Facebook Twitter Instagram YouTube

দেশজুড়ে তীব্র গ্যাস সংকট: রান্নায় ভোগান্তি ও সিএনজি স্টেশনে হাহাকার


প্রকাশের সময় : আগস্ট ১৪, ২০২৬, ১১:৪০ অপরাহ্ণ /
দেশজুড়ে তীব্র গ্যাস সংকট: রান্নায় ভোগান্তি ও সিএনজি স্টেশনে হাহাকার

রাজধানী ঢাকাসহ সারা দেশে তীব্র গ্যাস সংকটে জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। এই সংকটের প্রভাব পড়েছে বাসাবাড়ি থেকে শুরু করে পরিবহণ খাত ও শিল্পপ্রতিষ্ঠানে। সিএনজিচালিত পরিবহণ চালকরা দিনের বেশির ভাগ সময় পার করছেন ফিলিং স্টেশনের সামনে লাইনে দাঁড়িয়ে। ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষার পর যে গ্যাস মিলছে, তা দিয়ে অটোরিকশা নিয়ে দুই ট্রিপ দেওয়াও কঠিন হয়ে পড়েছে। স্বল্পচাপের কারণে অনেক সিএনজি স্টেশন বন্ধ রাখতে বাধ্য হয়েছেন কর্তৃপক্ষ।

মিরপুরের গাবতলী, কল্যাণপুর, কালশী, কাজীপড়া ও শেওড়াপাড়া এলাকার সিএনজি স্টেশনগুলোতে দীর্ঘ লাইন চোখে পড়েছে। গাবতলীর মোহনা ফিলিং স্টেশনে অপেক্ষমাণ প্রাইভেটকার চালক খলিল জানান, গভীর রাতে সামান্য গ্যাস পাওয়া গেলেও দিনে তা মেলা ভার। দেড় ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে প্রাপ্ত গ্যাস দিয়ে মাত্র দুটি ট্রিপ দেওয়া সম্ভব হয়েছে। ডেমরা এলাকার অবস্থাও একই, যেখানে পরিবহণ চালকদের ৪ ঘণ্টার বেশি অপেক্ষায় থাকতে হচ্ছে। রাসেল ফিলিং অ্যান্ড সিএনজি স্টেশনের রেন্ট-এ-কার চালক মো. বশির হাওলাদার জানান, দীর্ঘ লাইনের কারণে যাত্রী নিয়ে গ্যাস নেওয়া অসম্ভব হয়ে পড়েছে, যা তার আয়ের ওপর মারাত্মক প্রভাব ফেলছে।

সবুজবাগ, মুগদা, মানিকনগর, খিলগাঁও, বনশ্রী ও হাজীপাড়া এলাকায় গ্যাসের চাপ সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমেছে। শান্ত ফিলিং স্টেশনে সকাল ৯টা থেকে দুপুর ২টা পর্যন্ত লাইনে দাঁড়িয়েও সিরিয়াল না পাওয়ার কথা জানান চালক কবির হোসেন। তিনি অভিযোগ করেন, গ্যাস না পেলেও মালিককে প্রতিদিন ১ হাজার ২০০ টাকা জমা দিতে হয়। উত্তরায়ও একই চিত্র; খন্দকার ফিলিং স্টেশনের ম্যানেজার কামাল আহমেদ জানান, গ্যাসের চাপ কম থাকায় বড় লাইন তৈরি হচ্ছে, যা সমাধানে তাদের কিছু করার নেই। সিএনজিচালক জসিম জানান, রাত থেকে লাইনে দাঁড়িয়েও গ্যাস না পাওয়ায় সংসার ও সন্তানের স্কুলের বেতন দেওয়া নিয়ে তিনি মানসিক চাপে রয়েছেন।

বাসাবাড়িতেও গ্যাস সংকট চরমে পৌঁছেছে। অনেক এলাকায় দিনের বেশির ভাগ সময় চুলা জ্বলছে না। বাধ্য হয়ে পরিবারগুলো সিলিন্ডার গ্যাস ও বৈদ্যুতিক চুলা ব্যবহার করছে, অনেকে হোটেলের খাবারের ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়েছেন। উত্তরা ৬ নম্বর সেক্টরের বাসিন্দা জাহানারা বেগম জানান, গত তিন দিন ধরে গ্যাস নেই বললেই চলে। স্কুলশিক্ষিকা আমেনা বেগম জানান, গ্যাস না থাকায় স্কুলের ডে-কেয়ারে রান্না বন্ধ রাখতে হয়েছে এবং এলপিজি গ্যাসও সহজে পাওয়া যাচ্ছে না। এই সংকটের ফলে দেশের শিল্পপ্রতিষ্ঠানে উৎপাদন বন্ধের উপক্রম হয়েছে এবং ব্যবসা-বাণিজ্য স্থবির হয়ে পড়েছে।

কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Jugantor