
নারীদের শিক্ষার সুযোগ আরও সম্প্রসারিত করতে সরকার উচ্চশিক্ষার ক্ষেত্রে বড় ধরনের উদ্যোগ নিয়েছে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জানিয়েছেন, এখন থেকে নারীদের অনার্স পর্যন্ত শিক্ষা কার্যক্রম সম্পূর্ণ বিনামূল্যে করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এই উদ্যোগের আওতায় শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার সব খরচ সরকার বহন করবে।
প্রধানমন্ত্রী আরও জানান, যে সব নারী শিক্ষার্থী পরীক্ষায় ভালো ফলাফল করবেন, তাদের জন্য বিশেষ বৃত্তির ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে। তিনি বলেন, দেশের মোট জনসংখ্যার অর্ধেক নারী। এই নারী সমাজকে পিছিয়ে রেখে দেশকে সামনের দিকে এগিয়ে নেওয়া সম্ভব নয়। তাই তাদের শিক্ষায় উৎসাহিত করতে বর্তমান সরকার এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
স্মরণ করিয়ে দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, অতীতে দেশনেত্রী খালেদা জিয়া যখন দেশ পরিচালনার দায়িত্বে ছিলেন, তখন নারীদের শিক্ষা ইন্টারমিডিয়েট পর্যন্ত অবৈতনিক করা হয়েছিল। সেই ধারাবাহিকতায় বর্তমান সরকার অনার্স পর্যন্ত শিক্ষা ফ্রি করে দেওয়ার ঘোষণা দিচ্ছে। তিনি উপস্থিত নারী শিক্ষার্থীদের মনোযোগ দিয়ে পড়াশোনা করার আহ্বান জানান, যেন ভবিষ্যতে তারা দেশের হাল ধরতে পারে।
শিক্ষার পাশাপাশি শিশুদের জন্য নতুন উদ্যোগের কথাও তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি জানান, দেশের বিভিন্ন প্রাথমিক বিদ্যালয়ের গরিব পরিবারের শিশুদের বছরে একবার স্কুল ড্রেস দেওয়া হবে। এছাড়া প্রায় এক কোটি ২০ লাখ শিশুর হাতে নতুন স্কুল ব্যাগ পৌঁছে দেওয়ার পরিকল্পনাও সরকারের রয়েছে। প্রতিবছর নতুন বইয়ের পাশাপাশি এই সহায়তা ঘরে ঘরে পৌঁছে দেওয়া হবে।
নারীদের স্বাবলম্বী করার বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, শিক্ষায় এগিয়ে নেওয়ার পাশাপাশি তাদের অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী করে গড়ে তোলাও সরকারের লক্ষ্য। নির্বাচনের আগে দেওয়া প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী, যেসব পরিবার নারী প্রধান, তাদের হাতে ফ্যামিলি কার্ড পৌঁছে দেওয়ার কার্যক্রম শুরু হয়েছে। আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে পর্যায়ক্রমে দেশের প্রতিটি ঘরে এই কার্ড পৌঁছে দেওয়ার আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।
আপনার মতামত লিখুন :