
ক্যান্সার নিয়ে ব্যাপক আলোচনার প্রেক্ষিতে অনেক সময় প্রশ্ন ওঠে, বিভিন্ন ধরনের ক্যান্সার যেমন কার্সিনোমা, সারকোমা বা লিউকেমিয়া নিয়ে বিশদ জ্ঞান অর্জন করে রোগীদের আসলে কী লাভ হচ্ছে? ডা. রাজীব ভট্টাচার্য, একজন মেডিক্যাল অনকোলজিস্ট ও ক্যান্সার বিশেষজ্ঞ, তার অভিজ্ঞতার আলোকে এই প্রশ্নের উত্তর দিয়েছেন। তার মতে, ক্যান্সার কেবল একটি রোগ নয়; একই ধরনের ক্যান্সার ভিন্ন ভিন্ন জিনগত পরিবর্তনের কারণে ভিন্ন ভিন্ন রূপ নিতে পারে। যেমন, ফুসফুসের ক্যান্সারের ক্ষেত্রে EGFR, ALK বা ROS1 মিউটেশনের উপস্থিতি রোগীর চিকিৎসায় বড় পার্থক্য গড়ে দেয়।
উদাহরণস্বরূপ, কয়েক বছর আগে ALK পজিটিভ ফুসফুসের ক্যান্সার ধরা পড়লে রোগীরা বড়জোর এক বছর বেঁচে থাকতেন। কিন্তু বর্তমানে Lorlatinib-এর মতো ওষুধের ব্যবহারে অনেক রোগী দশ বছর বা তারও বেশি সময় ধরে স্বাভাবিক জীবনযাপন করছেন। একইভাবে, ক্রনিক মাইলয়েড লিউকেমিয়া (CML) রোগীদের ক্ষেত্রে BCR-ABL জিনগত পরিবর্তনের বিষয়টি জানার পর Imatinib-এর মতো ওষুধ তৈরি হয়েছে, যা প্রাণঘাতী এই রোগকে দীর্ঘমেয়াদী নিয়ন্ত্রণে রাখতে সাহায্য করছে। অর্থাৎ, গবেষণালব্ধ জ্ঞানই আধুনিক ওষুধের ভিত্তি তৈরি করেছে।
এক সময় Chronic Myeloid Leukemia (CML) মানেই ছিল খুব খারাপ খবর। তবে বর্তমানে লিউকেমিয়া বা ক্রনিক মাইলয়েড ক্যান্সারের মতো জটিল রোগের চিকিৎসায় আধুনিক ওষুধের পাশাপাশি সঠিক জ্ঞান রোগীদের জীবনযাত্রায় বড় পরিবর্তন এনেছে।
ডা. রাজীব ভট্টাচার্য আরও উল্লেখ করেন যে, বর্তমান চিকিৎসা ব্যবস্থায় রোগী কেবল একজন অনুগত গ্রহীতা নন, বরং তিনি চিকিৎসার একজন গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার। একে বলা হয় ‘শেয়ারড ডিসিশন মেকিং’। রোগী যখন তার রোগের মিউটেশন এবং চিকিৎসার ধরন সম্পর্কে সচেতন হন, তখন চিকিৎসক ও রোগীর সম্মিলিত সিদ্ধান্তে চিকিৎসার মান উন্নত হয়। তাই ক্যান্সার ও তার জিনগত বৈশিষ্ট্য নিয়ে নিয়মিত আলোচনা বা জ্ঞানচর্চা বিলাসিতা নয়, বরং এটিই আগামী দিনের উন্নত চিকিৎসার মূল পথ। এই সচেতনতা রোগীকে বিভ্রান্ত করার পরিবর্তে বরং সঠিক চিকিৎসার সিদ্ধান্ত নিতে সহায়তা করে।
ডা. রাজীব ভট্টাচার্যের সাথে অনলাইন অ্যাপয়েন্টমেন্টের জন্য যোগাযোগ করা যাবে শ্রী সুদীপ দাসের সাথে +৯১ ৮৯৮১১ ১৯৯৫০ নম্বরে অথবা calcuttacancercare.com ওয়েবসাইটে।
আপনার মতামত লিখুন :