Facebook Twitter Instagram YouTube

শাল্লায় ফ্যামিলি কার্ড শুমারিতে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের নিয়োগের অভিযোগ


প্রকাশের সময় : আগস্ট ১৪, ২০২৬, ১১:৪২ অপরাহ্ণ /
শাল্লায় ফ্যামিলি কার্ড শুমারিতে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের নিয়োগের অভিযোগ

সুনামগঞ্জের শাল্লা উপজেলায় ফ্যামিলি কার্ড শুমারির জন্য তথ্য সংগ্রহকারী ও সুপারভাইজার নিয়োগ প্রক্রিয়া নিয়ে ব্যাপক বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। অভিযোগ উঠেছে যে, এই নিয়োগ তালিকায় নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের আধিপত্য রয়েছে। এছাড়া, কোনো ধরনের পরীক্ষা ছাড়াই ছাত্রলীগের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কর্মীকে তথ্য সংগ্রহকারী হিসেবে নিয়োগ দেওয়ার অভিযোগ করেছেন নিয়োগবঞ্চিতরা, যা স্থানীয়দের মধ্যে তীব্র উত্তেজনা তৈরি করেছে।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, উপজেলার আটগাঁও ইউনিয়নের বাজারকান্দি গ্রামের বাসিন্দা সৌরভ সমাজপতিকে তথ্য সংগ্রহকারী হিসেবে চূড়ান্ত নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। সোমেশ সমাজপতির ছেলে সৌরভ দীর্ঘদিন ধরে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের রাজনীতির সঙ্গে সক্রিয়ভাবে জড়িত ছিলেন। এছাড়া গত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সময় ‘নো ভোট’-এর পক্ষে রাজনৈতিক মাঠে তার সক্রিয় থাকার অভিযোগ রয়েছে। একই পদে নিয়োগ পাওয়া উজ্জ্বল চৌধুরী, জুয়েল দাশ, তুহিন মিয়া এবং মাসুকুল ইসলামের বিরুদ্ধেও নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের রাজনীতির সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ রয়েছে।

নিয়োগবঞ্চিতদের অভিযোগ, উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক নিত্যানন্দ দাসের আপন ভাতিজার মেয়ে সিম্পন রানী দাসকে ক্ষমতার প্রভাব খাটিয়ে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। অন্যদিকে, সুপারভাইজার পদে নিয়োগের ক্ষেত্রে স্থানীয় বাসিন্দা হওয়ার শর্ত থাকলেও তা উপেক্ষা করে দিরাই উপজেলায় বিবাহিত পাম্পি রানী দাসকে অপেক্ষমাণ তালিকায় রাখা হয়েছে। এছাড়া তথ্য সংগ্রহকারী পদে অপেক্ষমাণ তালিকায় থাকা রাসেল রাহাতের বিরুদ্ধেও নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ রয়েছে।

নিয়োগবঞ্চিত প্রার্থী সুবেল আহমেদ শুভ দাবি করেছেন, মাসুকুল ইসলাম ভাইভা পরীক্ষায় উপস্থিত ছিলেন না এবং ভাইভা বোর্ডের সদস্যরা তাকে ডেকেও পাননি। তবুও চূড়ান্ত নিয়োগ তালিকায় তার নাম এসেছে। তিনি বলেন, “আমরা অনেকেই পরীক্ষা দিয়েছি, প্রয়োজনীয় যোগ্যতা থাকা সত্ত্বেও নিয়োগ দেওয়া হয়নি।” তিনি নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে পুনরায় যাচাই-বাছাইয়ের দাবি জানান। অপর পরীক্ষার্থী হাজিরুল ইসলাম বলেন, “আওয়ামী লীগকে পুনর্বাসনের প্রক্রিয়া চলছে।”

শাল্লা উপজেলা ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক রোমান আহমেদ এই অনিয়মের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে বলেন, সরকার ঘোষিত ফ্যামিলি কার্ড প্রদান কার্যক্রমকে বিতর্কিত করার লক্ষ্যেই হয়তো এমনটা করা হচ্ছে। তবে উপজেলা বিএনপির প্রথম যুগ্ম আহ্বায়ক মো. আব্দুল আওয়াল জানিয়েছেন, তার জানা মতে নিয়োগ পরীক্ষা হয়েছে, তবে অনিয়ম হয়ে থাকলে তা অত্যন্ত দুঃখজনক।

ফ্যামিলি কার্ড স্বেচ্ছাসেবী তথ্য সংগ্রহ কমিটির সভাপতি ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা পিয়াস চন্দ্র দাস বলেন, “সবার প্রোফাইল ঘাঁটাঘাঁটি করে নিয়োগ দেওয়া তো সম্ভব নয়। নিয়োগ পেয়েছে এমন লোক নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার বিষয়টি আমাদের নজরে আসেনি।” তিনি আরও জানান, কারও বিরুদ্ধে দেশবিরোধী কর্মকাণ্ডের সুনির্দিষ্ট তথ্য পাওয়া গেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তবে কমিটির সদস্যসচিব ও সমাজসেবা কর্মকর্তা বিশ্বপতি চক্রবর্তী এবং জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মিনহাজুর রহমানের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Daily Amar Desh