
লক্ষ্মীপুরে এক লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে তা না পেয়ে এক ব্যবসায়ীর শরীরে পেট্রল ঢেলে আগুন দেওয়ার চেষ্টার মামলায় প্রধান অভিযুক্ত দেলোয়ার হোসেনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। আজ শুক্রবার বিকেল ৫টার দিকে শহরের দক্ষিণ তেমুহনী এলাকার একটি বেসরকারি মাদক নিরাময় কেন্দ্র থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তার দেলোয়ার একই এলাকার মৃত ধনু মিয়ার ছেলে।
ভুক্তভোগী ফুড কেমিক্যাল ব্যবসায়ী শাহেদ আলমের ভাষ্যমতে, লক্ষ্মীপুর শহরের উত্তর তেমুহনী এলাকার কালী বাজার সড়কে তার ব্যবসা প্রতিষ্ঠান রয়েছে। গত মঙ্গলবার দুপুরে স্থানীয় দেলোয়ার পেট্রলের বোতল হাতে তার দোকানে প্রবেশ করেন। এ সময় দেলোয়ার দোকানের মালামালের ওপর পেট্রল ছিটিয়ে শাহেদের কাছে এক লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেন। ওই চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে পাশে বসে থাকা ব্যবসায়ী কৃষ্ণপালের শরীরে পেট্রল ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করেন তিনি।
এ সময় বাধা দিলে শাহেদ আলমকে টেনেহিঁচড়ে মারধর করা হয়। দোকানের কর্মচারী সোহাগ এগিয়ে আসলে তাকেও মারধর করা হয়। একপর্যায়ে আশপাশের লোকজন শাহেদকে উদ্ধারে এগিয়ে আসলে দেলোয়ার, তার ছোট ভাই শাকিল ও ভাগিনা মুন্না দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে তাদের ওপর হামলা চালায়। পরে জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯ নম্বরে ফোন দেওয়া হলে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
পুলিশ জানিয়েছে, এই ঘটনায় ভুক্তভোগী ব্যবসায়ী শাহেদ বাদী হয়ে গত বৃহস্পতিবার রাতে থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। মামলায় দেলোয়ারকে প্রধান আসামি এবং শাকিল ও মুন্নাকে অন্য আসামি করা হয়।
ব্যবসায়ীদের ওপর চাঁদা দাবি ও মারধরের এই ঘটনার তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছেন লক্ষ্মীপুর বণিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক আবুল কালাম আজাদ। তিনি বলেন, ‘খবর পেয়েই আমি ঘটনাস্থলে গিয়ে ব্যবসায়ীদের সঙ্গে কথা বলেছি। এ ধরনের ঘটনা আগে কখনো ঘটেনি। এরপর থেকে বাজারের ব্যবসায়ীরা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন।’
লক্ষ্মীপুর সদর মডেল থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) শফিকুর রহমান বলেন, ‘ঘটনার খবর পেয়েই পুলিশ পাঠানো হয়েছিল। অভিযুক্তরা মূলত মাদকাসক্ত। ইতোমধ্যে প্রধান আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং অন্যদের ধরতেও আমাদের পুলিশি অভিযান অব্যাহত রয়েছে।’
আপনার মতামত লিখুন :