Facebook Twitter Instagram YouTube

প্রাথমিক শিক্ষাব্যবস্থায় আমূল পরিবর্তনের রূপরেখা দিলেন ববি হাজ্জাজ


প্রকাশের সময় : আগস্ট ১৬, ২০২৬, ৮:১৪ অপরাহ্ণ /
প্রাথমিক শিক্ষাব্যবস্থায় আমূল পরিবর্তনের রূপরেখা দিলেন ববি হাজ্জাজ

প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ জানিয়েছেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের স্বপ্ন ও নির্দেশনা অনুযায়ী প্রাথমিক শিক্ষাব্যবস্থায় আমূল পরিবর্তন আনতে সরকার সুপরিকল্পিতভাবে কাজ করছে। তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন যে, আগামী দুই থেকে তিন বছরের মধ্যেই দেশের প্রাথমিক শিক্ষা ব্যবস্থায় দৃশ্যমান ও গুণগত পরিবর্তন নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।

রোববার ময়মনসিংহ বিভাগের জাতীয় প্রাথমিক শিক্ষা অ্যাকাডেমির (নেপ) মিলনায়তনে ‘প্রাথমিক শিক্ষায় শ্রেণি কার্যক্রম পরিচালনা, মনিটরিং, জবাবদিহি ও স্থানীয় প্রশাসনের প্রতি পরিবর্তিত প্রত্যাশা’ শীর্ষক একটি প্রশিক্ষণ কর্মশালায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। এর আগে সিলেট বিভাগে এমন কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে এবং আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যে দেশের বাকি ছয়টি বিভাগেও পর্যায়ক্রমে এটি আয়োজন করা হবে বলে তিনি জানান।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, সরকারের প্রথম ১৮০ দিনের পরিকল্পনা বাস্তবায়নে প্রাথমিক শিক্ষা পরিবার উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি সাধন করেছে। বর্তমানে কারিকুলাম উন্নয়ন, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ, নতুন শিক্ষক নীতিমালা প্রণয়ন, মূল্যবোধভিত্তিক শিক্ষা, সাংস্কৃতিক ও ক্রীড়া শিক্ষা এবং প্রযুক্তিনির্ভর শিক্ষার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী কোনো শিশু যেন শ্রেণিকক্ষের বাইরে না থাকে, সে বিষয়ে স্পষ্ট নির্দেশনা দিয়েছেন। এই লক্ষ্য অর্জনে প্রতিটি শিক্ষার্থীর জন্য পুষ্টিকর মিড-ডে মিল, বিনামূল্যে ইউনিফর্ম, জুতা ও ব্যাগসহ প্রয়োজনীয় সহায়তা নিশ্চিত করা হচ্ছে।

অবকাঠামো উন্নয়নের ক্ষেত্রেও সরকারের আধুনিক পরিকল্পনার কথা তুলে ধরে ববি হাজ্জাজ বলেন, ভবন নির্মাণের পাশাপাশি প্রতিটি বিদ্যালয়কে নিরাপদ ও শিক্ষাবান্ধব আধুনিক পরিবেশে রূপান্তর করা হবে, যাতে এগুলো এলাকার ‘উজ্জ্বল নক্ষত্র’ হয়ে উঠতে পারে। আগামী ছয় মাসের লক্ষ্যমাত্রাগুলোও যথাযথভাবে বাস্তবায়নের ওপর তিনি জোর দেন। তিনি জানান, সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোকে সবার নিজের প্রতিষ্ঠান হিসেবে গড়ে তুলতে অভিভাবক, শিক্ষক ও স্থানীয় জনগণের সম্পৃক্ততা বাড়ানো হবে। এছাড়া স্কুল ফিডিং কার্যক্রমের ত্রুটিগুলো চিহ্নিত করে সরকার দ্রুত সমাধানের কাজ করছে। তিনি আরও বলেন, সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে চুরির ঘটনা ঘটছে, অথচ মসজিদে সাধারণত এমন ঘটনা দেখা যায় না। এর পেছনে বড় কারণ হলো মানুষ মসজিদকে নিজের প্রতিষ্ঠান মনে করে, কিন্তু সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়কে অনেকেই নিজের প্রতিষ্ঠান হিসেবে ধারণ করে না।

ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার বিষয়ে প্রতিমন্ত্রী জানান, আগামী কারিকুলামে ইংরেজি লিখিত পরীক্ষার পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের যোগাযোগ দক্ষতা যাচাইয়ে ‘স্পিকিং টেস্ট’ চালু করা হবে। তথ্য ব্যবস্থাপনা আধুনিকায়নে শিক্ষার্থীদের জন্য ইউনিক আইডিসহ একটি সমন্বিত আইটি ইকোসিস্টেম গড়ে তোলা হচ্ছে। এছাড়াও শিক্ষার্থীদের স্বাস্থ্য ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে স্কুল ভবনের ভেতরেই আধুনিক ‘ওয়াশ ব্লক’ নির্মাণের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তাদের সক্ষমতা নিশ্চিত করেই এসব পরিবর্তন বিদ্যালয় পর্যায়ে কার্যকর করা হবে বলে তিনি উল্লেখ করেন। কর্মশালায় সভাপতিত্ব করেন প্রাথমিক শিক্ষার বিভাগীয় উপপরিচালক এবং বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন নেপের মহাপরিচালক ফরিদ আহমেদ।

কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Dainik Amader Shomoy