
প্রকাশ : ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৯: ৫৫। চট্টগ্রামে আধুনিক ইন্টারভেনশনাল চিকিৎসা পদ্ধতির প্রসারের ফলে হৃদরোগ চিকিৎসায় সক্ষমতা ধারাবাহিকভাবে বাড়ছে। চলতি বছরের প্রথম আট মাসে চট্টগ্রাম অঞ্চলের আটটি হৃদরোগ কেন্দ্রে মোট ৩ হাজার ৬২০টি পিটিসিএ (এনজিওপ্লাস্টি/স্টেন্টিং) সম্পন্ন হয়েছে। গত বছরের একই সময়ের তুলনায় এই সংখ্যা ১৪ শতাংশের বেশি। একই সঙ্গে বিভিন্ন ধরনের কার্ডিয়াক ইন্টারভেনশনাল কেসের সংখ্যাও ৮ দশমিক ৪ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে।
শুক্রবার সিএসসিআর ক্যাথল্যাব ও রেডিসন ব্লু চট্টগ্রামে আয়োজিত ‘সিএমই অন কার্ডিয়াক ইন্টারভেনশন’ শীর্ষক দিনব্যাপী বৈজ্ঞানিক সম্মেলন ও প্রশিক্ষণে এই তথ্য জানানো হয়। চট্টগ্রাম সোসাইটি অব ইন্টারভেনশনাল কার্ডিওলজি (সিএসআইসি) এবং বাংলাদেশ সোসাইটি অব কার্ডিওভাসকুলার ইন্টারভেনশন (বিএসসিআই) যৌথভাবে এই কর্মসূচির আয়োজন করে, যার বৈজ্ঞানিক অংশীদার ছিল অ্যাবট ভাস্কুলার।
সম্মেলনে উপস্থাপিত তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালে চট্টগ্রাম অঞ্চলের আটটি কেন্দ্রে মোট ১৭ হাজার ২০টি কার্ডিয়াক ইন্টারভেনশনাল কেস এবং ৪ হাজার ৯৪৪টি পিটিসিএ সম্পন্ন হয়েছিল। চলতি বছরের প্রথম আট মাসে ১২ হাজার ১টি কেস হয়েছে, যার মধ্যে ৩ হাজার ৬২০টি পিটিসিএ অন্তর্ভুক্ত। এর মধ্যে সরকারি পর্যায়ে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ৭৮৬টি পিটিসিএ হয়েছে। বেসরকারি পর্যায়ে সিএসসিআর-এ ৬৭১টি, ম্যাক্স হাসপাতালে ৬৩৭টি, চিটাগাং মেট্রোপলিটন হাসপাতালে ৫৪৩টি এবং পার্কভিউ হাসপাতালে ৪৭৯টি পিটিসিএ সম্পন্ন হয়েছে।
চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, শুধু চিকিৎসার সংখ্যা বাড়ানোই নয়, বরং স্থানীয় চিকিৎসকদের দক্ষতা উন্নয়নের মাধ্যমেই এই সক্ষমতা আরও বাড়ানো সম্ভব। সম্মেলনের প্রথম পর্বে সিএসসিআর ক্যাথল্যাবে জটিল হৃদরোগীর করোনারি ইন্টারভেনশনের লাইভ কেস ডেমোনস্ট্রেশন করা হয়। দ্বিতীয় পর্বে রেডিসন ব্লু হোটেলে উদীয়মান ইন্টারভেনশনিস্টদের পরিচালিত বিভিন্ন জটিল কেসের অডিও-ভিজ্যুয়াল উপস্থাপনা এবং হৃদরোগ চিকিৎসার সর্বশেষ আন্তর্জাতিক প্রটোকল ও জটিল পিসিআই কৌশল নিয়ে বিশদ আলোচনা হয়।
সিএসআইসি সভাপতি অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ ইব্রাহিম চৌধুরী বলেন, চট্টগ্রামে হৃদরোগের ইন্টারভেনশনাল চিকিৎসা বাড়ছে, তবে স্থানীয় চিকিৎসকদের আরও দক্ষ করে তুলতে নিয়মিত প্রশিক্ষণ, রোগীর তথ্যভিত্তিক রেজিস্ট্রি এবং অভিজ্ঞ চিকিৎসকদের মেন্টর হিসেবে যুক্ত করা প্রয়োজন। তিনি আরও উল্লেখ করেন, কিছু জটিল চিকিৎসা ও রুটিন পিটিসিএতে দক্ষতা অর্জনের সুযোগ রয়েছে, যা তরুণ চিকিৎসকদের প্রশিক্ষণের মাধ্যমে পূরণ করা সম্ভব।
সেমিনারে বিএসসিআই সভাপতি অধ্যাপক ডা. মো. খালেকুজ্জামান এবং জ্যেষ্ঠ হৃদরোগ বিশেষজ্ঞ ডা. কায়সার নাসরুল্লাহ খান আলোচনা করেন। অনুষ্ঠানটি যৌথভাবে সঞ্চালনা করেন ডা. কাজী শামীম আল মামুন, ডা. মুহাম্মদ খোরশেদ আলম এবং ডা. উম্মেল কুলসুমা নিপা। প্যানেলিস্ট হিসেবে উপস্থিত ছিলেন অধ্যাপক ডা. আবু তারেক ইকবাল, অধ্যাপক ডা. শেখ হাসান মামুন, অধ্যাপক ডা. এম এ রউফ, ডা. এওয়াইএম নুরুদ্দীন জাহাঙ্গীর ও ডা. বিপ্লব ভট্টাচার্য। অধ্যাপক ডা. মোহাম্মদ ইব্রাহিম চৌধুরীর সমাপনী বক্তব্যের মাধ্যমে সভার সমাপ্তি ঘটে।
আপনার মতামত লিখুন :