Facebook Twitter Instagram YouTube

পার্বত্য চট্টগ্রামের দুর্গম এলাকায় শিক্ষার প্রসারে ই-লার্নিং উদ্যোগ


প্রকাশের সময় : আগস্ট ১৩, ২০২৬, ১২:৪০ অপরাহ্ণ /
পার্বত্য চট্টগ্রামের দুর্গম এলাকায় শিক্ষার প্রসারে ই-লার্নিং উদ্যোগ

দুর্গম পাহাড়ি জনপদে যোগাযোগ ব্যবস্থার সীমাবদ্ধতা এবং প্রয়োজনীয় অবকাঠামোর অভাবের কারণে সেখানকার শিক্ষার্থীরা দীর্ঘ সময় ধরে মূলধারার শিক্ষা থেকে বিচ্ছিন্ন ছিল। এই সংকট সমাধানে সরকার আধুনিক ই-লার্নিং পদ্ধতি ব্যবহারের উদ্যোগ নিয়েছে, যাতে পাহাড়ের শিশুদের কাছে শহরের অভিজ্ঞ শিক্ষকদের পাঠদান পৌঁছে দেওয়া সম্ভব হয়।

ই-লার্নিং বা ইলেকট্রনিক লার্নিংয়ের মাধ্যমে শিক্ষার্থী ও তরুণরা গণিত, বিজ্ঞান ও ইংরেজির মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো অনলাইনে শেখার সুযোগ পাচ্ছেন। পাশাপাশি তথ্যপ্রযুক্তি ও ফ্রিল্যান্সিং প্রশিক্ষণের মাধ্যমে তারা স্বাবলম্বী হওয়ার নতুন পথ খুঁজে পাচ্ছেন। পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, রাঙ্গামাটি, খাগড়াছড়ি ও বান্দরবান জেলায় নির্বাচিত ১২টি প্রাথমিক ও মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে গত জানুয়ারি মাসে এই ডিজিটাল শিক্ষাক্রম শুরু হয়েছে। পর্যায়ক্রমে মোট ১৪৯টি বিদ্যালয়ে এই কার্যক্রম বিস্তারের পরিকল্পনা রয়েছে।

মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মো. মনিরুল ইসলাম জানান, বর্তমানে তিন পার্বত্য জেলায় ৫৫০টি বিদ্যালয়ে টেলিভিশন ও মাল্টিমিডিয়া সংযোগ রয়েছে। দুর্গম এলাকায় ইন্টারনেটের সমস্যা সমাধানে স্টারলিংক বা সমজাতীয় স্যাটেলাইট প্রযুক্তির ব্যবহারের চিন্তাভাবনা চলছে। তিনি উল্লেখ করেন, ই-লার্নিং ব্যবস্থা পুরোপুরি চালু হলে নির্দিষ্ট শিক্ষকের ওপর নির্ভরতা কমে আসবে এবং অভিজ্ঞ শিক্ষকরা দূর থেকেও পাঠদান করতে পারবেন।

ই-লার্নিং প্ল্যাটফর্ম শিখোর সহপ্রতিষ্ঠাতা জিশান জাকারিয়া জানান, প্রযুক্তির ব্যবহারে মানুষের আত্মবিশ্বাস বাড়াতে তারা অভিভাবকদের নিয়ে নিয়মিত সেমিনার করছেন। ই-ক্যাবের অ্যাড-টেক স্ট্যান্ডিং কমিটির চেয়ারম্যান মনির হোসেনের মতে, এই পদ্ধতির একটি বড় সুবিধা হলো অভিভাবকরা সহজেই তাদের সন্তানের পড়াশোনার অগ্রগতি ও ফলাফল পর্যবেক্ষণ করতে পারেন।

তবে ইন্টারনেট সংযোগের সীমাবদ্ধতা, বিদ্যুৎ সংকট এবং অবকাঠামোগত ঘাটতি এখনও বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে রয়ে গেছে। স্থানীয় বাসিন্দারা মনে করেন, শিক্ষার পাশাপাশি এই অঞ্চলের অর্থনৈতিক সম্ভাবনা কাজে লাগাতে স্মার্ট কৃষি প্রযুক্তি ও উচ্চমূল্যের কৃষিপণ্য উৎপাদনেও গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন। যথাযথ ইন্টারনেট ও বিদ্যুৎ সুবিধা নিশ্চিত করা গেলে ই-লার্নিং পার্বত্য অঞ্চলের তরুণ প্রজন্মের জন্য একটি বৈষম্যহীন ও আধুনিক শিক্ষার সুযোগ তৈরি করতে পারে।

কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Daily Adin