Facebook Twitter Instagram YouTube

জনসমক্ষে ডিএফওকে ফোন করে রেঞ্জ কর্মকর্তা বদলির নির্দেশ দিলেন মন্ত্রী


প্রকাশের সময় : আগস্ট ১৬, ২০২৬, ১০:০৩ অপরাহ্ণ /
জনসমক্ষে ডিএফওকে ফোন করে রেঞ্জ কর্মকর্তা বদলির নির্দেশ দিলেন মন্ত্রী

টাঙ্গাইলের সখীপুরে বন বিভাগের একটি উচ্ছেদ অভিযানকে কেন্দ্র করে বহেড়াতৈল রেঞ্জ কর্মকর্তা এমরান আলীকে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে বদলি করার নির্দেশ দিয়েছেন স্থানীয় সংসদ সদস্য ও মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী আহমেদ আযম খান। রোববার বেলা দুইটার দিকে উপজেলার হলুদিয়াচালা বাজারে স্থানীয় বাসিন্দা, ভুক্তভোগী পরিবার, সংবাদকর্মী এবং বিএনপি নেতা-কর্মীদের উপস্থিতিতে টাঙ্গাইলের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা (ডিএফও) মো. নাজমুল আলমকে ফোন করে তিনি এই নির্দেশ দেন।

ফোনের লাউড স্পিকার চালু করে সবার সামনে ডিএফওকে মন্ত্রী বলেন, বহেড়াতৈল রেঞ্জের হলুদিয়াচালায় স্থানীয়দের একটি টিনের ঘর ছিল। রেঞ্জ কর্মকর্তা এমরান আলী দালালদের মাধ্যমে টাকা নিয়ে ওই ঘরটি তোলার অনুমতি দিয়েছিলেন। পরে ঘরটি সামান্য বড় করায় সেটি ভেঙে দেওয়া হয়। ডিএফওকে উদ্দেশ্য করে মন্ত্রী বলেন, ‘সবার আগে আপনি ২৪ ঘণ্টার মধ্যে এই এমরানকে এখান থেকে ট্রান্সফার করবেন। ২৪ ঘণ্টার মধ্যে করবেন—এটা আপনার কাছে আমার অনুরোধ।’

জনসমক্ষে ক্ষোভ প্রকাশ করে আহমেদ আযম খান আরও বলেন, ‘আমি যত দিন এমপি আছি, আমার এলাকার মানুষকে হয়রানি করতে দেব না।’ বন বিভাগের কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ এনে তিনি বলেন, ‘টাকা দিলে ঘর দিতে দেয়, বিল্ডিংও দিতে দেয়। টাকা না দিলে সঙ্গে সঙ্গে মামলা দিয়ে দেয়।’

তবে নিজের বিরুদ্ধে ওঠা ঘুষ ও দুর্নীতির এই অভিযোগকে ‘সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন ও কল্পনাপ্রসূত’ বলে দাবি করেছেন রেঞ্জ কর্মকর্তা এমরান আলী। মুঠোফোনে তিনি জানান, তিনি কেবল ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশ তামিল করেছেন। ঘর ভাঙার এই অভিযানে নেতৃত্ব দিয়েছেন টাঙ্গাইলের সহকারী বন সংরক্ষক রানা দেব এবং তাঁর দল কেবল সেখানে সহযোগিতা করেছে। রেঞ্জ কর্মকর্তা বলেন, ‘এখানে আমার ব্যক্তিগত কোনো স্বার্থ নেই। আমি যেখানেই যাব, বন রক্ষায় কাজ করব।’ অন্যদিকে, এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে টাঙ্গাইলের ডিএফও মো. নাজমুল আলমের মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি কল ধরেননি।

উল্লেখ্য, গত ৯ আগস্ট ভোরে বহেড়াতৈল ইউনিয়নের হলুদিয়াচালা বাজারে স্থানীয় বাসিন্দাদের তৈরি করা প্রায় ৬০ হাত দীর্ঘ একটি টিনের ঘর ভেঙে দেয় বন বিভাগ। স্থানীয় লোকজনের দাবি, রেজিস্ট্রি দলিলের সূত্রে তাঁরা ওই জমির মালিকানা পেয়েছেন। তবে বন বিভাগের দাবি, জমিটি সংরক্ষিত বনের আওতাভুক্ত। আটিয়া বন-৮২ অধ্যাদেশকে কেন্দ্র করে সখীপুরের বিভিন্ন এলাকায় জমির মালিকানা নিয়ে বন বিভাগ ও স্থানীয়দের মধ্যে দীর্ঘদিনের বিরোধ রয়েছে। সেই বিরোধের জেরেই হলুদিয়াচালা বাজারের ঘরটি ভাঙা হয়েছে বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।

কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Prothom Alo