
প্রেসিডেন্ট পদে বিএনপি’র প্রার্থী হিসেবে নাম ঘোষণার পর দলের মহাসচিব ও স্থায়ী কমিটির সদস্যপদ থেকে পদত্যাগ করেছেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। নির্বাচন কমিশনে যাচাই-বাছাইয়ে তার নাম চূড়ান্ত প্রার্থী হিসেবে ঘোষণার পরপরই তিনি স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব থেকেও পদত্যাগ করবেন বলে জানা গেছে।
আগামী ২০শে আগস্ট প্রেসিডেন্ট নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। এই প্রেক্ষাপটে মির্জা ফখরুলের ছেড়ে দেয়া মন্ত্রণালয়ে নতুন দায়িত্ব প্রদান এবং দলের মহাসচিব নিয়োগ নিয়ে নানা আলোচনা চলছে। দলীয় সূত্রে জানা গেছে, আগামী ১৭ই আগস্ট বর্তমান বিএনপি সরকারের ছয় মাস পূর্ণ হচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সরকারের ১৮০ দিনের কর্মপরিকল্পনা ও মন্ত্রীদের কাজের মূল্যায়নের বার্তা দিয়েছিলেন। প্রেসিডেন্টের শপথের পর মন্ত্রিসভায় বড় ধরনের রদবদল হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এতে কিছু মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীর দপ্তর পরিবর্তন হতে পারে, এমনকি কেউ কেউ বাদও পড়তে পারেন।
দলের স্থায়ী কমিটির দুইজন সদস্য জানিয়েছেন, প্রেসিডেন্টের শপথের আগে মন্ত্রিসভায় কোনো রদবদল হবে না। শপথের পর ভারপ্রাপ্ত মহাসচিবের দায়িত্ব দেয়া হবে। তবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবেন প্রধানমন্ত্রী ও দলের চেয়ারম্যান তারেক রহমান। গতকাল সচিবালয়ে সিনিয়র নেতাদের বৈঠকে পরবর্তী মহাসচিব নিয়ে কোনো আলোচনা হয়নি, শুধুমাত্র প্রেসিডেন্ট প্রার্থীর ঘোষণা নিয়ে আলোচনা হয়েছে বলে জানিয়েছেন একজন হুইপ।
দলের ভেতরে নতুন মহাসচিব হিসেবে সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভীর নাম শোনা যাচ্ছে, যিনি ডিসেম্বরে জাতীয় কাউন্সিলের আগ পর্যন্ত ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব হিসেবে দায়িত্ব পেতে পারেন। অন্যদিকে, মির্জা ফখরুল স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব ছাড়লে সেখানে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদকে স্থলাভিষিক্ত করার সম্ভাবনা রয়েছে। সেক্ষেত্রে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানীকে দেয়া হতে পারে, যা পানিসম্পদ মন্ত্রণালয় শূন্য করবে। পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ে গয়েশ্বর চন্দ্র রায়ের নাম আলোচনায় রয়েছে। গত ১২ই ফেব্রুয়ারি ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে বিএনপি নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে জয়ী হওয়ার পর ১৭ই ফেব্রুয়ারি তারেক রহমানের নেতৃত্বে বর্তমান সরকার গঠিত হয়, যেখানে ২৪ জন মন্ত্রী, ২৩ জন প্রতিমন্ত্রী এবং ১০ জন উপদেষ্টা রয়েছেন।
আপনার মতামত লিখুন :