Facebook Twitter Instagram YouTube

ইতালিতে নিহত নোয়াখালীর বাবুল ও তার পরিবারের দাফন সম্পন্ন


প্রকাশের সময় : আগস্ট ১৪, ২০২৬, ১১:০৩ অপরাহ্ণ /
ইতালিতে নিহত নোয়াখালীর বাবুল ও তার পরিবারের দাফন সম্পন্ন

ইতালির রাজধানী রোমে নৃশংসভাবে হত্যাকাণ্ডের শিকার নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জের একই পরিবারের তিন সদস্যকে শেষ বিদায় জানানো হয়েছে। শুক্রবার (১৪ আগস্ট) বাদ মাগরিব উপজেলার চরকাঁকড়া ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের শিশু নিকেতন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে জানাজা শেষে তাদের পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়। নিহতরা হলেন চরকাঁকড়া ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা কামাল উদ্দিন বাবুল (৩৯), তার স্ত্রী (৩৮) এবং তাদের পাঁচ বছর বয়সী মেয়ে আরোয়া ইসলাম আরিশা।

নিহতদের মরদেহ শুক্রবার সকাল ৮টার দিকে হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছায়। সেখান থেকে স্বজনরা মরদেহগুলো গ্রামের বাড়িতে নিয়ে আসেন। এই হত্যাকাণ্ডে গুরুতর আহত পরিবারের একমাত্র সদস্য, বাবুলের ছেলে অয়ন, শুক্রবার বিকেলে দেশে ফিরে জানাজা ও দাফন প্রক্রিয়ায় অংশ নেন।

পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, গত ২৬ জুন রাতে রোমের পার্শ্ববর্তী ক্যাসালোত্তি এলাকার ভিয়া মন্তিলিওর একটি অ্যাপার্টমেন্টে ছুরিকাঘাতে বাবুল, তার স্ত্রী ও মেয়েকে হত্যা করা হয়। প্রতিবেশীদের কাছ থেকে খবর পেয়ে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে এবং গুরুতর আহত অবস্থায় অয়নকে উদ্ধার করে স্থানীয় জেমেলি পলিক্লিনিক হাসপাতালে ভর্তি করে। ঘটনার পর ১১ আগস্ট ইতালির স্থানীয় সময় সন্ধ্যা সাড়ে ৬টায় রোমের ক্যাসালোত্তি এলাকার পিয়াজ্জা ওর্মেয়ায় তাদের প্রথম জানাজা অনুষ্ঠিত হয়।

হত্যাকাণ্ডের ১ মাস ১৯ দিন পেরিয়ে গেলেও মূল অভিযুক্ত মো. শাহাদাত হোসেনকে (৪০) এখনো গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়নি। অভিযুক্ত শাহাদাত কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্যসচিব এবং চরকাঁকড়া ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের আবদুল আহাদের ছেলে। গত ২৭ জুন ইতালীয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী শাহাদাত হোসেনকে প্রধান সন্দেহভাজন উল্লেখ করে তার ছবি প্রকাশ করে এবং তাকে ধরিয়ে দিতে তথ্য চেয়ে বিজ্ঞপ্তি দেয়।

নিহত বাবুলের চাচাতো ভাই অ্যাডভোকেট ইউনুস জানান, বাবুল পাঁচ বোনের মধ্যে একমাত্র ভাই ছিলেন এবং সামাজিক কর্মকাণ্ডে সক্রিয় ছিলেন। অভিযুক্ত শাহাদাতকে এখনো আইনের আওতায় না আসায় স্বজনরা বিস্ময় প্রকাশ করেছেন। ইতালিয়ান পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে আলামত সংগ্রহ এবং জিজ্ঞাসাবাদের মাধ্যমে তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে।

নিহতের বাবা সিরাজুল ইসলাম জানান, এর আগে ২০২৫ সালের ২ জুলাই তাদের বাড়ির সামনে ‘লাল বাহিনী’ নামের একটি কথিত ডাকাত দলের নামে উড়ো চিঠি দিয়ে টাকা ও স্বর্ণালংকার দাবি করা হয়েছিল। দাবি না মানলে পরিবারের সদস্যদের হত্যার হুমকি দেওয়া হয়। এ বিষয়ে তিনি কোম্পানীগঞ্জ থানা ও স্থানীয় সেনা ক্যাম্পে অভিযোগও করেছিলেন। সিরাজুল ইসলাম বলেন, “আমার ছেলে দেশে ছুটিতে এসে কবরস্থানে মাটি ফেলেছে। সেখানেই তাকে স্ত্রী-সন্তানসহ দাফন দেওয়া হলো। আমার বুকটা ফেটে যাচ্ছে। আমি বিচার চাই।”

কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Daily Bangladesh