইমরান খানকে আহ্বায়ক করে পাঁচ সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে প্রশাসন। কমিটি যথাসময়ে প্রতিবেদন জমা দিলেও এবং এর মধ্যে রিজেন্ট বোর্ডের সভা অনুষ্ঠিত হলেও তদন্তের ফলাফল বা সুপারিশ এখনো প্রকাশ করা হয়নি।

ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী মো. সাইফুল্লাহ বলেন, গত ৭ জুলাই তিনি একটি নির্মম হামলার শিকার হন, যার প্রত্যক্ষদর্শী ছিলেন স্বয়ং প্রক্টর এবং ঘটনার ভিডিও প্রমাণও রয়েছে। প্রশাসনের ওপর আস্থা রেখে সেদিন তারা কোনো পাল্টা সংঘর্ষে জড়াননি। কিন্তু লিখিত অভিযোগ দেওয়ার দুই মাস পার হলেও কোনো কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। তিনি প্রতিশোধ নয়, বরং নিরপেক্ষ তদন্ত ও ন্যায়বিচার চান। প্রশাসনের এমন নীরবতা কোনোভাবেই কাম্য নয় বলে তিনি মন্তব্য করেন।

সেদিন পেশাগত দায়িত্ব পালনের অংশ হিসেবে ভিডিও করতে গিয়ে হেনস্তার শিকার হন দৈনিক জনকণ্ঠের বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি ইমরান হোসেন, চ্যানেল আইয়ের প্রতিনিধি মাহফুজুল ইসলাম এবং দ্য ডেইলি ক্যাম্পাসের প্রতিনিধি সাব্বির আহমেদ। ইমরান হোসেন জানান, তথ্য-প্রমাণ রাখার জন্য ভিডিও করতে গেলে তাদের ফোন ফেলে দেওয়া হয় এবং তার বুকে ধাক্কা দেওয়া হয়। পরদিনই প্রশাসনের কাছে বিচার চেয়ে আবেদন করা হলেও কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। বিচার না হওয়ায় অপরাধীরা এখন প্রকাশ্যে সাংবাদিকদের মারার হুমকি দিচ্ছেন।

গত শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) রাত ২টার দিকে এআইএস বিভাগের শিক্ষার্থী সাইফুল্লাহকে মারধরের ঘটনায় অভিযুক্ত পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী ইজাজুল কবীর ফেসবুকে সাংবাদিকদের উদ্দেশ্যে একটি বিতর্কিত পোস্ট শেয়ার করেন। সেখানে তিনি মন্তব্য করেন, "সবাই ভুলে গেলেও আমি ভুলতে পারছি না…। এই ফাত্রামির হিসাব সাংঘাতিক সমিতিকে দিতে হবে…। এখন আসলেই আফসোস হয়, মারলেই ভালো হতো…।"

হুমকির বিষয়ে জানতে চাইলে পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের ২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী ইজাজুল কবীর ঔদ্ধত্য প্রকাশ করে বলেন, ফেসবুকে অনেকেই অনেক কিছু পোস্ট করে। সাংবাদিকদের প্রমাণ থাকলে তারা যেন প্রক্টরের কাছে দেয়। তদন্ত কমিটির বিচারের বিষয়ে প্রক্টর এখনো কিছু করেননি উল্লেখ করে তিনি উল্টো প্রশ্ন করেন, "আমার যা ইচ্ছা, আমি তাই পোস্ট করব। তুই আমাকে জিজ্ঞাসা করার কে? তুই কোন বিভাগের শিক্ষার্থী আর তুই কোন হলে, কত নম্বর কক্ষে থাকিস, সেটা বল।"

তদন্ত কমিটির আহ্বায়ক অধ্যাপক ড. ইঞ্জি. ইমরান খান জানান, তারা নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই প্রতিবেদন প্রশাসনের কাছে জমা দিয়েছেন। এরপর কেন কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না, তা প্রশাসনই ভালো বলতে পারবে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর ড. মো. হামিদুর রহমান বলেন, এ বিষয়ে প্রশাসন যথেষ্ট সচেতন। ঘটনাটি খতিয়ে দেখতে একটি উচ্চতর কমিটি গঠন করা হবে এবং এই কমিটির সুপারিশের ভিত্তিতে রিজেন্ট বোর্ডের মাধ্যমে সিদ্ধান্ত ঘোষণা করা হবে। যেন এ ধরনের ঘটনা দ্বিতীয়বার না ঘটে, সে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

যবিপ্রবির উপাচার্য অধ্যাপক ড. ইয়ারুল কবীর বলেন, সাংবাদিকরা সবসময় সত্য তুলে ধরেন। এ কারণে মাঝে মধ্যে তাদের হুমকির মুখে পড়তে হয়। কেউ বাড়াবাড়ি করলে তিনি সাংবাদিকদের আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার পরামর্শ দেন। আগামী ২৯ তারিখে অনুষ্ঠেয় রিজেন্ট বোর্ডের সভায় খুব দ্রুতই অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে তিনি আশ্বস্ত করেন।

কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Daily Adin