Facebook Twitter Instagram YouTube

টানা বর্ষণে স্থবির বান্দরবান, পাহাড়ধসে ক্ষতিগ্রস্ত ৭ ঘর


প্রকাশের সময় : জুলাই ৮, ২০২৬, ৮:২৩ অপরাহ্ণ /
টানা বর্ষণে স্থবির বান্দরবান, পাহাড়ধসে ক্ষতিগ্রস্ত ৭ ঘর

টানা চার দিনের অতিভারী বর্ষণে বান্দরবানে জনজীবন চরমভাবে স্থবির হয়ে পড়েছে। পাহাড়ধস, জলাবদ্ধতা, নদনদীর পানি বৃদ্ধি এবং সড়ক প্লাবিত হওয়ায় জেলার বিভিন্ন এলাকায় দুর্ভোগ বেড়েছে। তবে প্রশাসনের আগাম সতর্কতা, ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা থেকে বাসিন্দাদের সরিয়ে নেওয়া এবং সচেতনতামূলক কার্যক্রমের কারণে বড় ধরনের প্রাণহানি এড়ানো সম্ভব হয়েছে।

জেলা প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী, টানা বৃষ্টির ফলে সাঙ্গু নদীর পানি বৃদ্ধি পেয়ে বর্তমানে বিপদসীমার ১ দশমিক ২৬ মিটার বা ১২৬ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। নদীতীরবর্তী ও নিম্নাঞ্চলের বাসিন্দাদের দ্রুত নিরাপদ আশ্রয়কেন্দ্রে সরে যাওয়ার জন্য বারবার মাইকিং ও সতর্কবার্তা প্রদান করা হচ্ছে।

বান্দরবান জেলা প্রশাসনের কন্ট্রোল রুমের দায়িত্বপ্রাপ্ত সহকারী কমিশনার আবু আবদুল্লাহ জানান, মঙ্গলবার গভীর রাতে পৌরসভার ৩ নম্বর ওয়ার্ডের কালাঘাটা বড়ুয়াপাড়া এলাকায় পাহাড়ধসে একটি পাকা দালান ক্ষতিগ্রস্ত হয়। আগাম সতর্কবার্তা পাওয়ায় বাসিন্দারা আগে থেকেই নিরাপদ স্থানে সরে যাওয়ায় বড় ধরনের প্রাণহানি ঘটেনি, তবে তিনজন আহত হয়েছেন। এই ধসে নিপুণ বড়ুয়া, রন বড়ুয়া, অঞ্জনা বড়ুয়া ও সুমন বড়ুয়ার পরিবার সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

বুধবার বিকেল ৫টার দিকে পৌর শহরের কসাইপাড়া এলাকায় বড় ধরনের পাহাড়ধস ঘটে। এতে বান্দরবান-চট্টগ্রাম সড়কের ওপর মাটি জমে যাওয়ায় সারাদেশের সঙ্গে সড়ক যোগাযোগ সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। এর ফলে সড়কের দুই পাশে শতাধিক যানবাহন আটকা পড়ে যাত্রীরা চরম দুর্ভোগের শিকার হন। এছাড়াও থানচি উপজেলার বলিপাড়া বাগানপাড়া এলাকায় সড়ক পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় বান্দরবান-থানচি সড়কে যান চলাচল বন্ধ রয়েছে। একইভাবে সড়ক প্লাবিত হওয়ায় রোয়াংছড়ি উপজেলার সঙ্গে জেলা সদরের সড়ক যোগাযোগও বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে।

নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এনামুল হাসান জানান, লেমুছড়ি-দোছড়ি সড়কে পাহাড়ধসের ঘটনা ঘটলেও দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ায় বর্তমানে যান চলাচল স্বাভাবিক রয়েছে। এছাড়া তুমব্রু এলাকায় পানিবন্দি ৮০টি পরিবারকে ত্রাণ এবং আরও ২০০ পরিবারের মাঝে শুকনো খাবার, চাল ও ডাল বিতরণ করা হয়েছে। আলীকদম উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মনজুরুল আলম জানান, প্রবল বর্ষণে গাছ উপড়ে পড়ে দুটি বসতঘর ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর পুনর্বাসনের জন্য তিন বান্ডিল টিন বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।

জেলা প্রশাসন জানিয়েছে, অতিভারী বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকায় জেলার বিভিন্ন উপজেলায় পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। ঝুঁকিপূর্ণ পাহাড়ে বসবাসকারী মানুষকে নিরাপদ আশ্রয়ে সরিয়ে নিতে প্রশাসন, সেনাবাহিনী, ফায়ার সার্ভিস, রেড ক্রিসেন্ট ও স্বেচ্ছাসেবীরা সমন্বিতভাবে কাজ করছে। দুর্যোগ মোকাবিলায় কন্ট্রোল রুম সার্বক্ষণিক খোলা রাখা হয়েছে এবং যেকোনো জরুরি পরিস্থিতিতে দ্রুত সাড়া দেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট সব সংস্থাকে প্রস্তুত থাকতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।