সৌদি আরবে হুতি বিদ্রোহীদের ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় বগুড়ার শাজাহানপুর উপজেলার মাদলা গ্রামের শাহেদ আহমেদ নিহত হয়েছেন। গত ১০ই অক্টোবর সৌদি স্থানীয় সময় বিকাল ৫টার দিকে রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছানোর পর টার্মিনাল-৩ এলাকায় এই হামলার ঘটনা ঘটে। স্ত্রী কোহিনুর আক্তার কাকলীর সঙ্গে ফোনে কথা বলার কিছুক্ষণ পরেই ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতে তিনি প্রাণ হারান। শাহেদ সৌদি আরবের একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের জেদ্দা প্রকল্পে প্লাম্বার হিসেবে কর্মরত ছিলেন।
নিহত শাহেদের মরদেহ শুক্রবার সকালে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছায়। পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম মরদেহ গ্রহণ করে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করেন এবং সরকারের পক্ষ থেকে আর্থিক সহায়তার চেক প্রদান করেন। একই দিন দুপুর আড়াইটায় বগুড়ার মাদলা গ্রামে মরদেহ পৌঁছালে স্বজন ও এলাকাবাসীর মধ্যে কান্নার রোল পড়ে যায়। পারিবারিক আনুষ্ঠানিকতা ও জানাজা শেষে স্থানীয় গোরস্থানে তাকে দাফন করা হয়।
শাহেদের স্ত্রী কোহিনুর আক্তার কাকলী জানান, ১৩ বছর বয়সে তাদের বিয়ে হয় এবং তাদের জিহাদ (৫) ও কাউসার (১০) নামে দুটি সন্তান রয়েছে। দুই বছর আগে সৌদি গিয়ে প্রথমে গাড়িচালক এবং পরে প্লাম্বার হিসেবে কাজ শুরু করেছিলেন শাহেদ। গত ৭ই সেপ্টেম্বর ছুটিতে দেশে এসেছিলেন তিনি। শাহেদের মৃত্যুতে তার স্ত্রী এখন দুই সন্তান নিয়ে অনিশ্চিত ভবিষ্যতের মুখোমুখি দাঁড়িয়েছেন। তিনি সন্তানদের ভবিষ্যতের কথা চিন্তা করে প্রধানমন্ত্রীর সহায়তা কামনা করেছেন।
এদিকে, সৌদি আরবে হুতি বিদ্রোহীদের হামলার ঘটনায় বাংলাদেশ সরকার তীব্র নিন্দা জানিয়েছে। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিজ্ঞপ্তিতে হতাহতদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানানো হয় এবং সব ধরনের হামলা বন্ধ করে শান্তিপূর্ণ আলোচনার আহ্বান জানানো হয়েছে। এই হামলায় শাহেদসহ একাধিক বাংলাদেশি হতাহত হয়েছেন বলে জানা গেছে।
আপনার মতামত লিখুন :