Facebook Twitter Instagram YouTube

ইসরাইল নির্বাচন: নেতানিয়াহুর ক্ষমতার ভবিষ্যৎ ও গাজা যুদ্ধের প্রভাব


প্রকাশের সময় : অক্টোবর ২৩, ২০২৬, ১১:২৫ অপরাহ্ণ / ০
ইসরাইল নির্বাচন: নেতানিয়াহুর ক্ষমতার ভবিষ্যৎ ও গাজা যুদ্ধের প্রভাব

আগামী ২৭ অক্টোবর ইসরাইলে সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাসের নেতৃত্বে ইসরাইলে হামলা এবং পরবর্তী সময়ে গাজা, ইরান, হিজবুল্লাহ ও হুতিদের সঙ্গে সংঘাত শুরুর পর এটিই দেশটির প্রথম সাধারণ নির্বাচন। বিশ্লেষকদের মতে, ইসরাইলের ইতিহাসে অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এই নির্বাচনের প্রভাব দেশটির সীমানা ছাড়িয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও পড়তে পারে।

বর্তমান প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সঙ্গে ক্ষমতার লড়াইয়ে রয়েছেন ইসরাইলের প্রতিরক্ষা বাহিনীর সাবেক প্রধান গাদি আইজেনকোট। নির্বাচনী জনমত জরিপে দুজনের মধ্যে হাড্ডাহাড্ডি প্রতিদ্বন্দ্বিতার ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে। সামরিক অভিজ্ঞতা এবং রাজনীতিতে তুলনামূলক নতুন মুখ হওয়ায় আইজেনকোটের জনপ্রিয়তা বেড়েছে। গত বছরই তিনি নিজের রাজনৈতিক দল ‘ইয়াশার’ প্রতিষ্ঠা করেন। গাজা যুদ্ধের প্রথম কয়েক মাসে এক সেনাসদস্য হিসেবে তার ছেলের মৃত্যু হয়। নেতানিয়াহুর সরকারের যুদ্ধকালীন মন্ত্রিসভায় দায়িত্ব পালন করলেও সংঘাত পরিচালনা নিয়ে মতবিরোধের জেরে ২০২৪ সালে তিনি পদত্যাগ করেন। ৭ অক্টোবরের হামলার আগে ইসরাইলের নিরাপত্তাব্যবস্থায় যে ব্যর্থতা ছিল, তার জবাবদিহি নিশ্চিত করার প্রতিশ্রুতিকে তিনি নির্বাচনী প্রচারের অন্যতম ভিত্তি করেছেন।

বিরোধী শিবিরের অন্য নেতাদের মধ্যে রয়েছেন সাবেক প্রধানমন্ত্রী নাফতালি বেনেট, অ্যাভিগডর লিবারম্যান ও বামপন্থি নেতা ইয়ার গোলান। বেনেট ও লিবারম্যান ডানপন্থি রাজনীতিক; তারা নিরাপত্তার প্রশ্নে কঠোর অবস্থান বজায় রাখেন এবং অধিকৃত পশ্চিম তীরের বড় অংশে ইসরাইলের স্থায়ী নিয়ন্ত্রণের পক্ষে। অন্যদিকে গোলান পশ্চিম তীরের বিস্তীর্ণ এলাকা থেকে ইসরাইলি বাহিনী প্রত্যাহারের পক্ষে মত দিয়েছেন। মতাদর্শগত পার্থক্য থাকলেও সরকার গঠনের প্রশ্নে এই নেতারা আইজেনকোটের সঙ্গে জোট করতে পারেন।

নেতানিয়াহুর বর্তমান সরকার ইসরাইলের ইতিহাসে সবচেয়ে ডানপন্থি সরকার। ক্ষমতায় টিকে থাকতে তাকে সম্ভবত বর্তমান জোটের কয়েকটি কট্টর ডানপন্থি দলের সমর্থনের ওপর নির্ভর করতে হবে। এসব দলের কয়েকজন নেতা পশ্চিম তীরকে ইসরাইলের সঙ্গে যুক্ত করার এবং গাজা থেকে ফিলিস্তিনিদের ‘অভিবাসনে’ বাধ্য করার পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন। লিকুদ পার্টির কয়েকজন সদস্যও গাজা থেকে ফিলিস্তিনিদের সরিয়ে দেয়ার পক্ষে কথা বলেছেন।

ইসরাইলের পার্লামেন্ট নেসেটের মোট আসন ১২০টি। সরকার গঠনের জন্য অন্তত ৬১টি আসনের সমর্থন প্রয়োজন। আনুপাতিক প্রতিনিধিত্বভিত্তিক নির্বাচনী ব্যবস্থায় সাধারণত একাধিক দলের সমন্বয়ে জোট করতে হয়। আরব দলগুলোর দুটি জোটও নির্বাচনে অংশ নিচ্ছে, যারা সরকার গঠনে নির্ণায়ক হতে পারে। তবে প্রধান ইহুদি দলগুলোর মধ্যে একটি ছাড়া বাকি সব দলই আরব দলগুলোর সঙ্গে সরকার গঠনের সম্ভাবনা নাকচ করেছে। নির্বাচনের পর সরকার গঠনে কয়েক সপ্তাহ বা কয়েক মাস পর্যন্ত সময় লাগতে পারে। কোনো জোট সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করতে না পারলে সংখ্যালঘু সরকার গঠনেরও সম্ভাবনা রয়েছে।

গাজা ও পশ্চিম তীরের ফিলিস্তিনিদের জন্য এই নির্বাচন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। গাজায় যুদ্ধবিরতির এক বছর পরও ইসরাইল প্রায় প্রতিদিনই হামলা চালিয়ে যাচ্ছে এবং গাজার অর্ধেকেরও বেশি ভূখণ্ডের নিয়ন্ত্রণ ধরে রেখেছে। হামাস পরিচালিত গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের হিসাব অনুযায়ী, ৭ অক্টোবরের পর থেকে ইসরাইলি হামলায় ৭৪ হাজারের বেশি ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন, যে পরিসংখ্যানকে জাতিসংঘ নির্ভরযোগ্য বলে বিবেচনা করে। পশ্চিম তীরে ইহুদি বসতি স্থাপনকারীদের হামলা রেকর্ড পর্যায়ে পৌঁছেছে এবং বসতি সম্প্রসারণ দ্রুতগতিতে চলছে।

গাজা প্রশ্নে নেতানিয়াহু ও আইজেনকোটের অবস্থানে বেশ কিছু মিল রয়েছে। উভয়েই ডনাল্ড ট্রাম্পের শান্তি পরিকল্পনাকে সমর্থন করেন। আইজেনকোট প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন, প্রয়োজনে সামরিক শক্তি ব্যবহার করে আগামী ১৮ মাসের মধ্যে গাজায় হামাসের শাসনের অবসান ঘটাবেন। পশ্চিম তীরের ক্ষেত্রে নেতানিয়াহু বসতি সম্প্রসারণের নীতি অব্যাহত রাখতে চান, যেখানে আইজেনকোট বিতর্কিত ‘ই-১’ বসতি প্রকল্পের বিরোধী এবং ফিলিস্তিনিদের সঙ্গে শান্তিচুক্তির পরিবেশ তৈরিতে আগ্রহী।

নির্বাচনের দিন রাত ১০টায় বুথফেরত জরিপ প্রকাশ করা হবে। আনুষ্ঠানিক ফল প্রকাশের তারিখ ৪ নভেম্বর। এরপর প্রেসিডেন্ট আইজ্যাক হারজগ বিভিন্ন দলের নেতাদের সঙ্গে আলোচনা করে সরকার গঠনের দায়িত্ব দেবেন। এই প্রক্রিয়ায় এক মাসেরও বেশি সময় লাগতে পারে। ২০১৯ থেকে ২০২২ সালের মধ্যে সমঝোতার অভাবে দেশটিতে পাঁচবার পৃথক নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছিল।

কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Manab Zamin