
সৌদি আরামকোর পাঠানো একটি এলএনজিবাহী কার্গোকে কেন্দ্র করে দেশে জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থায় ভয়াবহ বিপর্যয় দেখা দিয়েছে। মার্কিন কোম্পানি এক্সিলারেট এনার্জি জাহাজটিকে ‘পুরোনো ও ঝুঁকিপূর্ণ’ আখ্যা দিয়ে সামিটের ভাসমান টার্মিনালের মাধ্যমে এলএনজি খালাসে অস্বীকৃতি জানিয়েছে। ফলে গত তিন দিন ধরে কার্গোটি বহির্নোঙরে আটকে আছে।
এই কার্গো খালাস না হওয়ায় গ্যাসের সরবরাহ দৈনিক ১৮৮ কোটি ঘনফুটে নেমে এসেছে, যা গত ১০ বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন। এর ফলে শিল্পকারখানা, সিএনজি স্টেশন এবং বাসাবাড়িতে তীব্র গ্যাস সংকট দেখা দিয়েছে। পরিস্থিতি সামাল দিতে জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত বুধবার এক্সিলারেট এনার্জির উপদেষ্টা এবং সাবেক মার্কিন রাষ্ট্রদূত পিটার হাসের সঙ্গে বৈঠক করে খালাসের অনুরোধ জানিয়েছিলেন। তবে এক্সিলারেট কর্তৃপক্ষ নিরাপত্তার কারণ দেখিয়ে জানিয়েছে, এই কার্গো তাদের টার্মিনালের জন্য উপযুক্ত নয় এবং কোনো ঝুঁকি নেওয়া সম্ভব নয়।
এক্সিলারেট ও সামিটের কর্মকর্তাদের ভাষ্যমতে, তারা জাহাজটি যাচাই করে দেখেছেন যে এটি পুরোনো মডেলের এবং টার্মিনালের জন্য প্রযোজ্য নয়। এছাড়া নিয়মিত এলএনজি খালাসের জন্য যে কার্গোর তালিকা পেট্রোবাংলাকে দেওয়া হয়েছে, আরামকোর এই জাহাজটি তার অন্তর্ভুক্ত নয়। এ বিষয়ে এক্সিলারেট বা সামিট গ্রুপের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে আরপিজিসিএল-এর কর্মকর্তাদের দাবি, ২০২১ সালে ‘মারায়েহ’ নামে একই ধরনের কার্গো সফলভাবে খালাস করা হয়েছিল, যা এক্সিলারেটই পরিচালনা করেছিল।
বর্তমানে দেশে গ্যাস সরবরাহ ব্যবস্থা নাজুক অবস্থায় রয়েছে। গত ২১ জুলাই এক্সিলারেট এনার্জির টার্মিনালে অগ্নিকাণ্ডের পর সরবরাহ দৈনিক ২৬৫ কোটি থেকে কমে ২১০ কোটিতে নেমে আসে। ৫ আগস্ট আংশিক চালুর পর তা ২৩৫ কোটি ঘনফুটে কিছুটা বাড়লেও বর্তমান কার্গো বিতর্কের কারণে সরবরাহ তলানিতে ঠেকেছে।
পেট্রোবাংলা ও জ্বালানি বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, আগামী শনিবার বিটল এশিয়ার একটি এলএনজিবাহী কার্গো আসার কথা রয়েছে। সেটি সামিটের টার্মিনালে খালাসের সম্ভাবনা রয়েছে। এরপর এক্সিলারেট এনার্জির টার্মিনাল ২ থেকে ৩ দিনের জন্য বন্ধ রেখে মেরামতের পরিকল্পনা রয়েছে, যার ফলে গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক হতে অন্তত এক সপ্তাহ সময় লাগতে পারে। সরকার এখনো এক্সিলারেটকে বোঝানোর চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে যাতে দ্রুত আরামকোর কার্গোটি খালাস করা সম্ভব হয়।
আপনার মতামত লিখুন :