Facebook Twitter Instagram YouTube

বন্যা পরিস্থিতি মোকাবিলায় সমন্বিত উদ্যোগের আহ্বান মির্জা ফখরুলের


প্রকাশের সময় : জুলাই ১৪, ২০২৬, ৫:১৫ অপরাহ্ণ /
বন্যা পরিস্থিতি মোকাবিলায় সমন্বিত উদ্যোগের আহ্বান মির্জা ফখরুলের

দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে সাম্প্রতিক ভারী বৃষ্টিপাত ও পাহাড়ি ঢলের কারণে সৃষ্ট বন্যা পরিস্থিতি মোকাবিলায় সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানিয়েছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। মঙ্গলবার সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সভাকক্ষে অনুষ্ঠিত এক আন্তঃমন্ত্রণালয় সভায় সভাপতিত্বকালে তিনি এ আহ্বান জানান।

সভায় মির্জা ফখরুল বলেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে জনগণের দুর্ভোগ লাঘবে সমন্বিত উদ্যোগের কোনো বিকল্প নেই। তিনি প্রত্যেক মন্ত্রণালয় ও সংস্থাকে নিজ নিজ দায়িত্ব যথাযথভাবে পালনের নির্দেশ দেন এবং ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের কাছে দ্রুত সেবা ও সহায়তা পৌঁছে দেওয়ার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। উদ্ধার কাজ, ত্রাণ বিতরণ, স্বাস্থ্যসেবা প্রদান, বিশুদ্ধ পানি সরবরাহ এবং ক্ষতিগ্রস্ত অবকাঠামো পুনরুদ্ধারে সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিতে হবে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ সভায় বলেন, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় সরকার দুর্যোগ মোকাবিলায় সর্বাত্মকভাবে কাজ করছে। তিনি ত্রাণ বিতরণ কার্যক্রমে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার ওপর জোর দিয়ে বলেন, কোনো ধরনের দুর্নীতি ছাড়াই প্রকৃত ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের কাছে ত্রাণ পৌঁছে দিতে হবে। অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বন্যায় ক্ষতিগ্রস্তদের একটি নির্ভুল ডাটাবেজ তৈরির পরামর্শ দেন, যাতে ত্রাণ বিতরণ কার্যক্রম আরও সুশৃঙ্খল ও কার্যকর করা যায়। একই সঙ্গে তিনি সরবরাহ ব্যবস্থা বা সাপ্লাই চেইন এবং যোগাযোগ অবকাঠামো সচল রাখার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

বন্যা-পরবর্তী পুনর্বাসন ও ক্ষয়ক্ষতি মোকাবিলায় সভায় বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সব বিভাগের কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়ন এবং পানি নেমে যাওয়ার পর ক্ষয়ক্ষতির চিত্র মূল্যায়ন করে খাদ্য সহায়তা কর্মসূচি পরিচালনা। কৃষি খাতের ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তাদের সক্রিয় ভূমিকা পালন এবং ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের মধ্যে নতুন বীজ সরবরাহের সিদ্ধান্তও হয়েছে। এছাড়া বন্যাকবলিত এলাকায় বিশুদ্ধ পানি সরবরাহ নিশ্চিত করা এবং রোগব্যাধি প্রতিরোধে স্বাস্থ্যসেবা জোরদার করার বিষয়েও একমত হয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

সভায় আরও সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় যে, এলজিইডি’র আওতাধীন ক্ষতিগ্রস্ত সড়কগুলো দ্রুত সংস্কার করা হবে। একই সঙ্গে সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তর এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের আওতাধীন মহাসড়ক ও গুরুত্বপূর্ণ সড়ক যোগাযোগ দ্রুত পুনরুদ্ধারে প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।