
পাকিস্তানের বিরুদ্ধে ভারতের সামরিক অভিযান 'অপারেশন সিঁদুর' নিয়ে প্রথমবারের মতো প্রকাশ্যে মুখ খুলেছেন ভারতের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত দোভাল। ডিসকভারির আসন্ন দুই পর্বের প্রামাণ্যচিত্র ‘ডিক্লাসিফায়েড: অপারেশন সিঁদুর’-এ তিনি স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন, ভারতের সহনশীলতা ও সংযমকে যেন কেউ দুর্বলতা হিসেবে ভুল না করে। জাতীয় স্বার্থ ও নাগরিকরা হুমকির মুখে পড়লে ভারত যে কোনো ঝুঁকি নিতে এবং কঠোর আঘাত হানতে প্রস্তুত রয়েছে।
প্রামাণ্যচিত্রটিতে ৮৮ ঘণ্টার এই সামরিক অভিযান পরিচালনার পরিকল্পনা ও বাস্তবায়নের সঙ্গে সরাসরি জড়িত জ্যেষ্ঠ সামরিক ও জাতীয় নিরাপত্তা কর্মকর্তাদের বক্তব্য তুলে ধরা হয়েছে। পিটিআইয়ের তথ্য অনুযায়ী, দোভাল জানিয়েছেন যে অপারেশন সিঁদুরের মূল লক্ষ্য ছিল শত্রুপক্ষের ঘাঁটিগুলো ধ্বংস করা, বিশেষ করে যারা ২০২৫ সালের এপ্রিলের পাহেলগাম সন্ত্রাসী হামলার সঙ্গে জড়িত ছিল। পাহেলগামে ওই হামলায় ২৬ জন বেসামরিক নাগরিক নিহত হওয়ার পর ভারত এই সামরিক সিদ্ধান্ত নেয়।
ভারতের এই বার্তার মূল উদ্দেশ্য ছিল বিশ্বকে জানানো যে, ভারত তার সহনশীলতা ও শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানের নীতিতে অটল থাকলেও জাতীয় নিরাপত্তার প্রশ্নে আপসহীন। দোভালের ভাষায়, ভারত কঠোর আঘাত হানতে পারে এবং এর পরিণতি যা-ই হোক না কেন, তা মোকাবিলা করতে দেশটি প্রস্তুত।
২০২৫ সালের ৭ মে ভোরে ভারত পাকিস্তান ও পাকিস্তান-অধিকৃত জম্মু ও কাশ্মীরে সন্ত্রাসী অবকাঠামো লক্ষ্য করে অভিযান শুরু করে। এরপর পাকিস্তানও পাল্টা পদক্ষেপ নিলে দুই পারমাণবিক শক্তিধর দেশের মধ্যে সংঘাত ছড়িয়ে পড়ে। প্রায় ৮৮ ঘণ্টা স্থায়ী এই সংঘাতের অবসান ঘটে ১০ মে উভয় দেশের মধ্যে সমঝোতার মাধ্যমে। প্রামাণ্যচিত্রটিতে অভিযানের সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়া, কৌশলগত হিসাব-নিকাশ এবং বিভিন্ন চ্যালেঞ্জের বিস্তারিত বর্ণনা তুলে ধরা হবে।
আপনার মতামত লিখুন :