
শিক্ষার্থীদের আন্দোলন ছেড়ে পড়ার টেবিলে ফিরে যাওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন। মঙ্গলবার জাতীয় সংসদে প্রশ্নোত্তর পর্বে সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ আহ্বান জানান। একই সঙ্গে চলতি বছরের এইচএসসি পরীক্ষার প্রশ্নপত্রে থাকা ত্রুটির বিষয়েও তিনি ব্যাখ্যা দিয়েছেন।
শিক্ষামন্ত্রী বলেন, বর্তমান সরকার দায়িত্ব নেওয়ার মাত্র চার মাস আগে। কিন্তু এইচএসসি পরীক্ষার প্রশ্নপত্র প্রণয়ন ও মডারেশনের কাজ প্রায় দুই বছর আগেই শুরু হয়েছিল। ফলে এবারের প্রশ্নপত্র আগের সরকারের সময়ে দায়িত্বপ্রাপ্ত কমিটির মাধ্যমেই প্রস্তুত করা হয়েছে। বিশেষ করে সোমবার অনুষ্ঠিত পদার্থবিজ্ঞান পরীক্ষার ৬ ও ৭ নম্বর প্রশ্নে ত্রুটি ছিল বলে তিনি উল্লেখ করেন।
দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার মধ্যে পরীক্ষা পরিচালনা প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, সরকার সার্বক্ষণিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে। তিনি স্পিকারকে জানান, বৃষ্টির মৌসুমে পরীক্ষা নেওয়া নিয়ে সরকার উদ্বিগ্ন এবং নিয়মিত মনিটরিং করছে। কোথাও পরীক্ষা কেন্দ্রে পানি উঠলে স্থানীয় প্রশাসনকে কেন্দ্র পরিবর্তনের ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে। কুমিল্লা সরকারি কলেজ কেন্দ্রে মাঠে পানি জমার বিষয়টি বড় সমস্যা ছিল, যেখানে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
শিক্ষার্থীদের সুবিধার বিষয়টি সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে জানিয়ে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ক্ষতিগ্রস্ত শিক্ষার্থীদের বিষয়টি সমাধান করা সরকারের জন্য কঠিন নয়। প্রয়োজনে স্থগিত হওয়া পরীক্ষাগুলো পুনরায় নেওয়া হবে এবং অতিরিক্ত প্রশ্নপত্রও মজুদ রয়েছে। প্রশাসনের কোনো দুর্বলতার কারণে যদি কোনো শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নিতে না পারে, তবে যাচাই-বাছাই করে তাদের জন্য পুনরায় পরীক্ষার ব্যবস্থা করা হবে, যেমনটি চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডে করা হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, যেসব কেন্দ্রে ভুল-ত্রুটি হয়েছে, সেখানে পুনঃপরীক্ষা নেওয়ার সুযোগ রয়েছে। শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ নিয়ে সরকার অত্যন্ত সংবেদনশীল এবং তাদের কোনোভাবেই বঞ্চিত করা হবে না। জেলা প্রশাসক, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও পুলিশ প্রশাসনকে দুর্যোগের কারণে পরীক্ষা গ্রহণে সমস্যা হলে তাৎক্ষণিক সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে। পরিশেষে তিনি আবারও শিক্ষার্থীদের পড়ার টেবিলে ফেরার অনুরোধ জানিয়ে বলেন, শিক্ষার্থীদের চেয়ে সরকারই তাদের পরীক্ষা নিয়ে বেশি উদ্বিগ্ন।
আপনার মতামত লিখুন :