আগামী ৩ নভেম্বর যুক্তরাষ্ট্রে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে মধ্যবর্তী নির্বাচন। আমেরিকানদের পাশাপাশি এখন সারা বিশ্বের নজর এই নির্বাচনের দিকে। দেশটিতে ইতিমধ্যে আগাম ভোট গ্রহণ শুরু হয়েছে। ক্ষমতাসীন রিপাবলিকান পার্টির লাল নাকি বিরোধী ডেমোক্রেটিক পার্টির নীল শিবির—কারা জিতবে, তা নিয়ে চলছে নানা জল্পনা-কল্পনা। এরই মধ্যে প্রকাশিত বিভিন্ন জনমত জরিপে দেখা যাচ্ছে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রতি ভোটারদের আস্থায় দ্রুতগতিতে ধস নামছে। এমন অবস্থা অব্যাহত থাকলে তা রিপাবলিকান শিবিরের জন্য বড় বিপর্যয় নিয়ে আসতে পারে। ডেমোক্র্যাটরা আইনসভার কোনো একটি কক্ষ বা উভয়কক্ষেই সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেলে ট্রাম্প তার বাকি দুই বছরের মেয়াদে বড় ধরনের বাধার মুখে পড়বেন। এমনকি আগের মেয়াদের মতো আবারও অভিশংসনের মুখোমুখি হওয়ার আশঙ্কাও রয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রে প্রতি চার বছর অন্তর প্রেসিডেন্ট নির্বাচন হয়। প্রেসিডেন্ট মেয়াদের মাঝামাঝি সময়ে কংগ্রেসের নিম্নকক্ষ প্রতিনিধি পরিষদের ৪৩৫ আসনের সবকটি এবং উচ্চকক্ষ সিনেটের এক-তৃতীয়াংশ আসনে যে নির্বাচন হয়, তা-ই মধ্যবর্তী নির্বাচন হিসেবে পরিচিত। বর্তমান প্রতিনিধি পরিষদে রিপাবলিকান সদস্য ২১৮ জন, ডেমোক্র্যাট ২১৪ জন, স্বতন্ত্র একজন এবং দুটি আসন শূন্য। এছাড়া ১০০ আসনের সিনেটে রিপাবলিকান ৫৩, ডেমোক্র্যাট ৪৫ এবং স্বতন্ত্র দুজন সদস্য রয়েছেন। এবারের নির্বাচনে প্রতিনিধি পরিষদের সব আসনের পাশাপাশি সিনেটের ৩৫টি আসনে ভোট হচ্ছে। এর মধ্যে ২২টি রিপাবলিকান ও ১৩টি ডেমোক্র্যাটদের দখলে। বিশেষ নির্বাচনের মধ্যে রয়েছে ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সের ওহাইও আসন এবং পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওর ফ্লোরিডার আসন।
ঐতিহাসিকভাবে মধ্যবর্তী নির্বাচনে ক্ষমতাসীন প্রেসিডেন্টের দল সাধারণত প্রতিনিধি পরিষদের নিয়ন্ত্রণ হারায়। গত ১০০ বছরে মাত্র দুবার—১৯৯৮ সালে বিল ক্লিনটন এবং ২০০২ সালে জর্জ ডব্লিউ বুশের আমলে এর ব্যতিক্রম ঘটেছে। তবে সিনেটের নিয়ন্ত্রণ পরিবর্তনের ঘটনা আরও বিরল। গত ৫০ বছরে মাত্র দুবার, ১৯৯৪ ও ২০০৬ সালে এমনটা ঘটেছে। কুক পলিটিক্যাল রিপোর্টের তথ্যমতে, প্রতিনিধি পরিষদের ২১টি আসনে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই হবে। সিএনএনের মতে, সিনেটের ১০টি আসনে তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতার সম্ভাবনা রয়েছে, যার মধ্যে রিপাবলিকানদের দখলে থাকা আলাস্কা, আইওয়া, কানসাস, মেইন, নর্থ ক্যারোলাইনা, ওহাইও ও টেক্সাস এবং ডেমোক্র্যাটদের জর্জিয়া, মিশিগান ও নিউ হ্যাম্পশায়ার অন্যতম।
নির্বাচন ঘনিয়ে আসার সঙ্গে সঙ্গে ট্রাম্পের জনপ্রিয়তার গ্রাফ নিচে নামছে। নিউ ইয়র্ক টাইমস ও সিয়েনা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাম্প্রতিক জরিপে ট্রাম্পের প্রতি সমর্থন ৩৬ শতাংশ, যেখানে অনাস্থা ৫৯ শতাংশ। রয়টার্স/ইপসোসের জরিপে সমর্থন ৩১ শতাংশ, ওয়াশিংটন পোস্ট/এবিসি/ইপসোসের জরিপে ৩৩ শতাংশ এবং এনবিসির জরিপে সমর্থন মাত্র ৩৪ শতাংশ। এনবিসির জরিপে ৭১ শতাংশ নাগরিক মনে করেন দেশ ভুল পথে চলছে। জ্বালানি সংকট, নিত্যপণ্যের দাম বৃদ্ধি এবং অর্থনৈতিক অস্থিরতাকে মার্কিন ভোটাররা এই নির্বাচনের মূল ইস্যু হিসেবে দেখছেন, যা ট্রাম্পের প্রতি জনমতের এই ধসের অন্যতম কারণ।
আপনার মতামত লিখুন :