Facebook Twitter Instagram YouTube

টঙ্গীতে মাদ্রাসাছাত্রীকে যৌন নিপীড়নের অভিযোগে শিক্ষক গ্রেপ্তার


প্রকাশের সময় : অক্টোবর ২৩, ২০২৬, ১০:৪৫ অপরাহ্ণ / ০
টঙ্গীতে মাদ্রাসাছাত্রীকে যৌন নিপীড়নের অভিযোগে শিক্ষক গ্রেপ্তার

গাজীপুরের টঙ্গীর আউচপাড়া এলাকার একটি মাদ্রাসায় প্রথম শ্রেণির এক ছাত্রীকে (৭) যৌন নিপীড়নের অভিযোগে মোসলেহ উদ্দিন (৩০) নামের এক শিক্ষককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। বুধবারের ঘটনার পর এলাকাবাসী ও স্বজনরা অভিযুক্ত শিক্ষককে মারধর করে পুলিশের কাছে তুলে দেন। বৃহস্পতিবার দুপুরে শিশুটির বাবার করা মামলায় তাকে আদালতে পাঠানো হয়েছে।

ভুক্তভোগী শিশুটির বাবার দায়ের করা মামলার এজাহারে বলা হয়, গত সোমবার মাদ্রাসার নিচ তলার সিঁড়িতে ওই শিক্ষক শিশুটিকে যৌন নিপীড়ন করেন। ঘটনার পর থেকে শিশুটি মাদ্রাসায় যেতে অনিচ্ছা প্রকাশ করছিল। পরিবারের সদস্যরা কারণ জানতে চাইলে শুরুতে সে কিছু বলতে চায়নি, বরং বাড়িতে জানালে মারধরের হুমকি পাওয়ার কথা জানায়। পরবর্তীতে মা-বাবার জিজ্ঞাসাবাদের মুখে সে পুরো ঘটনাটি খুলে বলে।

বুধবার দুপুরে শিশুটির স্বজনরা মাদ্রাসায় গিয়ে শিক্ষক মোসলেহ উদ্দিনকে জিজ্ঞাসাবাদ করেন। বিষয়টি জানাজানি হলে স্থানীয় লোকজন মাদ্রাসায় জড়ো হয়ে ওই শিক্ষককে মারধর করেন। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে তাকে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়। ঘটনার কয়েকটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। একটি ২৪ সেকেন্ডের ভিডিওতে শিক্ষককে স্টুডেন্টদের সাথে সম্পর্কের বিষয়ে কথা বলতে শোনা যায়, যার একপর্যায়ে স্বজনরা তাকে মারধর শুরু করেন। অন্য একটি ২ মিনিট ২৯ সেকেন্ডের ভিডিওতে দেখা যায়, মাদ্রাসার উপস্থিত লোকজন শিক্ষককে মারধর করছেন এবং স্বজনরা মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে অভিযোগ না নেওয়ার ক্ষোভ প্রকাশ করছেন।

এদিকে করিউল কোরআন ইন্টারন্যাশনাল মাদ্রাসার প্রতিষ্ঠাতা ও অধ্যক্ষ আলমাছ হোসেন দাবি করেছেন, মাদ্রাসার ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করতে পরিকল্পিতভাবে এই ঘটনা ঘটানো হয়েছে। তার ভাষ্যমতে, শিশুটির বাবার নেতৃত্বে ১৫-১৬ জনের একটি দল মাদ্রাসায় ঢুকে শিক্ষক মোসলেহ উদ্দিনকে মারধর করে। এ সময় কার্যালয় ভাঙচুর, ১৭ লাখ টাকা ও পাঁচটি মুঠোফোন লুটের অভিযোগও করেন তিনি।

টঙ্গী পশ্চিম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আরিফুর রহমান জানিয়েছেন, শিশুটিকে যৌন নিপীড়নের অভিযোগে মামলা হয়েছে এবং অভিযুক্ত শিক্ষককে আদালতে পাঠানো হয়েছে। একইসঙ্গে মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে ভাঙচুর ও শিক্ষকদের মারধরের অভিযোগে পৃথক একটি অভিযোগ দেওয়া হয়েছে। পুলিশ তদন্ত সাপেক্ষে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।

কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Dainik Amader Shomoy