Facebook Twitter Instagram YouTube

হাম ও উপসর্গে ঢাকা বিভাগে মৃত্যু ও আক্রান্তের হার সর্বোচ্চ


প্রকাশের সময় : জুলাই ৮, ২০২৬, ৫:৩৭ অপরাহ্ণ /
হাম ও উপসর্গে ঢাকা বিভাগে মৃত্যু ও আক্রান্তের হার সর্বোচ্চ

দেশে হাম ও হামের উপসর্গে আক্রান্ত ও মৃত্যুর সংখ্যায় ঢাকা বিভাগ শীর্ষে রয়েছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সর্বশেষ প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত বুধবার সকাল আটটা পর্যন্ত গত ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গে আরও তিন শিশু মারা গেছে, যাদের সবাই ঢাকা বিভাগের বাসিন্দা। গত ১৫ মার্চ থেকে এ পর্যন্ত হাম ও হামের উপসর্গে মোট ৭৪৫টি শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে ঢাকা বিভাগে হামের উপসর্গে ২৮৩ জন এবং নিশ্চিত হামে আক্রান্ত ৫৭ জন রোগীর মৃত্যু হয়েছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে ১০৬ জন হামে আক্রান্ত রোগী শনাক্ত হয়েছে এবং ৭৯৬ জন উপসর্গে আক্রান্ত হয়েছেন। গত ১৫ মার্চ থেকে এ পর্যন্ত হামের উপসর্গে মোট ৬৫২টি শিশুর মৃত্যুর তথ্য পাওয়া গেছে। একই সময়ে হাম শনাক্ত হওয়ার পর মারা গেছে ৯৩টি শিশু। গত ১৫ মার্চ দেশে প্রথম হাম রোগী শনাক্ত হয়, আর গত ১১৬ দিনে মোট ১ লাখ ৮ হাজার ১৮০ জন হামের উপসর্গে আক্রান্ত হয়েছেন। এর মধ্যে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ৯১ হাজার ২৭০ জন এবং হাম নিশ্চিতভাবে শনাক্ত হয়েছেন ১৩ হাজার ৭০ জন। এখন পর্যন্ত ৮৭ হাজার ৬২৮ জন সুস্থ হয়ে হাসপাতাল থেকে বাড়ি ফিরেছেন।

সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় সন্দেহভাজন হাম রোগীর সংখ্যা ৭৯৬, যার মধ্যে ৭৪৮ জন শিশু হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। ঢাকা বিভাগে ভর্তি হয়েছে ২৬৪ জন, যা দেশের অন্য যেকোনো বিভাগের চেয়ে বেশি। এরপরই রয়েছে চট্টগ্রাম (১৬২), বরিশাল (১১৫) ও সিলেট (৬৪)। একই সময়ে ৭৮৪ জন রোগী হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র পেয়েছেন।

বিশেষজ্ঞদের মতে, প্যারামিক্সোভিরিডি পরিবারের মিজলস ভাইরাসের কারণে এই রোগ ছড়ায় এবং এটি হাঁচি-কাশির মাধ্যমে দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। সংক্রমণের ৮ থেকে ১২ দিনের মধ্যে জ্বর, শুকনা কাশি, নাক দিয়ে পানি পড়া, চোখ লাল হওয়া, মুখে ছোট সাদা দাগ ও শরীরে লালচে ফুসকুড়ির মতো লক্ষণ দেখা দেয়।

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের শিশু বিভাগের অধ্যাপক ডা. ইমনুল ইসলাম ইমন জানান, হাম থেকে সুরক্ষায় শিশুকে সময়মতো টিকা দেওয়া জরুরি। নয় মাস বয়সে প্রথম ডোজ এবং ১৫ মাস বয়সে দ্বিতীয় ডোজ দিতে হবে। এছাড়া আক্রান্ত শিশুকে পাঁচ দিন আলাদা রাখা, হাত-মুখ পরিষ্কার রাখা এবং হাঁচি-কাশির শিষ্টাচার মেনে চলার পরামর্শ দিয়েছেন তিনি। কোনো শিশুর শরীরে ফুসকুড়ি দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়ার আহ্বান জানান এই বিশেষজ্ঞ।