Facebook Twitter Instagram YouTube

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও জ্বালানিমন্ত্রীর পদত্যাগ চাইলেন নাহিদ ইসলাম


প্রকাশের সময় : অক্টোবর ২৪, ২০২৬, ৭:২১ পূর্বাহ্ণ / ০
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও জ্বালানিমন্ত্রীর পদত্যাগ চাইলেন নাহিদ ইসলাম

আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির চরম অবনতি এবং জ্বালানি খাতে সরকারের ব্যর্থতার অভিযোগ তুলে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও জ্বালানিমন্ত্রীর পদত্যাগ দাবি করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক ও বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম। একই সঙ্গে দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি, জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধি এবং রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানে দলীয়করণের প্রতিবাদে আগামী ৩০ অক্টোবর গণবিক্ষোভের ডাক দিয়েছেন তিনি। শুক্রবার বিকেলে রাজধানীর কারওয়ান বাজারে এনসিপির সপ্তাহব্যাপী লিফলেট বিতরণ ও গণসংযোগ কর্মসূচির উদ্বোধনকালে তিনি এসব ঘোষণা দেন।

নাহিদ ইসলাম অভিযোগ করেন, গত সাত মাসে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে সম্পূর্ণ ব্যর্থ হয়েছেন। তিনি বলেন, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়নের পরিবর্তে সংবিধান নিয়ে ব্যস্ত সময় পার করছেন। অন্যদিকে, জ্বালানিমন্ত্রীও এই খাতের সংকট মোকাবিলায় কোনো কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারছেন না। এনসিপির আহ্বায়ক অবিলম্বে এই দুই মন্ত্রীকে পদত্যাগ করে মন্ত্রিপরিষদ পুনর্গঠনের আহ্বান জানান। পাশাপাশি সরকারের বিভিন্ন পর্যায়ে দায়িত্বে অবহেলার জন্য জবাবদিহি নিশ্চিত করার দাবি জানান তিনি।

কারওয়ান বাজার থেকে গণসংযোগ শুরুর কারণ ব্যাখ্যা করে নাহিদ ইসলাম বলেন, রাজধানীর অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এই কাঁচাবাজার ও সবজির কেন্দ্রে চাঁদাবাজি ও দখলদারত্বের প্রকোপ রয়েছে। তিনি সারা দেশে চাঁদাবাজি, সন্ত্রাস, সিন্ডিকেট ও দখলদারত্বের বিরুদ্ধে জনগণকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান। আগামী ৩০ অক্টোবর দুপুর ৩টায় ঢাকার শাহবাগে জাতীয় জাদুঘরের সামনে গণবিক্ষোভের কর্মসূচি পালিত হবে এবং এরপর ধারাবাহিকভাবে সারা দেশে এই কর্মসূচি চলবে বলে তিনি জানান।

আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে তিনি বলেন, মাদক কারবার নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থতার পাশাপাশি সাধারণ মানুষ, বিরোধী দলের নেতাকর্মী ও সাংবাদিকদের ওপর দমন-পীড়ন চালানো হচ্ছে। এ সময় তিনি নেত্রকোনায় ১৫ অক্টোবর সাংবাদিক হত্যা, পরদিন সীতাকুণ্ডে সাংবাদিকের ওপর গুলি এবং রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে সাংবাদিকদের ওপর হামলার প্রসঙ্গ তুলে ধরেন। এছাড়া ১৯ অক্টোবর কক্সবাজারের বিভিন্ন সড়কে ডাকাতি ও লুটপাটের ঘটনার কথা উল্লেখ করে তিনি গণমাধ্যমের স্বাধীনতা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন।

দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, সয়াবিন তেল ২০০-২১০ টাকা, টমেটো ১৬০-২০০ টাকা, করলা ৭০-৮০ টাকা, শুকনা মরিচ ৩৮০-৪৫০ টাকা এবং ডিম ১৪০-১৪৫ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে, যা সাধারণ ও মধ্যবিত্তের ক্রয়ক্ষমতার বাইরে। এলপিজি গ্যাসের দাম সরকারি হিসাবে ১ হাজার ৮০০ টাকা এবং বেসরকারিভাবে ২ হাজার ৫০০ থেকে ৩ হাজার ৫০০ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হচ্ছে বলেও তিনি অভিযোগ করেন। জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় তিনি সরকারের কাছে কার্যকর পরিকল্পনা দাবি করেন।

সংবিধান সংস্কারের বিষয়ে নাহিদ ইসলাম বলেন, একদলীয় সংবিধান সংশোধন কমিটি ভেঙে দিয়ে গণভোটের রায়ের ভিত্তিতে সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠন করতে হবে। তিনি সাইবার আইনের সংশোধনী বাতিল, গুম প্রতিরোধ আইন কার্যকর এবং জুলাই গণঅভ্যুত্থানের হত্যাকাণ্ডের বিচার নিশ্চিত করার দাবি জানান। এছাড়া দুর্গাপূজা শান্তিপূর্ণভাবে উদযাপিত হওয়ায় জনগণকে ধন্যবাদ জানিয়ে তিনি সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বজায় রাখার আহ্বান জানান এবং দেশের পরিস্থিতি নিয়ে ভারতের অপপ্রচারের সমালোচনা করেন। সবশেষে তিনি পুনরায় সরকারের প্রতি জবাবদিহি নিশ্চিত করা ও জননিরাপত্তা জোরদারের আহ্বান জানান।

কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Daily Adin