
শুক্রবার সিলেট এম এ জি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে এক অস্বাভাবিক দৃশ্য দেখা গেছে। সাধারণত নোংরা পরিবেশ, দালালদের দৌরাত্ম্য, নিম্নমানের খাবার এবং চিকিৎসকদের অনুপস্থিতির যে নিয়মিত চিত্র এই হাসপাতালে দেখা যায়, মন্ত্রীদের আগমনের খবরে তা সম্পূর্ণ বদলে যায়। স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ মন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন এবং বাণিজ্য, শিল্প, বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদিরের পরিদর্শনের কারণে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ তড়িঘড়ি করে পুরো পরিবেশ বদলে ফেলে। শুক্রবার সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, সিলেট ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেলা হাসপাতাল ও শহীদ ডা. শামসুদ্দিন আহমদ হাসপাতালে পরিদর্শনের সময় মন্ত্রী সরকারি হাসপাতালে শতভাগ চিকিৎসক উপস্থিতি ও সেবার মান বৃদ্ধিতে কাজ করার কথা জানান।
হাসপাতালের ক্যাজুয়ালিটি বিভাগে চিকিৎসাধীন ইয়াকুব আহমেদ জানান, বৃহস্পতিবার রাত পর্যন্ত কোনো বেডশিট দেওয়া হয়নি, কিন্তু শুক্রবার সকালে মন্ত্রী আসার আগে দ্রুত বেডশিট এনে দেওয়া হয়। তার স্ত্রী ফাতেমা বেগম বলেন, মন্ত্রীর চোখে ধুলো দিতেই সবাই সাধু সেজেছে, কারণ আগের পুরো সময় তারা ময়লা বিছানায় থাকতে বাধ্য হয়েছেন। একইভাবে জরুরি বিভাগের সামনে স্ট্রেচার ও হুইলচেয়ারের সংকট থাকলেও পরিদর্শনের সময় সেখানে বালিশ-বেডশিটসহ সব সরঞ্জাম সাজিয়ে রাখা হয়েছিল। সুনামগঞ্জ থেকে আসা জাহাঙ্গীর আহমদ এমন দৃশ্য আগে কখনো দেখেননি বলে মন্তব্য করেন।
শিশু ওয়ার্ডসহ হাসপাতালের বিভিন্ন স্থানে ব্যাপক ধোয়া-মোছার কাজ করা হয়েছে। এমনকি শুক্রবার ছুটির দিনেও ডাক্তার ও নার্সরা বারবার রোগীদের খবর নিয়েছেন এবং রোগীদের একদম গরম খাবার পরিবেশন করা হয়েছে। হাসপাতালের বাথরুমের অপরিচ্ছন্নতা নিয়ে রোগীদের অভিযোগ থাকলেও পরিদর্শনের সময় তা পরিষ্কার করতে দেখা গেছে পরিচ্ছন্নতা কর্মীদের।
পরিদর্শন শেষে স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বলেন, সীমাবদ্ধতা থাকলেও সরকারের ৬ মাসে দেশের সব হাসপাতালে সেবার মান আগের চেয়ে বেড়েছে। তিনি বলেন, ‘একটু সময় তো আমাদের দিবেন, ছয়টা মাস।’ দেশের স্বাস্থ্য খাতের জনবল সংকটের চিত্র তুলে ধরে মন্ত্রী বলেন, ‘বাংলাদেশে প্রতি ১১ থেকে ১২ হাজার মানুষের বিপরীতে মাত্র একজন ডাক্তার বা নার্স আছেন।’ মন্ত্রী আরও জানান, চলতি মাসের শেষদিকে দেশব্যাপী হামের বিশেষ টিকা ক্যাম্পেইন শুরু হচ্ছে। গত ১৭ বছরে ডিসেম্বর ২০২০ এর পর হামের কোনো ক্যাম্পেইন না হওয়ায় দেশে হামের সংক্রমণ বেড়েছে। গত ২০ এপ্রিল যখন টিকা ক্যাম্পেইন শুরু হয়েছিল, তখন যে শিশুরা ৫ মাসের নিচে ছিল তারা টিকা পায়নি। পরবর্তীতে তারা ৬ মাস পার করে টিকার উপযুক্ত হলেও নিয়মিত ক্যাম্পেইন না থাকায় টিকা ছাড়া থেকে গেছে।
হাসপাতাল দালালমুক্ত করার বিষয়ে মন্ত্রী বলেন, রোগীদের ভুল বুঝিয়ে ক্লিনিকে নিয়ে যাওয়া এক শ্রেণির দালালদের ধরতে র্যাব ও ডিজিএফআই কাজ করছে। জেলাগুলোতে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করে অবৈধ ক্লিনিক সিলগালা করা হচ্ছে। স্বাস্থ্য খাতের জনবল সংকট স্বীকার করে তিনি জানান, আগামী তিন মাসের মধ্যে ৪৩ হাজার ৩৯০ জনকে নিয়োগ দেওয়া হবে, যার মধ্যে সাড়ে ৭ হাজার নার্স ও আড়াই হাজার চিকিৎসক থাকবেন। নিয়োগপ্রাপ্তদের মধ্যে বিশেষত মিডওয়াইফ ও পরিচর্যাসেবা-সংশ্লিষ্ট পদগুলোতে ৮০ শতাংশ পদে নারীদের অগ্রাধিকার দেওয়া হবে।
পরিদর্শনকালে মন্ত্রীদের সঙ্গে ছিলেন সিসিক প্রশাসক আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী, সিলেট মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ডা. জিয়াউর রহমান চৌধুরী এবং ওসমানী হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল উমর রাশেদ মুনিরসহ সংশ্লিষ্টরা।
আপনার মতামত লিখুন :