Facebook Twitter Instagram YouTube

আসিফ মাহমুদের সময়ের নিয়োগ-বদলির নথি চেয়ে মন্ত্রণালয়ে দুদকের চিঠি


প্রকাশের সময় : সেপ্টেম্বর ৩, ২০২৬, ৮:৩২ অপরাহ্ণ /
আসিফ মাহমুদের সময়ের নিয়োগ-বদলির নথি চেয়ে মন্ত্রণালয়ে দুদকের চিঠি

অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সাবেক উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়ার দায়িত্বকালীন সময়ে যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ে সম্পন্ন হওয়া বিভিন্ন নিয়োগ, পদোন্নতি ও বদলিতে অনিয়মের অভিযোগ অনুসন্ধানে নেমেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। এই অনুসন্ধানের অংশ হিসেবে মন্ত্রণালয়ের কাছে চার ধরনের গুরুত্বপূর্ণ নথিপত্র তলব করেছে সংস্থাটি।

গত বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের সচিবের কাছে এই সংক্রান্ত একটি চিঠি পাঠানো হয়েছে। দুদকের অনুসন্ধান কর্মকর্তা ও উপপরিচালক মো. জাহিদ কালামের স্বাক্ষর করা ওই চিঠিতে আগামী ১০ সেপ্টেম্বরের মধ্যে প্রয়োজনীয় নথিগুলো জমা দিতে বলা হয়েছে।

চিঠিতে সাবেক উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদের দায়িত্ব পালনকালে মন্ত্রণালয়ে হওয়া সব ধরনের নিয়োগ, পদোন্নতি ও বদলি-সংক্রান্ত নথিপত্র চাওয়া হয়েছে। এর পাশাপাশি জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের নির্দিষ্ট স্মারকের ভিত্তিতে বদলি-সংক্রান্ত সত্যায়িত অনুলিপি, ৩৮ জন উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তার চলতি দায়িত্ব প্রদান, বাতিল ও নতুন পদায়নের নথি এবং ঢাকা, ধামরাই, নরসিংদী, বগুড়া, বরিশাল ও পাবনায় কর্মরত নির্দিষ্ট সহকারী উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তাদের ব্যক্তিগত নথিও তলব করেছে দুদক।

এর আগে গত বুধবার আসিফ মাহমুদসহ যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের তৎকালীন সচিব মো. মাহবুব-উল-আলম, যুগ্মসচিব শেখ মোহাম্মদ জোবায়েদ হোসেন এবং উপসচিব মো. মাসুম আহমেদের বিরুদ্ধে ওঠা দুর্নীতির অভিযোগ অনুসন্ধানের সিদ্ধান্ত নেয় দুদক। এই অভিযোগ খতিয়ে দেখতে উপপরিচালক জাহিদ কালামের নেতৃত্বে চার সদস্যের একটি অনুসন্ধান দল গঠন করা হয়েছে।

দুদকের কাছে জমা পড়া অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে, ৩৮ জন উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তার চলতি দায়িত্ব বাতিল করে নতুন পদায়নের ক্ষেত্রে ৭৬ লাখ টাকা লেনদেন হয়েছে। এছাড়া ১৫০ জন সহকারী উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তার পদোন্নতির জন্য দেড় কোটি টাকা এবং পছন্দের জায়গায় বদলি বা পদায়নের জন্য আরও প্রায় দুই কোটি টাকা ঘুষ নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। পাশাপাশি যুব উন্নয়নের বিভিন্ন কেনাকাটা ও দরপত্রেও অনিয়মের অভিযোগ আনা হয়েছে।

এদিকে নিজের বিরুদ্ধে ওঠা এসব অভিযোগ অস্বীকার করে গত বুধবার সংবাদ সম্মেলন করেছেন সাবেক উপদেষ্টা ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া। তিনি দাবি করেন, জেলা বা উপজেলা পর্যায়ের যুব উন্নয়ন কর্মকর্তাদের পদায়ন ও পদোন্নতিতে মন্ত্রীর কোনো অনুমোদনের প্রয়োজন হয় না; এই প্রক্রিয়াগুলো মূলত সচিবের মাধ্যমেই সম্পন্ন হয়ে থাকে। একই সঙ্গে অভিযোগের প্রকৃত সত্য উদ্‌ঘাটনের স্বার্থে যেকোনো প্রয়োজনীয় তথ্য ও নথি সরবরাহ করতে তিনি প্রস্তুত আছেন বলেও জানান।

দুদকের এই নথি তলবের মধ্য দিয়ে অভিযোগগুলোর প্রশাসনিক ও আর্থিক দিক খতিয়ে দেখার প্রক্রিয়াটি আরও এক ধাপ এগিয়ে গেল। মন্ত্রণালয় থেকে প্রয়োজনীয় নথিপত্র পাওয়ার পর সেগুলো যাচাই-বাছাই করে অভিযোগের সত্যতা এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের ভূমিকা নির্ধারণ করবে দুদকের অনুসন্ধান দল।

কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Daily Bangladesh